পুঁজিবাজারে দুই মাসে সর্বোচ্চ দরপতন

আপডেট : ১৮ জুলাই ২০২২, ১০:৪৪ পিএম

বিশ্ব পরিস্থিতির কারণে বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ নিরাপদ রাখতে সরকারের ব্যয় সংকোচন নীতি, বিদ্যুৎ-জ্বালানির অভাবে স্থানীয় কোম্পানিগুলোর উৎপাদন কমে যাওয়ার শঙ্কা, বিদেশিদের শেয়ার বিক্রি ও বাজার জুয়াড়িদের বেপরোয়া কারসাজিতে বিপর্যস্ত পুঁজিবাজার। গত কয়েক দিনের ধীরগতির পতনে এবার গতি এসেছে। ব্যাপক লোকসান ঠেকাতে বড় বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বিক্রির প্রভাব পড়েছে। প্রবল বিক্রিচাপে গতকাল দেশের পুঁজিবাজারে বড় দরপতন দেখা দিয়েছে। প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ৯৪ শতাংশের বেশি শেয়ার দর হারিয়েছে। এতে দুই মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ দরপতন হয়েছে। কমে গেছে লেনদেনের পরিমাণও।

দরপতনের সীমা ২ শতাংশের মধ্যে থাকার পরও বড় পতনে চিন্তিত বিনিয়োগকারীরা। ব্যাপক দরপতনের মুখে প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৮৭ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৩৮ শতাংশ হারিয়ে ৬২১৭ পয়েন্টের নিচে নেমেছে, যা গত ২৫ মের পর সর্বনিম্ন অবস্থান। গতকালের দরপতন গত ২২ মের পর সর্বোচ্চ। ওইদিন ডিএসইতে সূচকের পতন হয়েছিল ১১৫ পয়েন্ট।

পরিস্থিতি এতটাই বাজে অবস্থায় পৌঁছেছে যে, গতকাল ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৮২ শেয়ারের মধ্যে ২৭৫টি শেয়ারের কোনো ক্রেতা পাওয়া যায়নি। এসব শেয়ারের লেনদেন হয়েছে সার্কিট ব্রেকার নির্ধারিত সর্বনিম্ন দরে। দেশের অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) কেনাবেচা হওয়া ৮৭ শতাংশ শেয়ার দর হারিয়েছে। 

এদিকে পুঁজিবাজারের এমন মন্দা পরিস্থিতির মধ্যে ব্যাংকের বিনিয়োগ সীমা গণনায় পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগ বাজার মূল্যের পরিবর্তে ক্রয়মূল্যে বিবেচনার দীর্ঘদিনের দাবিটি অনুমোদনে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মতি চেয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগ ক্রয়মূল্যে বিবেচনার বিষয়টি অনুমোদন পেতে গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আবদুর রউফ তালুকদার অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছেন। একই সঙ্গে বন্ডে বিনিয়োগও পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগ পত্রকোষের বাইরে রাখার প্রস্তাবটিও বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছেন গভর্নর। 

গতকালের খাতওয়ারি লেনদেন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ক্রেতা সংকটে প্রতিটি খাতেরই প্রায় সব শেয়ারের দরপতন হয়েছে। ২০ খাতের মধ্যে ১২টির কোনো শেয়ারের দর বাড়েনি। দুটি বাদে বাকি ১৮ খাতের প্রতিটির গড়ে ১ থেকে প্রায় ২ শতাংশ দরপতন হয়েছে। লেনদেন নেমেছে ৫১৫ কোটি টাকায়।

তবে মূল বাজারের চেয়ে আরও খারাপ অবস্থা স্বল্প মূলধনী কোম্পানির বাজার এসএমই বোর্ডের। রবিবার এ বাজারের ১৩ কোম্পানির সব শেয়ারের দরপতনে সূচক প্রায় ৭ শতাংশ কমেছিল। গতকাল ১২ শেয়ারের দরপতন হয়েছে। এতে এ বাজারের ডিএসএমইএক্স সূচকের পতন হয়েছে প্রায় ১৯০ পয়েন্ট বা ৯ দশমিক ৬৬ শতাংশ। টানা দুই দিনে এ সূচকের পতন হয়েছে ১৫ শতাংশ।

পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গতকাল মূল বাজারের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের তালিকাভুক্ত ২৩ কোম্পানির সবগুলোর দরপতন হয়েছে। গড়ে এ খাতের দরপতন হয়েছে দেড় শতাংশ। মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা বাঁচাতে জ্বালানি তেলের আমদানি কমানোর লক্ষ্যে ডিজেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রেখে দেশব্যাপী লোডশেডিং করা এবং পেট্রোল পাম্প বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এটি পুঁজিবাজারের দরপতনের একটি বড় কারণ হতে পারে বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অনারারি অধ্যাপক আবু আহমেদ। তিনি বলেন, সরকারের এ সিদ্ধান্তে অর্থনীতি নিয়ে মানুষের মধ্যে সন্দেহ ও শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর প্রভাব পুঁজিবাজারে পড়া অমূলক নয়। এর বাইরে ৪-৫ লাখ বিও অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যাওয়াও একটি কারণ বলে মনে করেন এ পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত