শ্রীলঙ্কা সংকট

প্রেসিডেন্ট পদের লড়াই থেকে সরে দাঁড়ালেন সাজিথ

আপডেট : ২০ জুলাই ২০২২, ০২:১৫ এএম

শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট পদের লড়াই থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন দেশটির বিরোধীদলীয় নেতা সাজিথ প্রেমাদাসা। প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে প্রেসিডেন্ট পদে দুল্লাস আলাহাপ্পেরুমাকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন তিনি।

মাত্র এক সপ্তাহ আগে সংকটাপন্ন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন এই বিরোধী নেতা। অথচ নির্বাচনের ঠিক আগের দিন নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিলেন তিনি। শ্রীলঙ্কান গণমাধ্যম কলম্বো পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গতকাল মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট পদের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত প্রথমে টুইটারে জানান সামাগি জানা বালাভিগায়া (এসজেবি) প্রধান সাজিথ। এরপর তার এই সিদ্ধান্ত দেশটির পার্লামেন্টেও জানিয়ে দেন।

নিজের প্রার্থিতা সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানানো টুইটে সাজিথ লিখেছেন, ‘আমার ভালবাসার দেশ ও হৃদয়ে লালিত এর মানুষদের বৃহত্তর কল্যাণের স্বার্থে আমি প্রেসিডেন্ট পদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করছি। এসজেবি এবং আমাদের জোট ও বিরোধী নেতারা দুল্লাস আলাহাপ্পেরুমাকে জেতাতে জোর চেষ্টা করব।’

সাজিথের এই সিদ্ধান্তের পর শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে চূড়ান্ত প্রার্থিতার তালিকায় আছেন ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ও ইউনাইটেড ন্যাশনাল পার্টির (ইউএনপি) রনিল বিক্রমাসিংহে, ন্যাশনাল পিপলস পাওয়ারের (এনপিপি) নেতা অনুরা কুমারা দেশনায়েকে এবং ক্ষমতাসীন দল শ্রীলঙ্কা পোদুজানা পেরামুনার (এসএলপিপি) সংসদ সদস্য দুল্লাস আলাহাপ্পেরুমা।

গত ১২ জুলাই বিশ্ব গণমাধ্যমে সাজিথ প্রেমাদাসার প্রেসিডেন্ট পদে লড়ার খবর প্রকাশিত হয়। তখন বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, শ্রীলঙ্কা সংকটের কোনো দ্রুত সমাধান নেই। ২০১৯ সালের আগের অবস্থায় অর্থনীতিকে নিয়ে আসতে চার থেকে পাঁচ বছর লাগবে। 

এদিকে নির্বাচনের আগের দিন ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ও বুধবার হতে যাওয়া প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রার্থী রনিল বিক্রমাসিংহের বক্তব্য তুলে ধরে একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী গণমাধ্যম সিএনএন। এই প্রতিবেদনে বিক্রমাসিংহে অভিযোগ করেন, দেশ যে অর্থনৈতিকভাবে কতটা ভেঙে পড়েছে সেটা শ্রীলঙ্কার সাবেক প্রশাসন প্রকাশ করেনি, প্রকৃত অবস্থা গোপন করেছে।

তিনি বলেন, ‘সাবেক প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসের সরকার সত্য বলেনি, শ্রীলঙ্কা যে দেউলিয়া হয়ে গেছে এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছে যেতে হয়েছে এসব তারা বলেনি।’

দেশ থেকে পালানোর আগে রনিল বিক্রমাসিংহেকে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব দিয়ে গিয়েছিলেন গোতাবায়া।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত