নারায়ণগঞ্জে এক শিক্ষককে হাতুড়ি ও বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে তার ভাড়া বাসার মালিক ও স্বজনরা। গত বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে নগরীর আমলাপাড়ার কেবি সাহা সড়কে নিজের বাসায় এ হামলার শিকার হন নারায়ণগঞ্জ হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের জনপ্রিয় শিক্ষক মশিউর রহমান। তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী এবং আহত শিক্ষক মশিউর রহমানের স্বজনরা জানান, আমলাপাড়ার ৪৬/১০ কেবি সাহা সড়কের পাপ্পুর বাড়ির দোতলার একটি ফ্ল্যাটে দুই বছর ধরে ভাড়া থাকেন শিক্ষক মশিউর রহমান। তিনি ওই ফ্ল্যাটের একটি কক্ষে ছাত্রদের ব্যাচ করে প্রাইভেট পড়ান। গত বুধবার দুপুরে ওই কক্ষে বসে ছিলেন শিক্ষক মশিউর। এ সময় বাড়ির মালিকের ছোট ভাই এহসানুল আলম খান অপু সেখানে যান। তিনি কোনো কারণ ছাড়াই শিক্ষক মশিউরকে বাসা ছেড়ে দিতে বলে বিভিন্ন হুমকি-ধমকি দেন। তখন ভয়ে শিক্ষক মশিউর বাসার বাইরে চলে যান। পরে রাত ৯টার পর বাসায় ফিরলে তাকে বাড়িটির চারতলায় ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে শিক্ষক মশিউরকে লোহার হাতুড়ি ও বাঁশ দিয়ে পেটাতে থাকে অপু। একপর্যায়ে শিক্ষক মশিউরের মাথায় আঘাত করলে তার মাথা ফেটে যায়। তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকেন। পরে রুমমেট আইডিয়াল স্কুলের শিক্ষক শাহজাহান সেখান থেকে উদ্ধার করে মশিউরকে খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে যান। ওই হাসপাতালে তার মাথার ক্ষতস্থানে সাতটি সেলাই দেওয়া হয়। পরে পরিস্থিতির অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় শিক্ষক মশিউরকে।
এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে নারায়ণগঞ্জ হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডির সদস্য আবদুস সালাম, ওয়াহিদ সা’দত বাবু ও সরকার আলম শিক্ষক মশিউর রহমানের ওপর হামলার বিষয়টি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোস্তাফিজুর রহমান এবং সদর মডেল থানার ওসি আনিচুর রহমানকে অবহিত করেন। পুলিশ কর্মকর্তারা তাদের থানায় গিয়ে মামলা করার পরামর্শ দেন। পরে গভর্নিং বডির তিন সদস্য সদর মডেল থানায় গিয়ে অপুর বিরুদ্ধে মামলা করেন।
নারায়ণগঞ্জ হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডির সদস্য আবদুস সালাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘একটি সন্ত্রাসী মহল শিক্ষক মশিউর রহমানকে হত্যার প্রচেষ্টা চালায়। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মশিউর রহমান একা ওই বাসায় অবস্থান করত। নিরাপত্তার কারণে তাকে ঢাকায় চিকিৎসা করানো হচ্ছে।’
সদর থানার ওসি আনিচুর রহমান মোল্লা বলেন, ‘শিক্ষক মশিউর রহমানের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা নেওয়া হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে।’
