চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার দক্ষিণ সরেঙ্গা গ্রামে সাপমারা খালের ওপর থাকা বাঁশের সাঁকোটি সম্প্রতি ভেঙে পড়েছে। এ কারণে রায়পুর ও পাশ্ববর্তী জুঁইদণ্ডী ইউনিয়নের প্রায় ২০ হাজার মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
সাপমারা খালটি রায়পুর ইউনিয়নের সরেঙ্গা গ্রাম ও জুঁইদণ্ডী ইউনিয়নের খুরুসকুল গ্রামের মাঝখানে অবস্থিত। খালের দুই পারে দুই ইউনিয়নের ৪ গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষের বসবাস। সাপমারা খালের ওপর সাঁকোটি ভেঙে পড়ায় সবাই দুর্ভোগে পড়েছে।
সরেঙ্গা গ্রামের বাসিন্দারা জানান, সাপমারা খালে প্রতিবছর গ্রামবাসীর চাঁদার টাকায় একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়। সাঁকোটি দিয়ে শুকনো মৌসুমে মানুষ চলাচল করে। বর্ষাকালে খালে পানি বাড়লে সাঁকো দিয়ে চলাচল করা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। তখন নৌকা দিয়ে মানুষ চলাচল করে অথবা প্রায় ৮ কিলোমিটার পথ ঘুরে বিকল্প পথে মানুষ যাতায়াত করে। সম্প্রতি গ্রামবাসীর চাঁদার টাকায় নির্মাণ করা বাঁশের সাঁকোটি ভেঙে পড়েছে। এ কারণে ওই সাঁকো দিয়ে পারাপার একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে। এ অবস্থায় নৌকা দিয়ে পারাপার করছে মানুষ।
স্থানীয়রা জানান, সাপমারা খালটি শঙ্খনদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কর্ণফুলী নদীর মোহনায় গিয়ে মিশেছে। খালের পশ্চিম পারে রায়পুর ইউনিয়ন আর পূর্ব পারে জুঁইদণ্ডী ও বটতলী ইউনিয়ন। খালটিতে সেতু না থাকায় স্বাধীনতার পর থেকেই এসব এলাকার মানুষ সাঁকো নির্মাণ করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতো।
প্রতি বছরই বাঁশের সাঁকোটি নির্মাণে এলাকাবাসীর খরচ হয় দেড় থেকে দুই লাখ টাকা। সম্প্রতি সাঁকোটি ভেঙে পড়ায় আবারও পারাপার ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ছোট একটি নৌকায় করে প্রতিদিন শত শত মানুষকে খাল পারাপার করতে হচ্ছে। এতে খালের দুই পারের মানুষকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিরা নৌকার জন্য অপেক্ষা করে ক্লান্ত হয়ে পড়ে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম বলেন, প্রতিবছর গ্রামবাসীর চাঁদার টাকায় সাঁকোটি নির্মাণ করা হলেও বর্ষা এলেই পানির স্রোতে সাঁকোটি ভেঙে পড়ে। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি এখানে একটি পাকা সেতু নির্মাণের। সেতুটি নির্মাণ করা হলে মানুষ নিরাপদে খালটি পার হতে পারবে।
রায়পুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আমিন শরীফ বলেন, গ্রামবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে তিনি বেড়িবাঁধে সেতুর সংযোগ সড়ক করে দিয়েছেন। পাকা সেতুর জন্যও উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগে তিনি প্রস্তাব পাঠিয়েছেন। সাঁকোর জায়গায় একটি সেতু নির্মিত হওয়া অনেক বেশি জরুরি।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের (এলজিইডি) উপজেলা প্রকৌশলী তসলিমা জাহান বলেন, সাপমারা খালে সেতু নির্মাণের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন হয়ে এলে দ্রুত সময়ে সেতু নির্মাণের ব্যবস্থা করা হবে।
