ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে লালন শাহ হলে সিট দখলকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। গত শনিবার রাত ১২টা থেকে গতকাল রবিবার ভোর পর্যন্ত থেমে থেমে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরে প্রক্টরিয়াল বডি, পুলিশ ও ছাত্রলীগ নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের লালন শাহ হলের ৪০৩ নম্বর কক্ষের বৈধ সিটে থাকেন অর্থনীতি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ছাত্রলীগকর্মী শাকিল। ওই রুমে স্নাতকোত্তর শেষ বর্ষের আরও দুই শিক্ষার্থীর বৈধ সিট রয়েছে। কিন্তু অধিকাংশ সময় ওই দুই শিক্ষার্থী কক্ষের বাইরে অবস্থান করেন। ফলে ছাত্রলীগকর্মী শাকিল ওই রুমে দুজন শিক্ষার্থীকে অতিথি হিসেবে রেখেছেন। এরই মধ্যে ওই রুমে ২০২০-২১ শিক্ষার্থীবর্ষের এক শিক্ষার্থীকে তোলার কথা বলেন হল ছাত্রলীগ নেতা মোস্তাফিজ। এ নিয়ে শাকিলের সঙ্গে শনিবার রাত ১২টার দিকে মোস্তাফিজের বাগ্বিত-া হয়। এ ঘটনার জের ধরে রাত ৩টার দিকে মোস্তাফিজ তার কয়েকজন কর্মী নিয়ে শাকিলকে মারধর করেন। একই সঙ্গে হল থেকে নেমে যাওয়ার জন্য হুমকি দেন বলে অভিযোগ শাকিলের। এ সময় মোস্তাফিজকে সহযোগিতা করেন ইসতিয়াক আহমেদ শাওন, মিরাজুল ইসলাম, আশিক, রাসেল ও রাফি।
পরে লালন শাহ হল ও অন্যান্য হল থেকে আসা শাকিলের বন্ধুরা মোস্তাফিজের ওপর চড়াও হলে তিনি লুকিয়ে পড়েন। এতে শাকিল ও তার বন্ধুরা ক্ষুব্ধ হয়ে করিডরে অবস্থান নেন এবং বিভিন্ন জায়গায় মোস্তাফিজকে খুঁজতে থাকেন। ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ছাত্রলীগ নেতা বিপুল হোসেন খান ও আলামিন জোয়ার্দার এসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন। পরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা ও পুলিশ।
এ বিষয়ে ছাত্রলীগকর্মী শাকিল বলেন, ‘রাত ১২টার দিকে মোস্তাফিজ ভাই এসে আমাকে হল থেকে নেমে যাওয়ার হুমকি দেন। পরে রাত ৩টার দিকে তিনিসহ কয়েকজন মিলে আমাকে মারধর করেন। এ ঘটনায় আমি শঙ্কিত।’
মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘ওই ছেলে (শাকিল) প্রতিনিয়ত বাইরের কয়েকজন নিয়ে রুমে মাদকের আড্ডা বসায়। এটা নিয়ে বিরক্ত অন্য শিক্ষার্থীরা। ফলে ওই রুমে আমি এক জুনিয়রকে ওঠাতে যাই। এ নিয়ে বাগ্বিতন্ডা হয়েছে। আমি তাকে মারধর করিনি।’
