কৃষিতে এআইপি সম্মাননা পাচ্ছেন ১৩ জন

আপডেট : ২৬ জুলাই ২০২২, ১১:০২ পিএম

কৃষি মন্ত্রণালয় প্রথমবারের মতো ‘কৃষিক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (এআইপি)’ সম্মাননা দিচ্ছে। ২০১৯ সালে কৃষিক্ষেত্রে এআইপি নীতিমালা হয়। সে আলোকে প্রথমবার ২০২০ সাল থেকে দেওয়া হচ্ছে এ সম্মাননা। ২০২০ সালে এআইপি পাচ্ছেন ১৩ জন। এআইপি সম্মাননাপ্রাপ্তরা সিআইপিদের মতো সুযোগ-সুবিধা পাবেন।

গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে কৃষিক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি সম্মাননা প্রদান উপলক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ তথ্য জানান কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক। এসময় কৃষি সচিব মো. সায়েদুল ইসলাম এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী বলেন, কৃষির সাফল্যের অন্যতম কারিগর কৃষক, কৃষি বিজ্ঞানী, উদ্যোক্তা, উৎপাদনকারী, খামারিসহ কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্তদের প্রতি বছর সম্মাননা জানাতে ও তাদের উৎসাহিত করতে কৃষিক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (এআইপি) সম্মাননা প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

আব্দুর রাজ্জাক আরও বলেন, আগামী দিনের কৃষিকে আমরা বাণিজ্যিক ও সম্মানজনক পেশা হিসেবে উন্নীত করতে চাই। কৃষিতে শিক্ষিত, মেধাবী ও সৃজনশীল তরুণদের আকৃষ্ট করতে চাই। এর মাধ্যমে কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান উদ্বুদ্ধ হয়ে বাংলাদেশের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তায় আরও বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

মন্ত্রী জানান, এআইপি নীতিমালা অনুযায়ী প্রতি বছর মোট ৫ বিভাগে সর্বোচ্চ ৪৫ জনকে এআইপি সম্মাননা দেওয়া হবে। এর মধ্যে কৃষি উদ্ভাবন বিভাগে (জাত/প্রযুক্তি) সর্বোচ্চ ১০ জন, কৃষি উৎপাদন/বাণিজ্যিক খামার স্থাপন ও কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প বিভাগে সর্বোচ্চ ১৫ জন, রপ্তানিযোগ্য কৃষিপণ্য উৎপাদন বিভাগে সর্বোচ্চ ১০ জন, স্বীকৃত বা সরকার কর্তৃক রেজিস্ট্রিকৃত কৃষি সংগঠন বিভাগে সর্বোচ্চ ৫ জন এবং বঙ্গবন্ধু কৃষি পুরস্কারে স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত বিভাগে সর্বোচ্চ ৫ জন।

এআইপি কার্ডের মেয়াদকাল এক বছর। এআইপিরা সিআইপিদের মতো সুযোগ-সুবিধা পাবেন। এর মধ্যে রয়েছে মন্ত্রণালয়ের প্রশংসাপত্র, সচিবালয়ের প্রবেশ পাস, বিভিন্ন জাতীয় অনুষ্ঠানে নাগরিক সংবর্ধনায় আমন্ত্রণ; বিমান, রেল, সড়ক ও জলপথে সরকারি গণপরিবহনে আসন সংরক্ষণ অগ্রাধিকার; ব্যবসা/দাপ্তরিক কাজে বিদেশে ভ্রমণের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভিসাপ্রাপ্তির নিমিত্ত সংশ্লিষ্ট দূতাবাসকে উদ্দেশ্য করে লেটার অব ইন্ট্রোডাকশন ইস্যু করবে; নিজের ও পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসার জন্য সরকারি হাসপাতালের কেবিন সুবিধা এবং বিমানবন্দরে ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহার সুবিধা।

২০২০ সালে কৃষিক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (এআইপি) পাচ্ছেন ১৩ জন।  এরা হলেন কৃষি উদ্ভাবন বিভাগে (জাত/প্রযুক্তি) বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর  ড. লুৎফুল হাসান। তিনি বাউধান-৩’র জাত উদ্ভাবক, এ আর মালিক সিডসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আতাউস সোপান মালিক, তার অবদান ২টি বীজ আলুসহ মোট ১০টি সবজির জাত উদ্ভাবন ও বাজারজাতকরণ, ফিউচার অর্গানিক ফার্মের সৈয়দ আব্দুল মতিন, তিনি মেহগনি ফলের বীজ থেকে তেল তৈরি যা জৈব বালাইনাশক প্রস্তুত করেছেন আলীম ইন্ডাস্ট্রিস লিমিটেডের আলীমুছ ছাদাত চৌধুরী, তার অবদান আলীম পাওয়ার ট্রিলার উদ্ভাবন।

এছাড়া কৃষি উৎপাদন এবং বাণিজ্যিক খামার স্থাপন ও কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প বিভাগে ৬ জন। এরা হলেনÑ দৃষ্টান্ত এগ্রো ফার্ম এন্ড নার্সারির মো. সেলিম রেজা, ঠাকুরগাঁওয়ের মো. মেহেদী আহসান উল্লাহ চৌধুরী, ঝালকাঠির এশা ইন্টিগ্রেটেড এগ্রিকালচার ফার্মের মো. মাহফুজুর রহমান, বদরুল হায়দার বেপারী, প্রোপ্রাইটার, জাগো কেঁচো সার উৎপাদন খামার, মো. শাহবাজ হোসেন খান, নুর জাহান গার্ডেন, পটুয়াখালী। মো. সামছুদ্দিন (কালু), বিছমিল্লাহ মৎস্য বীজ উৎপাদন কেন্দ্র ও খামার, কুমিল্লা। স্বীকৃত বা সরকার কর্তৃক রেজিস্ট্রিকৃত কৃষি সংগঠন বিভাগে জাহাঙ্গীর আলম শাহ, শাহ্ কৃষি তথ্য পাঠাগার ও জাদুঘর কালীগ্রাম, নওগাঁ।

বঙ্গবন্ধু কৃষি পুরস্কারে স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত বিভাগে নির্বাচিত হয়েছেন দুজন। এরা হলেন- পাবনার নুরুন্নাহার কৃষি খামারের মোছা. নুরুন্নাহার বেগম এবং মা-মণি কৃষি খামারের মো. শাহজাহান আলী বাদশা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত