চাঁদপুরে বিলুপ্তির পথে খাঁচায় মাছচাষ পদ্ধতি

আপডেট : ২৬ জুলাই ২০২২, ১১:০৭ পিএম

চাঁদপুরে ক্রমেই বিলুপ্ত হচ্ছে নদীতে ভাসমান খাঁচায় মাছচাষ প্রকল্প। একদিকে মাছের খাদ্যের অধিক মূল্য, অপরদিকে পানি দূষণের ফলে মারা যাচ্ছে চাষকৃত মাছ। এতে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে চাষিরা। ইতিমধ্যে পুঁজি হারিয়ে অনেকে মাছচাষ বন্ধ করে দিয়েছেন। অতি দ্রুত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নিলে অচিরেই হারিয়ে যাবে সম্ভাবনাময় এই চাষ পদ্ধতি।

চাঁদপুর সদর উপজেলার রঘুনাথপুর এলাকার বাসিন্দা আলমগীর গাজী। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে চাকরি জীবন শেষে ২০০৫ সালে ৭টি খাঁচা দিয়ে নিজ এলাকায় ডাকাতিয়া নদীতে শুরু করেন মাছচাষ। এতে সাফল্য পেয়ে ২০১০ সালের মধ্যে তার মাছের খাঁচার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় দুই শতাধিক। কিন্তু গেল কয়েক বছর ধরে মাছের খাদ্যের দাম ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকায় লাভের মুখ দেখছেন না তিনি।

আলমগীর গাজী বলেন, ‘প্রথম দিকে মাছচাষে ভালো লাভবান হয়েছিলাম। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে নদীর পানিদূষণের ফলে মাছ মারা যাচ্ছে। তাছাড়া খাদ্যের দামও বেড়েছে কয়েক গুণ। এতে লোকসান গুনতে হচ্ছে। ২০০ খাঁচা থেকে বর্তমানে আমার মাছচাষের খাঁচা আছে মাত্র ৬৫টি। এভাবে লোকসান হতে থাকলে সেগুলোও তুলে ফেলে মাছচাষ বন্ধ করে দিতে হবে।’

শুধু আলমগীর গাজীই নন, একই চিত্র জেলার শত শত মাছচাষির। অথচ চাঁদপুরে নদীতে খাঁচায় মাছ চাষ পদ্ধতি বাংলাদেশের মডেল।

জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০০২ সালে ডাকাতিয়া নদীতে ১২টি খাঁচায় পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হয় এই চাষাবাদ পদ্ধতি। এতে ব্যাপক সাফল্য পেয়ে ২০০৫ সাল থেকে বিস্তার ঘটে মাছচাষের এই পদ্ধতির। এর পরেই চাঁদপুরকে মডেল ধরে নরসিংদী, সিরাজগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় শুরু হয় খঁাঁচায় মাছচাষ পদ্ধতি। বর্তমানে চাঁদপুরে ২ হাজার ভাসমান খাঁচায় বছরে প্রায় ৫৫০ মেট্রিক টন তেলাপিয়া মাছ উৎপাদন হচ্ছে।

মাছচাষিরা জানান, ড্রামের ওপর লোহার পাইপ ও জাল দিয়ে তৈরি বিশেষ খাঁচায় চাষ হচ্ছে মনোসেক্স তেলাপিয়া। একসময় ডাকাতিয়া নদীর দীর্ঘ ১০ কিলোমিটার এবং মেঘনা-ধনাগোদা নদীর ৩ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে দুই পাড়ে চার শতাধিক চাষি প্রায় ৭ থেকে ৮ হাজার ভাসমান খাঁচায় মাছচাষ করতেন। কিন্তু বর্তমানে খাঁচার সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে দুই হাজারে এবং চাষির সংখ্যা ৫০ থেকে ৬০ জন।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. গোলাম মেহেদী হাসান বলেন, ‘বর্তমানে মাছের খাদ্যের দাম কিছুটা বেশি। এ কারণে আগের মতো লাভবান হতে পারছেন না চাষিরা। তবে অন্যান্য জায়গার নদী দূষণের মতো চাঁদপুরের পানি এত দূষিত নয়। বিভিন্ন কারণে কিছু মাছ মারা গেলেও তা খুব বেশি নয়। খাঁচায় মাছচাষ পদ্ধতি টিকিয়ে রাখতে চাষিদের কাছে ভর্তুকি মূল্যে খাদ্য বিক্রি করা প্রয়োজন। এছাড়া চাষিদের কম সুদে ঋণ দেওয়ার জন্য আমরা ব্যাংক কর্মকর্তাদের অনুরোধ জানাই।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত