এফবিসিসিআই সভাপতি

ডলারে ১০ টাকা মুুুনাফার জন্য ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়া হয়নি

আপডেট : ২৯ জুলাই ২০২২, ০৩:৪০ এএম

ব্যাংকের ১ ডলারে ১০ টাকা মুনাফা করা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ব্যবসায়ীরা। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে লাইসেন্স নিয়ে ব্যাংকগুলো এত বেশি মুনাফা করবে তা ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা নয়। ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরকে শুভেচ্ছা জানিয়ে যাওয়ার সময় এমন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে গভর্নর আবদুর রউফ তালুকদারকে শুভেচ্ছা জানাতে আসে ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিদলটি। এ সময় তারা ব্যবসা-বাণিজ্যের সুবিধার্থে গভর্নরকে কিছু বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়ারও অনুরোধ জানান।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বিদায় নেওয়ার সময় এফবিসিসিআই সভাপতি জসিম উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, ‘ব্যাংককে ব্যবসা করার জন্য লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তারা কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ৯৩-৯৪ টাকায় ডলার কিনে ১০৪-১০৫ টাকা বিক্রি করছে। ব্যাংকগুলোকে তো ১ ডলারে ১০ টাকা মুনাফা করার জন্য লাইসেন্স দেওয়া হয়নি। এটা তো আমরা চাই না।’

এফবিসিসিআই সভাপতি আরও বলেন, ‘বর্তমানে ডলারের যে সংকট চলছে এর পেছনে কোনো ব্যবসায়ী বা ব্যাংকের কর্মকর্তাদের কোনো কারসাজি থাকলে তা অবশ্যই খতিয়ে দেখার এবং ব্যবস্থা নেওয়ার দরকার রয়েছে।’

এ কারসাজির সঙ্গে শুধু ব্যবসায়ী নয়, ব্যাংকের কর্মকর্তাও জড়িত থাকতে পারেন এমন মন্তব্য করে জসিম উদ্দিন বলেন, ‘যেই জড়িত থাকুক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। দেশের মানি চেঞ্জার প্রতিষ্ঠানগুলো যদি ডলার কারসাজির সঙ্গে জড়িত থাকে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’

গত দুই-আড়াই মাস ধরে দেশের ডলারের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা চলছে। এ সময়ে দেশের আন্তঃব্যাংক ডলারের দর বেড়েছে প্রায় ৮ টাকা। ব্যাংকে নগদ ডলার বিক্রি হচ্ছে ১০৭-১০৮ টাকায়। গত মঙ্গলবার খোলাবাজারে ডলারের সর্বোচ্চ দর ওঠে ১১২ টাকা।

করোনা-পরবর্তী বৈশ্বিক যুদ্ধাবস্থার কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে জানিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘গত বুধবার ১০টি পরিদর্শন দল বিভিন্ন মার্কেটে মানি চেঞ্জার প্রতিষ্ঠানগুলোতে পরিদর্শন চালায়। সেখানে ছোট ছোট কিছু অনিয়ম পাওয়া গেছে। এসব প্রতিষ্ঠান ডলার বেচাকেনার রেকর্ড ঠিকমতো রাখছে কি না তা পরিদর্শন করা হয়েছে। ডলারের বাজারের অস্থিতিশীলতা কমিয়ে আনতে এ অভিযান চালানো হয়েছে।’

ভবিষ্যতে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে উল্লেখ করে সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘বড় ধরনের কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করবে। যেসব অবৈধ মানি চেঞ্জার প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাকেও অনুরোধ জানানো হয়েছে।’ ডলারের বাজার স্থিতিশীল রাখতে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত