ওয়াল স্ট্রিট, পেট্রো ডলার আর তথ্যপ্রযুক্তির ট্রিলিয়ন ডলার মার্কেটের যুগে আমাদের কল্পনাতেও আসে না এর থেকে সমৃদ্ধিশালী কোনো সময় মানব সভ্যতাতে ছিল। আশ্চর্যের ব্যাপার হলো মানব সভ্যতার সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিটি এই সময়ের কেউ নন। তিনি বাস করতেন চতুর্দশ শতাব্দীতে, নাম মানসা মুসা। লিখেছেন বিপুল জামান
বর্তমানের ধনীরা
প্রতি বছর ফোর্বস ম্যাগাজিন ধনী ব্যক্তিদের তালিকা প্রকাশ করে। তালিকায় কার নামটি প্রথমে এসেছে অর্থাৎ এই মুহূর্তে কে পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি ধনী তা জানার কৌতূহল সবার থাকে। ২০২২ সালে ফোর্বস ম্যাগাজিনের ধনী ব্যক্তির তালিকার প্রথম নামটি ইলন মাস্কের। টেসলা, স্পেস এক্সের প্রতিষ্ঠাতা ও মালিক এই ধনকুবেরের সম্পত্তির অর্থ মূল্য ২১৯ বিলিয়ন ডলার। ২০২১ সালে শীর্ষে অবস্থান করা অ্যামাজন সাম্রাজ্যের অধিকর্তা জেফ বেজোস এবার স্থান পেয়েছেন তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে। বারনার্ড আরনাল্ট ও তার পরিবার এবং বিল গেটস তাদের আগের অবস্থান ধরে রেখেছেন অর্থাৎ ২০২১ সালের মতো এবারও তারা যথাক্রমে তৃতীয় ও চতুর্থ অবস্থান ধরে রেখেছেন। ২০২১ সালের সেরা ধনীর তালিকায় সেরা দশে আমাদের পাশের দেশ ভারতের ধনকুবের মুকেশ আম্বানি স্থান পেয়েছিলেন। ২০২২ সালে তার অবস্থান ধরে রেখেছেন। যদিও তার মোট সম্পত্তির অর্থমূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২১ সালে তার মোট সম্পত্তির অর্থমূল্য ছিল ৮৪.৫ বিলিয়ন ডলার, ২০২২ সালে তার সম্পত্তির অর্থমূল্য বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ৯০.৭ বিলিয়ন ডলারে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ ২০২১ সালে ছিলেন পঞ্চম অবস্থানে। ২০২২ সালে তিনি নেই সেরা দশের তালিকায়। এত এত ধনীদের সম্পদ, আর উত্থান-পতন দেখে স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন আসে এরাই কি সর্বকালের সেরা ধনী নাকি ইলন মাস্ক, জেফ বেজোসের থেকেও কোনো ধনাঢ্য ব্যক্তি ছিলেন অতীতে? যদি থাকেন তাহলে কে সেই সর্বকালের সেরা ধনী ব্যক্তি? ২০১৯ সালে বিবিসি প্রকাশ করেছিল সর্বকালের শ্রেষ্ঠ দশ ধনীর তালিকা। এই তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছেন আফ্রিকার মালি দেশের চতুর্দশ শতাব্দীর রাজা মানসা মুসা। তার সম্পদের পরিমাণ অর্থনীতিবিদ ও ঐতিহাসিকদের পক্ষে পরিমাপ করা সম্ভব হয়নি। তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন রোমান সম্রাট অগাস্টাস সিজার। ঐতিহাসিকদের মতে তার সম্পদের পরিমাণ ৪.৬ ট্রিলিয়ন ডলার। ঐতিহাসিক ও অর্থনীতিবিদদের মতে মানসা মুসার সম্পদ এর থেকেও অনেক বেশি। ১ হাজার বিলিয়ন সমান ১ ট্রিলিয়ন। ইলন মাস্কের সম্পদের মূল্য ২১৯ বিলিয়ন ডলার ধরে হিসাব করলে দেখা যায় অগাস্টাসের সম্পদের পরিমাণ তার থেকে ২১ গুণ বেশি। এই তুলনা থেকে বোঝা যায় সর্বকালের সেরা ধনীর তালিকার শীর্ষে থাকা আফ্রিকান রাজা মানসা মুসা বর্তমান ধনকুবেরদের তুলনায় কত বেশি ধনী ছিলেন।
পরিচয়
১২৮০ সালে আফ্রিকার মালি সাম্রাজ্যের শাসক পরিবারে জন্ম নেন মানসা মুসা। তিনি ক্ষমতায় আসার আগে মালি সাম্রাজ্যের শাসক ছিলেন তার ভাই মানসা আবু-বকর। ১৩১২ খ্রিস্টাব্দে আবু-বকর সিংহাসন ত্যাগ করে একটি অভিযানে বের হন।
মানসা মুসা ও তৎকালীন মালি সম্পর্কে জানা যায় চতুর্দশ শতাব্দীর ঐতিহাসিক আল-উমারি এবং ইবন খালদুনের বর্ণনা থেকে। মানসা মুসা সম্পর্কে মানুষ জানতে পারে যখন তিনি হজ সম্পন্ন করার জন্য কায়রো হয়ে সৌদি আরবের পথে রওনা হন। সে সময়ে মিসরীয় রাজসভাসদ ইবন আমির হাজিবের সঙ্গে মুসার বন্ধুত্ব হয়। ইবন আমির হাজিব মুসার কাছ থেকে তার সম্পর্কে এবং তার দেশ সম্পর্কে জানতে পারেন। পরে ইবন আমির হাজিব এসব তথ্য বিভিন্ন ঐতিহাসিকের কাছে বর্ণনা করেন। আল-উমারি ছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম। মানসা মুসা সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যায় সপ্তদশ শতাব্দীর টিম্বাকটু ভাষায় লেখা ঘটনাপঞ্জি তারিখ ইবন আল-মুখতার এবং তারিখ আল-সুদান থেকে। মানসা মুসা সম্পর্কে প্রাপ্ত তথ্যের আরেকটি উৎস হলো পশ্চিম আফ্রিকান চারণ কবি ও ঐতিহাসিকদের গাথা। তারা তাদের সময়কার রাজাদের প্রশংসা করতে গিয়ে নানা সময়ে মানসা মুসার অর্থ, ধনসম্পদ, বদান্যতা ও দানশীলতার তুলনা এনেছেন।
চতুর্দশ শতকের ঐতিহাসিক আল-উমারির বর্ণনা অনুযায়ী, আটলান্টিক মহাসাগর এবং তার ওপারে কী আছে তা নিয়ে মারাত্মক কৌতূহলী ছিলেন মানসা মুসার ভাই তৎকালীন মালির রাজা আবু-বকর। কৌতূহল নিবৃত্তে একদিন তিনি ২ হাজার জাহাজ এবং হাজার-হাজার পুরুষ, নারী এবং দাস-দাসী নিয়ে সমুদ্রে পাড়ি জমান। ধারণা করা হয় তখনো সাম্রাজ্যগুলো ঔপনিবেশ স্থাপন করত এবং উপনিবেশগুলো থেকে সম্পদ আহরণ করত। আবু-বকর এমনই এক অভিযানে গিয়ে আর ফিরে আসেননি।
রাজার অনুপস্থিতিতে রাজত্বের শাসনভার নেন মানসা মুসা। তার শাসনামলে মালি রাজ্যের আকার বাড়তে থাকে। তিনি তার রাজত্বে আরও ২৪টি শহর যুক্ত করেন, যার একটি ছিল টিম্বাকটু। তার রাজত্ব বিস্তৃত ছিল ২০০০ মাইলজুড়ে। আটলান্টিক মহাসাগর থেকে শুরু করে বর্তমান নিজার, সেনেগাল, মৌরিতানিয়া, মালি, বুর্কিনা ফাসো, গাম্বিয়া, গিনি-বিসাউ, গিনি এবং আইভোরি কোস্টের বড় অংশ ছিল তার রাজত্বে। সেকালে চীন ছাড়া এত বড় সাম্রাজ্য আর ছিল না। এই বিশাল সাম্রাজ্যের সঙ্গে তার আয়ত্তে আসে মূল্যবান খনিজ সম্পদ বিশেষ করে স্বর্ণ এবং লবণ।
ব্রিটিশ মিউজিয়ামের হিসাবে মানসা মুসার শাসনামলে তৎকালীন বিশ্বে যে পরিমাণ স্বর্ণের মজুদ ছিল তার অর্ধেকই ছিল মালিতে। আর মালির রাজা হিসেবে এই বিশাল স্বর্ণের সবটারই মালিক ছিলেন মানসা মুসা।
নর্থওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আফ্রিকাবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ক্যাথলিন বিকফোর্ড বারজক বিবিসিকে বলেন, ‘শাসক হিসেবে মধ্যযুগের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদটির প্রায় অফুরান জোগান ছিল মানসা মুসার। বড় বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলো তার সাম্রাজ্যে স্বর্ণ এবং অন্যান্য পণ্যের ব্যবসা করত, সেই বাণিজ্য থেকে আরও সম্পদশালী হয়ে ওঠেন মানসা মুসা। তবে এক্ষেত্রে কর্মদক্ষতার সঙ্গে ভাগ্যের সহায়তাও পেয়েছিলেন তিনি। মালির শাসকদের মধ্যে তিনি প্রথম সোনার খনির খোঁজ পান। সোনার খোঁজ পেলে আবু-বকর সমুদ্রপাড়ি দেওয়ার দুঃসাহসিক অভিযান করতেন কি না তা একটা কৌতূহলোদ্দীপক প্রশ্ন হিসেবেই রয়ে গেছে।’
শিক্ষার প্রতি ভালোবাসা
মানসা মুসা অঢেল সম্পদের অধিকারী হওয়ার পরেও স্রেফ বিলাসিতায় ভেসে যাননি। তিনি ছিলেন ধর্মপরায়ণ, সদাচারী। জনগণের কল্যাণে ব্যয় করেছেন প্রভূত অর্থ। অধিকৃত টিম্বাকটু শহরকে গড়ে তোলেন মনের মাধুরী মিশিয়ে। চিকিৎসা, শিক্ষা, সুপেয় পানির ব্যবস্থার জন্য প্রচুর অর্থ ব্যয় করেন তিনি। তার সময়ে টিম্বকটু হয়ে ওঠে সে সময়ের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দর্শনীয় স্থান।
শিল্প এবং স্থাপনায় উৎসাহ দেওয়ার পাশাপাশি তিনি সাহিত্যক্ষেত্রে অনুপ্রেরণা দেন, স্কুল, লাইব্রেরি এবং মসজিদ তৈরিতে অর্থ দান করেন। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষজন টিম্বাকটু দেখতে আসা শুরু করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই টিম্বাকটু হয়ে ওঠে শিক্ষার কেন্দ্র এবং সারা বিশ্ব থেকে শিক্ষার্থীরা এ শহরে পড়তে আসা শুরু করে। টিম্বাকটুতে তিনি ৮০টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন যেখানে বিজ্ঞান, জ্যোতির্বিদ্যা, অঙ্কশাস্ত্র, সাহিত্য, ধর্মতত্ত্ব ইত্যাদির চর্চা হতো।
মানসা মুসাকে পশ্চিম আফ্রিকায় শিক্ষার প্রসারের অগ্রদূত হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যদিও সেই সাম্রাজ্যের বাইরে তার সেই গল্প খুব কম মানুষই জানতে পেরেছিলেন।
উনিশ শতকেও টিম্বাকটু ছিল কিংবদন্তির হারিয়ে যাওয়া এক স্বর্ণের শহর। ভাগ্যান্বেষণে ইউরোপ থেকেও পরিব্রাজকরা খোঁজ করতেন এই টিম্বাকটুর। আর এর পেছনে মূল কারণটিই ছিল ৫০০ বছর আগে মানসা মুসার সেই শাসনামল।
মানসা মুসা ছিলেন ধর্মপরায়ণ। প্রভূত সম্পদের মালিক হয়েও তিনি ধর্মাচরণ ভুলে যাননি। তাই অবিলম্বে তিনি হজ পালনের জন্য মক্কা রওনা হন। মক্কা যাওয়ার পথে দুহাতে তিনি দান করতে থাকেন। মানসা মুসার এই দানশীলতাই তাকে ইতিহাসে অমর করে রেখেছে।
হজযাত্রা
মালিতে প্রভূত ধনসম্পদ পুঞ্জীভূত থাকলেও তা বাইরের জগতের মানুষের জানার পরিধিতে ছিল না। এই রাজ্যের সম্পদের কথা সাধারণের সামনে আসে ১৩২৪ সালে, যখন মানসা মুসা হজ পালনের জন্য মক্কা অভিমুখে যাত্রা করেন। সে সময় তার সঙ্গে ছিল ষাট হাজারের বিশাল এক বাহিনী। ছিলেন বুদ্ধিজীবী, ধর্মতাত্ত্বিক, পারিষদ ও অভিজাতরা। আরও ছিলেন সৈনিক, কবি, ব্যবসায়ী, উটচালক। সেবা করা জন্য দাস ছিল ১২ হাজার। খাবারের জন্য ছিল ছাগল এবং ভেড়ার এক বিশাল বহর। মরুর বুক দিয়ে যেন একটি শহর চলছিল।
কায়রোর সাধারণ মানুষেরা কখনো এমনটি দেখেননি কখনো। স্বাভাবিকভাবেই এই বিশাল বাহিনীর জন্য প্রয়োজন হচ্ছিল অনেক নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের। এসব পণ্যের মূল্য পরিশোধ করা হচ্ছিল সোনা দিয়ে। মিসরের নাগরিকরা অবাক হয়ে দেখল যে, এমনকি একজন দাসের গায়েও স্বর্ণখচিত পারস্যের সিল্কের জামা। এই কাফেলার সঙ্গে চলছিল শত-শত উটের আরেকটি বহর, যার প্রতিটির পিঠে শত-শত সের খাঁটি স্বর্ণ। যারাই অবাক হয়ে সে মিছিলের কাছে আসছিল দাসেরা তাদের দিকে ছড়িয়ে দিচ্ছিল সোনা। মানসা মুসা কায়রোতে এত বেশি সোনা বিলিয়েছিলেন যে, পরের দশ বছর মিসরে মুদ্রাস্ফীতি দেখা দিয়েছিল।
ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের সহযোগী অধ্যাপক রুডলফ বাচ ওয়্যার বিবিসিকে বলেছেন, সাম্প্রতিককালের গবেষকরা মুসার এত এত সম্পদের খোঁজ পাচ্ছেন যে তাদের দমবন্ধ হয়ে আসছে।
চতুর্দশ শতাব্দীর অন্যতম উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে ধরা হয় মানসা মুসার হজযাত্রা। তার এই হজযাত্রা তাকে এবং মালিকে কাটালান অ্যাটলাস মানচিত্রে স্থান করে দেয়। মানসা মুসা আক্ষরিক অর্থেই মালি এবং নিজেকে বিশ্বের মানচিত্রে স্থান করে দেন। ১৩৭৫ সালের একটি কাটালান মানচিত্রে টিম্বাকটুর ওপরে একজন আফ্রিকান রাজাকে স্বর্ণের টুকরো হাতে বসে থাকার ছবি দেখা যায়। তিনিই মানসা মুসা।
পরিণতি
মক্কা থেকে বেশ কয়েকজন ইসলামি চিন্তাবিদকে সঙ্গে নিয়ে আসেন মানসা মুসা। যাদের মধ্যে ছিলেন নবী মোহাম্মদের সরাসরি বংশধর এবং একজন আন্দালুসিয়ান কবি ও স্থপতি আবু এস হক এস সাহেলি, যাকে কিনা বিখ্যাত জিংগারেবার মসজিদের নকশাকার হিসেবে ধারণা করা হয়। মানসা মুসা সেই কবিকে পারিশ্রমিক হিসেবে ২০০ কেজি স্বর্ণ দিয়েছিলেন বলে কথিত আছে যার বর্তমান বাজারমূল্য ৮২ লাখ মার্কিন ডলার।
১৩৩৭ সালে মাত্র ৫৭ বছর বয়সে মানসা মুসার মৃত্যু হয়। এরপর সিংহাসনে বসেন তার ছেলে মেঘান-১। তিনি মুসার গড়ে তোলা বিশাল সাম্রাজ্য ধরে রাখতে পারেননি। অন্য ছেলেরাও এক্ষেত্রে ব্যর্থ হন। ছোট রাজ্যগুলো একে একে বেরিয়ে যেতে থাকে এবং একসময় পুরো সাম্রাজ্য ধসে পড়ে।
এর পরে আসে ইউরোপীয়দের আফ্রিকায় উপনিবেশ স্থাপনের কাল। আর এর সঙ্গেই শেষ হয়ে যায় প্রতাপশালী ও সর্বকালের সেরা ধনীব্যক্তি সম্রাট মানসা মুসার সাম্রাজ্য।
মানসা মুসা কেন রয়ে গেলেন আড়ালে
প্রশ্ন উঠতে পারে এমন একজন মানুষ কেন রয়ে গেলেন আড়ালে? এর ব্যাখ্যা দিয়েছেন ব্লক মিউজিয়ামের পরিচালক লিসা করিন গ্রাজিও। তিনি বলেন, ‘মধ্যযুগের ইতিহাসকে এখনো অনেকটা পশ্চিমা ইতিহাস হিসেবেই দেখা হয়। কয়েক’শ বছর পরে না এসে, মানসা মুসার সময়ে মালি যখন সামরিক এবং অর্থনৈতিক শক্তিতে সবার শীর্ষে ছিল, তখন যদি ইউরোপীয়রা আফ্রিকায় আসত তাহলে হয়তো পুরো বিষয়টা অন্যরকম হতো বলে অভিমত প্রকাশ করেন ঐতিহাসিক ও ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়ার ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রুডলফ বুচ ওয়ার।
সমালোচনা
পবিত্র হজ পালনের পথে মিসরে মানসা মুসার এই অত্যধিক দানকে মিসরের সাধারণ মানুষ ভীষণ প্রশংসা করেছিল। মানসা মুসার ভ্রমণের ১০ বছর পর মিসর ভ্রমণ করেন আল-উমারি। তিনি সেখানে মিসরের নাগরিকদের মানসা মুসার স্তুতি করতে দেখেন। কিন্তু মুসার প্রতি বিরূপ ছিল তার দেশের সাধারণ মানুষ। তারা মনে করত মুসা মালির সম্পদ অন্য দেশে অহেতুক বিলিয়ে দিয়েছেন। মুসার মৃত্যুর পরে বিদ্রোহী কবিরা মুসাকে ভর্ৎসনা করে কবিতা ও গান লিখেছিলেন। আরেকটি অংশ দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও শিক্ষার প্রসারণের জন্য তার প্রশংসা করত। সপ্তদশ শতকের কবিরা তাদের সময়কার শাসকের প্রশংসা ও দানশীলতার তুলনা করতে মানসা মুসার প্রসঙ্গ এনেছেন। সে সব কবিতা ও গানই মানসা মুসা সম্পর্কে জানার অন্যতম তথ্য ভা-ার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে ঐতিহাসিকদের কাছে।