মাথা ঘুরাচ্ছে, একটু ঝিমুনি ভাব, দুর্বলতা, ঘাড়ের পেছনে অস্বস্তি বা মাথাব্যথা হলে অনেকেই এসে অভিযোগ করেন তার লো প্রেশার হয়েছে। অনেকেই এমন হলে চিন্তিত হয়ে পড়েন। দেহে রক্ত সঞ্চালনের জন্য হৃদযন্ত্র মুখ্য ভূমিকা পালন করে। হৃদযন্ত্রের প্রতিনিয়ত সংকোচন-প্রসারণের ফলে এ কাজটি হয়ে থাকে এবং রক্তনালিতে এক ধরনের চাপের সৃষ্টি হয়, যা ব্লাড প্রেশার বা রক্তচাপ নামে পরিচিত। হৃদযন্ত্রের সংকোচনের ফলে সৃষ্ট রক্তচাপকে সিস্টোলিক ব্লাড প্রেশার এবং প্রসারণের ফলে সৃষ্ট রক্তচাপকে ডায়াস্টোলিক ব্লাড প্রেশার বলে। সাধারণের কাছে যা যথাক্রমে ওপরের ও নিচের ব্লাড প্রেশার নামে পরিচিত। এই রক্তচাপের স্বাভাবিক মাত্রা হচ্ছে সিস্টোলিকের ক্ষেত্রে ১০০-১৪০ মিমি এবং ডায়াস্টোলিকের ক্ষেত্রে ৬০-৮০ মিমি। যদি সিস্টোলিক ব্লাড প্রেশার ১০০ বা ৯০ মিমির নিচে এবং ডায়াস্টোলিক ব্লাড প্রেশার ৬০ মিমি এর নিচে চলে আসে তাহলে তাকে লো ব্লাড প্রেশার বলে।
লক্ষণ
মাথা ঘোরানো। মাথা হালকা ভাব লাগা। মাথা ঘুরিয়ে পড়ে যাওয়া।
বমি ভাব। চোখে ঝাপসা দেখা।
মাত্রাতিরিক্ত পিপাসা। হাত-পা ঠা-া হয়ে যাওয়া। দ্রুত হৃৎস্পন্দন।
ক্লান্তিবোধ।
শোয়া বা বসা থেকে উঠতে গেলে মাথা চক্কর দেওয়া।
তবে উপরোক্ত উপসর্গগুলো সব সময়ই লো ব্লাড প্রেশার বা রক্তচাপ কমে যাওয়ার কারণে হবে তা কিন্তু নয়।
কারণ
ডায়রিয়ার কারণে পানিশূন্যতা হলে।
অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ।
অত্যধিক সূর্যতাপে পানিশূন্যতা হলে।
ইলেকট্রোলাইট তারতম্য।
এডিসন’স ডিজিজ।
উচ্চ রক্তচাপের রোগীর ক্ষেত্রে অধিক মাত্রায় ওষুধ সেবন।
ডায়ইউরেটিকস সেবন।
হার্ট অ্যাটাক, হার্ট ফেইলিউর।
গর্ভাবস্থা।
মারাত্মক ইনফেকশন বা সেপটিসেমিয়া।
অতিরিক্ত পরিশ্রম, দুশ্চিন্তা, ভয় ও স্নায়ুর দুর্বলতা।
করণীয়
অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, স্বাভাবিকভাবেই কিছু মানুষের রক্তচাপ কম থাকে। এ অবস্থায় তাদের কোনো শারীরিক সমস্যা দেখা দেয় না। আপনি যদি সুস্থ অবস্থায় রক্তচাপ পরিমাপ করে ৯০/৬০ মিমির নিচে পান এবং এর সঙ্গে যদি অন্য কোনো শারীরিক উপসর্গ না থাকে, তাহলেই সেই মাত্রাটি আপনার ক্ষেত্রে স্বাভাবিক রক্তচাপের মাত্রা হতে পারে। এমন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই ওরস্যালাইন, ভিটামিন, নানা ধরনের টনিক, এনার্জি ড্রিংক এমনকি শিরা পথে স্যালাইন নিয়ে থাকেন।
কেউ কেউ আবার অনেক বেশি ডিম, দুধ, মাংসজাতীয় খাবার খেয়ে থাকেন। কিন্তু এসব ক্ষেত্রে কোনো ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা ওষুধের প্রয়োজন হয় নয়া। তবে কারও স্বাভাবিক রক্তচাপের মাত্রা যদি ১০০-১৪০/৬০-৯০ থেকে কমে গিয়ে ৯০/৬০-এর নিচে চলে যায়, তাহলে তার লো ব্লাড প্রেশার। সে ক্ষেত্রে অবশ্যই কারণ নির্ণয় করে যথাযথ চিকিৎসা নিতে হবে। শরীরে পানিশূন্যতা ও ইলেকট্রোলাইট ভারসাম্যহীনের কারণে নিম্ন রক্তচাপ হলে শুধু খাবার স্যালাইন খেলেই প্রেশার স্বাভাবিক হয়ে যাবে। রক্তচাপের ওষুধের কারণে হলে তা অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধের ধরন বা মাত্রা পুনর্নির্ধারণ করে নিতে হবে। রক্তচাপ যদি খুব বেশি নেমে যায় তাহলে মস্তিষ্ক, কিডনি ও হৃৎপি-ে সঠিকভাবে রক্ত প্রবাহিত হতে পারে না। ফলে শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। আতঙ্ক নয়, প্রয়োজন সচেতনতা। তাই অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
