চিরিরবন্দরে ড্রাম ট্রাক চলাচলে নষ্ট হচ্ছে নতুন রাস্তা

আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০২২, ১১:০১ এএম

দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার ঘুঘুরাতলী বাজার থেকে রানীরবন্দর বাজারের দূরত্ব প্রায় ১৫ কিলোমিটার। সড়কটি উপজেলায় বাইপাস সড়ক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

এই সড়ক দিয়ে দিনাজপুর থেকে সহজেই সৈয়দপুর বিমানবন্দরসহ বিভাগীয় শহর রংপুরে যাতায়াত করতে পারেন সাধারণ মানুষ। কিন্তু ৪ বছর পূর্বে এই সড়কটির অবস্থা খুবই বেহাল ছিল। খানাখন্দে ভরে যায় পুরো ১৫ কিলোমিটার সড়ক।

জনগণের দুর্ভোগ লাঘবের জন্য সরকার সাড়ে ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কটি সংস্কার ও প্রশস্তকরণের উদ্যোগ নেয়। ১৫ কিলোমিটার সড়কটি ৩টি প্যাকেজে ভাগ করে পৃথক ৩ জন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কাজ করা হয়।

ইতিমধ্যে সড়কটির সংস্কার ও প্রশস্তকরণের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। কিন্তু এরই মধ্যে বাধ সাধল অবৈধ ড্রাম ট্রাক।

সড়কটির উপর দিয়ে ড্রাম ট্রাকে করে বালু পরিবহনের ফলে রাস্তাটির কার্পেটিং নষ্ট হয়ে পড়ছে। ইতিমধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বেশ কয়েকবার নষ্ট হয়ে যাওয়া কার্পেটিং তুলে নতুন করে কার্পেটিং করেছে। সড়কটি দীর্ঘস্থায়ী করতে অবৈধ ড্রাম ট্রাক চলাচল বন্ধের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সড়কটি সংস্কারকাজ শেষ হবে চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে। ইতিমধ্যে সড়কটির কার্পেটিংয়ের কাজ শেষ করেছে। সড়কটি সংস্কার কাজ প্রায় শেষের দিকে হলেও এর সুফল পেতে শুরু করেছে লক্ষাধিক মানুষ। প্রতিদিন শত শত বাস, ট্রাক, পিকআপ, মাইক্রো, প্রাইভেটকার, ইজিবাইক, চার্জার ভ্যান, মোটরসাইকেল বাইসাইকেলসহ বিভিন্ন প্রকার যানবাহন চলাচল করছে।

image

গড়ে প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ হাজার বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করবে। সড়কটি প্রশস্তকরণ হওয়ায় স্বাচ্ছন্দ্যে যাতায়াত করছেন এক সময়ে দুর্ভোগের শিকার হওয়ায় সাধারণ মানুষ। তবে সড়কটি নির্মাণের সময় অবৈধ ড্রাম ট্রাক চলাচল করার কারণে কিছুস্থান ক্ষতি সাধন হয়েছে।

চিরিরবন্দর উপজেলার আন্ধারমুহা গ্রামের কৃষক আব্দুল হামিদ বলেন, আজ থেকে ৪ বছর পূর্বে ক্ষেতে উৎপাদিত শাক ও সবজি নিয়ে বাজারে যেতে খুব সমস্যা হতো। ইজিবাইক বা ভ্যানে করে শাক-সবজি নিয়ে যেতে ভাড়া বেশি দিতে হতো। বাজারে যেতে যেতে শাক-সবজির অবস্থা খুব খারাপ হয়ে যেত। বাজারে কাঙ্ক্ষিত দামও পেতাম না। তার ওপর ভাঙা রাস্তায় ভ্যানে বা ইজিবাইকে যেতে হলে অবস্থার বারোটা বেজে যেত। এখন ওই রাস্তা সংস্কার করা হওয়ায় ভালোভাবে বাজারে যেতে পারছি। সময়মতো বাজারে যেতে পারায় শাক-সবজির দামও ভালো পাচ্ছি।

ইজিবাইক চালক কমল রায় বলেন, আগে অটো চালাতে খুব সমস্যা হতো। ভাঙা রাস্তায় গাড়ি চালালে গাড়ি নষ্ট হতো। কিন্তু রাস্তাটি ঠিক করায়, এখন খুব অটো চালাতে কোন সমস্যা হয় না।

ট্রাক চালক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমি ৬ চাকার ট্রাকের বালু লোড করে নিয়ে যাই। এই রাস্তা দিয়ে ঘাটে যেতে হয়। কিন্তু এই রাস্তাটি দিয়ে ১০ চাকার ড্রাম ট্রাক চলাচল করা ঠিক না। কারণ আমার ৬ চাকার ট্রাকে যে বালু লোড নেই, তার ৪ থেকে ৫ গুন বেশি ১০ চাকার ড্রাম ট্রাকে বালু লোড করতে হয়। ড্রাম ট্রাক সাধারণ সিঅ্যান্ডবি ও হাইওয়ে রোডে চলাচলের জন্য। কিন্তু তারা গ্রামের রাস্তায় চলাচল করে রাস্তাগুলো নষ্ট করছে।

রাস্তার ৫ কিলোমিটার নির্মাণ ও সংস্কারের কাজ করছেন কুড়িগ্রামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স বসুন্ধরা।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী আলতাফ হোসেন জানান, রাস্তাটি কার্পেটিং কাজ শেষের দিকে। তবে কিছুদিন আগে কার্পেটিং করার সময় কয়েকটি অবৈধ বালুবাহী ড্রাম ট্রাক কার্পেটিং বসার আগে সেটির উপর দিয়ে চলে যায়। এতে রাস্তাটির হাফ কিলো এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিষয়টি উপজেলা প্রকৌশলী লিখিতভাবে জানিয়েছি।

এ বিষয়ে চিরিরবন্দর উপজেলা প্রকৌশলী মুহাম্মদ ফারুক হাসান জানান, এই সড়ক দিয়ে গড়ে প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ হাজার বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে। রাস্তাটি নির্মাণের ব্যাপারে আমাদের সার্বক্ষণিক তদারকি রয়েছে। তবে হাফ কিলো জায়গায় ড্রাম ট্রাকের কারণে ক্ষতি হয়েছিল। পরে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে লিখিতভাবে জানানো হলে তারা নষ্ট হয়ে যাওয়া কার্পেটিং তুলে আবার নতুন করে কার্পেটিং করছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত