চিড়িয়াখানায় চামড়ার ব্যাগে কুমির বাণিজ্যের প্রতিবাদ

আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০২২, ১১:০৬ পিএম

যুক্তরাজ্যের লন্ডনের একটি চিড়িয়াখানায় বানর, পেঙ্গুইন, বাঘ, সিংহ সবই আছে। প্রাণীগুলো যে যার খাঁচায় দিন কাটাচ্ছে। তবে জেএসএল নামে ওই চিড়িয়াখানায় কুমিরের খাঁচায় দেখা মিলবে ভিন্ন কিছুর। চিড়িয়াখানাটিতে সিয়ামিজ প্রজাতির কুমিরের যে খাঁচাটি আছে তাতে জীবন্ত কুমিরের বদলে রয়েছে কুমিরের চামড়ার তৈরি একটি ব্যাগ!

বিবিসি জানিয়েছে, বিপন্ন সিয়ামিজ প্রজাতির কুমির এখন আর জেএসএল চিড়িয়াখানায় নেই। তার বদলে চিড়িয়াখানা কর্র্তৃপক্ষ সেই খাঁচায় রেখেছে ওই প্রজাতির কুমিরের চামড়ার তৈরি একটি হাতব্যাগ। ২০১৮ সালে লন্ডনের একটি বিমানবন্দরে কাস্টমস কর্মকর্তারা ব্যাগটি বাজেয়াপ্ত করেছিলেন। এরপর বিশ্বজুড়ে অবৈধ বন্যপ্রাণী বাণিজ্যের প্রভাব তুলে ধরার জন্য সেটি হস্তান্তর করা হয় জেএসএল চিড়িয়াখানায়। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই হাতব্যাগের ছবি ভাইরাল হওয়ার পর ওই খাঁচা ঘিরে প্রতিদিন জটলা হচ্ছে কৌতূহলী দর্শনার্থীদের।

জাদুঘরের সরীসৃপ ও উভচর প্রাণী বিভাগের কিউরেটর বেন তাপলেই বলেন, সবচেয়ে ভালো হতো যদি এখানে চমৎকার ওই প্রাণীগুলো থাকত। তবে হাতব্যাগটাও মানুষের নজর কেড়েছে। আমরা চেয়েছিলাম যাতে দর্শকদের এ বিষয়ে সচেতন করা যায়, বিষয়টি নিয়ে কথা বলার একটা জায়গা তৈরি হয়। বন্যপ্রাণীর ওই অবৈধ ব্যবসার ওপর আলো ফেলতে পারে, এমন যেকোনো কিছুই এখন জরুরি।

তাপলেই জানান, সাধারণত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার খরস্রোতা নয় এমন নদীতে সিয়ামিজ কুমিরের দেখা মেলে। চোরা শিকারিদের অবৈধ ব্যবসার কারণে ২০ শতকের মাঝামাঝি সময় থেকে এ প্রাণীর সংখ্যা মারাত্মকভাবে কমে গেছে। শুধু চামড়ার জন্যই ওই কুমির শিকার করে অনেকে। তিনি জানান, আবাসস্থল ধ্বংস হওয়ায় এবং চোরা শিকারের কারণে গোটা বিশ্বে মাত্র ৫০০ থেকে ১০০০ সিয়ামিজ কুমির আছে বলে ধারণা করা হয়।

লন্ডন চিড়িয়াখানায় অনেক বিপন্ন প্রজাতির প্রাণী রয়েছে, এর মধ্যে আবার অনেকগুলো নিয়ে অবৈধ ব্যবসায়ও রয়েছে। ২০০০ সাল থেকে যুক্তরাজ্যের সীমান্তরক্ষী বাহিনী এবং বিমানবন্দর কর্র্তৃপক্ষ তিন হাজারের বেশি প্রাণী উদ্ধার করে চিড়িয়াখানায় পাঠিয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত