হাইকোর্টের অভিমত

গ্রামীণ টেলিকমের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত হওয়া উচিত

আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০২২, ০২:৫২ এএম

গ্রামীণ টেলিকমের পরিচালনা পর্ষদ শ্রম আইন লঙ্ঘন করে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কল্যাণ ফান্ডের অর্থ শ্রমিক-কর্মচারীদের ট্রেড ইউনিয়ন ও আইনজীবীর ব্যাংক হিসেবে স্থানান্তরের যে অভিযোগ সেটি তদন্ত সাপেক্ষে উদঘাটন হওয়া উচিত বলে অভিমত দিয়েছে উচ্চ আদালত। বিষয়টি নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) যেহেতু কাজ করছে তাই এ বিষয়ে হাইকোর্ট হস্তক্ষেপ করবে না বলে মন্তব্য করেছে আদালত।

গ্রামীণ টেলিকমের চাকরিচ্যুত শ্রমিক-কর্মচারীদের পাওনা আদায়ের মামলায় আইনজীবী ইউসুফ আলীর ১৬ কোটি টাকা ফি নেওয়া এবং শ্রমিকদের থেকে পাওয়া অন্যান্য খরচ বাবদ আরও ১০ কোটি টাকা ব্যয়সংক্রান্ত প্রতিবেদন গতকাল বৃহস্পতিবার বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের একক হাইকোর্ট বেঞ্চে দাখিল করা হয়। প্রতিবেদনের ওপর শুনানি শেষে এমন অভিমত ব্যক্ত করে হাইকোর্টের এই কোম্পানি বেঞ্চ। আইনজীবী ইউসুফ আলীর পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম। গ্রামীণ টেলিকমের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মেহেদী হাছান চৌধুরী।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, কর্মচারীদের অংশগ্রহণ তহবিলের অংশ হিসেবে গ্রামীণ টেলিকম থেকে পাওয়া ৪৩৭ কোটি টাকা থেকে আইনজীবী ফি এবং বিবিধ ব্যয় বাবদ ২৬ কোটি ২২ লাখ ৬ হাজার ৭৮০ টাকা খরচ হিসেবে কেটে নেওয়া হয়েছে। গ্রামীণ টেলিকম ও কর্মচারীদের ২৪৩টি মামলা পরিচালনার জন্য আইনজীবী ফি নেওয়া হয়েছে ১৬ কোটি টাকা। বাকি ১০ কোটি ২২ লাখ ৬ হাজার টাকা অন্যান্য খরচ বাবদ ব্যয় হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মেহেদী হাছান চৌধুরী শুনানিতে বলেন, শ্রমিক-কর্মচারীদের পাওনা গ্রামীণ টেলিকম পরিশোধ করেনি। শ্রম আইন লঙ্ঘন করে গ্রামীণ টেলিকমের পরিচালনা পর্ষদ গ্রামীণ নিটওয়্যারসহ বিভিন্ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানে ৩ হাজার ৯ কোটি টাকা পাচার করেছে। ইতিমধ্যে দুদক বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছে। শুনানিতে গ্রামীণ টেলিকমের আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, দুদক ইতিমধ্যে গ্রামীণ টেলিকমকে যাবতীয় লেনদেনের বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে বলেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত