সমাবেশে সিপিবি

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি প্রত্যাহার না হলে হরতাল

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০২২, ০১:০৭ এএম

জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি গণবিরোধী সিদ্ধান্ত বলে মনে করেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) নেতারা। তারা বলছেন, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না করা হলে সিপিবি জেলা-উপজেলায় ঘেরাও, অবরোধ ও প্রয়োজনে হরতালের মতো কর্মসূচি নিতে বাধ্য হবে।

গতকাল শনিবার জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে রাজধানীর পুরানা পল্টনে এক সমাবেশে সিপিবি নেতারা এ কথা বলেন।

সিপিবির সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, ‘এই সরকার অগণতান্ত্রিক এবং জুলুমে দেশ চালাচ্ছে। বর্তমানে আওয়ামী লীগ সিন্ডিকেটের এবং লুটেরাদের সরকার। পার্লামেন্টের ৬২ শতাংশ ব্যবসায়ী সদস্য, তারা নিজ নিজ শ্রেণিস্বার্থে, ব্যবসায়ীদের স্বার্থে দেশ পরিচালনা করছে। বাজার অর্থনীতির বিপরীতে জনগণের অর্থনীতিতে দেশ পরিচালনা করা না গেলে দেশের অবস্থা আরও শোচনীয় হবে। ব্যবস্থা বদল করে তীব্র গণসংগ্রামের মধ্য দিয়ে জনগণের বিকল্প শক্তি গড়ে না তোলার কোনো বিকল্প নেই।’

সমাবেশে সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ‘ডিজেল, কেরোসিনসহ জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি সরকারের পক্ষে অপরাধমূলক কাজ। তেলের দাম বাড়লে যাতায়াতসহ সব কিছুর দাম বাড়বে। অর্থনীতিতে চাপ পড়বে। জনজীবন বিপর্যস্ত হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্ববাজারে দাম কমার পর জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি করে এই লুটেরাদের সরকার ক্ষমতায় থাকার নৈতিক অধিকার হারিয়েছে। জনস্বাথের্র কথা ন্যূনতম বিবেচনা করতে ব্যর্থ এই সরকারের উচিত ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়া। এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না করলে সিপিবি জেলা-উপজেলায় ঘেরাও, অবরোধ ও প্রয়োজনে হরতালের মতো কর্মসূচি নিতে বাধ্য হবে।’

দলটির সহ-সাধারণ সম্পাদক মিহির ঘোষ বলেন, ‘সরকার গ্যাস, তেল, সার, কেরোসিন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি করে দেশকে নজিরবিহীন বিপদের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা আজ হুমকির মুখে। মধ্যরাতের সরকার মধ্যরাতেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে জনগণের জীবনযাত্রাকে অসহনীয় করে তুলছে।’

সমাবেশে সিপিবির কেন্দ্রীয় সদস্য কমরেড অধ্যাপক এম এম আকাশ বলেন, ‘বাংলাদেশে টাকার এখনো গুরুতর সংকট হয়নি। লুটেরাদের আর পাচারকারীদের কাছ থেকে টাকা আদায় করে দেশ পরিচালনা করুন। আইএমএফের কাছ থেকে ধার করে দেশকে বিপদে ফেলার কোনো নৈতিক অধিকার আপনাদের নেই।’

কেন্দ্রীয় সদস্য কমরেড সাজ্জাদ জহির চন্দন বলেন, ‘গণবিরোধী সরকার তার গণবিরোধী কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। এই সিদ্ধান্তে জনগণের ন্যূনতম সমর্থন নেই। এই গণবিরোধী সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র লড়াই গড়ে তোলার আহ্বান জানাই।’

সমাবেশ থেকে জ্বালানি তেল, সারের দাম না কমানো পর্যন্ত সারা দেশে সভা-সমাবেশ বিক্ষোভ অব্যাহত রাখতে ও ঘেরাও-অবরোধ-হরতাল সংঘটিত করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়। একই দাবিতে গতকাল অন্তত ২৫টি জেলায় সিপিবির নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত