জিম্বাবুয়ের ৪, বাংলাদেশের ০। মনে হতে পারে ফুটবল ম্যাচের স্কোরলাইন। কিন্তু না, এটা চলতি ওয়ানডে সিরিজে দুই দলের সেঞ্চুরির হিসাব। কাল জিম্বাবুয়ের কাছে ৯ বছর পর সিরিজ হারের হতাশা আর লুকিয়ে রাখতে পারেননি বাংলাদেশ অধিনায়ক তামিম ইকবাল। তার মুখে শোনা গেল সেঞ্চুরি না পাওয়ার আক্ষেপ। দুই ম্যাচে জিম্বাবুয়ে মোট চার সেঞ্চুরি এসেছে, অথচ বাংলাদেশের একটিও না।
সিরিজের দুই ম্যাচে জিম্বাবুয়ের জয়ের নায়ক সিকান্দার রাজা করেছেন ১৩৫ ও ১১৭। দুই ম্যাচেই অপরাজিত থেকেছেন এই ব্যাটার। এ ছাড়া ইনোসেন্ট কাইয়া ১১০ ও গত ম্যাচে রেজিস চাকাভা করেন ১০২ রান। এদিকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান প্রথম ম্যাচে লিটন দাশের ৮১, গত ম্যাচে মাহমুদউল্লাহ করেন অপরাজিত ৮০ রান। এ ছাড়া বিজয় ৭৬ ও তামিম ইকবাল দুই ম্যাচে করেছেন হাফসেঞ্চুরি। দুই ম্যাচে একটিও সেঞ্চুরি না পাওয়ায় সিরিজ হেরেছেন বলে জানান তামিম, ‘আসলে দুই দলের মূল পার্থক্য হলো জিম্বাবুয়ে ৪ সেঞ্চুরি করেছেন আর আমরা একটিও না। হয়তো আমরা ভালো স্কোর তুলেছি বোর্ডে, কিন্তু ইনিংসে ভালো শুরু পেয়েও আমরা কেউ তা বড় স্কোরে নিতে পারিনি।’
দুই ম্যাচের উইকেট ছিল এক। কিন্তু চরিত্র ভিন্ন। প্রথম ম্যাচের উইকেট পুরোপুরি ব্যাটিং সহায়ক ছিল। তাতে রান তাড়া আরও সহজ হয়। কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচের উইকেট একটু ধীর ছিল। তাতে স্পিন ধরায় বাংলাদেশ স্পিনারদের জন্য আশার কথা ছিল। অথচ পেসারদের ব্যর্থতায় তা ভেস্তে যায়। শরিফুল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদ দুজনই রান দিয়েছেন বেশি। ৯ ওভারে শরিফুল দেন ৭৭ আর তাসকিন সমান ওভারে ৬২। উইকেট শুরুতে ভালো ছিল। স্পিনাররা আসার পর যখন ওরা ধীরে বল করা শুরু করল তখন সহজ ছিল না। বোলিংয়ে কিছু ভুল হয়েছে। আমরা পরিকল্পনা মতো বল করতে পারিনি। গত ম্যাচে ৩০০ বা এ ম্যাচে ২৯০ রান ভালো স্কোর, কিন্তু পরিকল্পনামাফিক বল করতে না পারলে ম্যাচ জেতা কঠিন। আর জিম্বাবুয়ে এ সিরিজে দারুণ খেলেছে। ওদের কৃতিত্ব দিতেই হবে।’
এদিকে সিরিজ জয়ের আনন্দে বাকরুদ্ধ হয়ে গেছেন সিকান্দার রাজা। নিজের প্রশংসা পাশে রাখলেও এই আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করতে পারছেন না এই ব্যাটার। টানা দুই সেঞ্চুরি ও গত ম্যাচে ৩ উইকেট নিয়ে ইতিমধ্যেই সিরিজ সেরার একমাত্র দাবিদার হয়ে গেছেন এই পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত। এই সিরিজ জয়ের কৃতিত্বটা কোচ ডেভ হটন ও বাকি সতীর্থদেরও দিলেন রাজা, ‘দেখুন ডেভ যখন আমাদের সঙ্গে যুক্ত হলো আমরা তখন থেকেই একটা বিরাট কিছু অর্জনের অভিযান শুরু করি। আজ সেই সাফল্যের আনন্দ আমি ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না। এই সাফল্য আমার জন্য খুবই আনন্দের। সঙ্গে রেজিস (চাকাভা) বা আজ টনি (মুনইওঙ্গা) যেভাবে খেলল; এর আগের ম্যাচে ইনোসেন্ট (কাইয়া) ও লুকের (জঙ্গে) ইনিংসগুলো মাত্র ২১ গজ দূর থেকে দেখাও বেশ আনন্দের ছিল। তাই এই সিরিজ জয়ে ওদেরও এই কৃতিত্ব প্রাপ্য।’
আর দুই দিন পর তৃতীয় ম্যাচ। ওই ম্যাচেই এমন কিছু পেতে চান রাজা। এই সাফল্য নিয়ে ২০২৩ বিশ্বকাপে পা রাখতে চান। রাজার স্বপ্ন এই তরুণ দলটিকে জয়ের মানসিকতায় অভ্যস্ত করা বিশ্বকাপের আগে। বাংলাদেশকে হোয়াইটওয়াশ করে সেই শুরুটা চান রাজা।
