জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে ডাকা সমাবেশে লাঠিচার্জের পর বামপন্থী ছাত্রসংগঠনগুলোর নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ।
সোমবার রাজধানীর শাহবাগ থানায় এই মামলা করা হয় বলে দেশ রূপান্তরকে নিশ্চিত করেছেন শাহবাগ থানার ওসি মওদুত হাওলাদার।
ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৩, ১৪৭, ১৪৯, ১৮৬, ৩৩২, ৩৩৩, ৩৫৩, ৩০৭ ও ১০৯ ধারায় করা এই মামলায় বাম ছাত্রসংগঠনের ২১ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ২০-৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
বেআইনি জনতাবদ্ধে দাঙ্গার উদ্দেশ্যে পূর্বপরিকল্পিতভাবে লাঠিসোঁটা, ইটপাটকেলসহ পুলিশের কাজে বাধা দেওয়া, হত্যার উদ্দেশ্যে আক্রমণ করে গুরুতর রক্তাক্ত ও হাড়ভাঙা জখমের অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, ২১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ২০-৩০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে৷ ছাত্র ইউনিয়নের একাংশের সহ-সভাপতি অনিক রায়কে এই মামলায় ১ নম্বর আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি মশিউর রহমান খান রিচার্ড, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি সাদেকুল ইসলাম সোহেল, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের সভাপতি আরিফ মঈনুদ্দীন, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সভাপতি সুনয়ন চাকমা, বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলনের সভাপতি তৌফিকা প্রিয়া, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের (মার্ক্সবাদী) ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জয়দীপ ভট্টাচার্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি সালমান সিদ্দিকী, ছাত্র ইউনিয়নের সদস্য শান্তা ও ছাত্র ফেডারেশনের জুবা মনি, সানি আবদুল্লাহ, জাবিল আহম্মেদ জুবেন, জাওয়াদ, বাঁধন, আদনান, শাহাদাত, ইভান, অনিক, দিয়া মল্লিক, তানজিদ ও তামজিদকে আসামি করা হয়েছে।
এজাহারে বলা হয়, শাহবাগ মোড়ে ডিএমপির রমনা অঞ্চলের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার হারুন অর রশীদ, সহকারী কমিশনার বায়েজীদুর রহমান, সহকারী কমিশনার (প্যাট্রল) বাহা উদ্দীন ভূঞা, শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মওদুত হাওলাদার, পরিদর্শক (নিরস্ত্র) গোলাম মোস্তফা পুলিশ বাহিনীকে নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করছিলেন। রবিবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার সময় জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে প্রগতিশীল ছাত্রসংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা বিনা অনুমতিতে বেআইনিভাবে শাহবাগ মোড়ের পাকা রাস্তার ওপর বিক্ষোভ সমাবেশ করার নামে রাস্তা অবরোধের চেষ্টা করেন। পুলিশ তাদের রাস্তার যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার অনুরোধ করে। কিন্তু আসামিরা অনুরোধ ও নিষেধ অমান্য করেন।
এজাহারে থাকা আসামিরা মিছিল ও স্লোগানের মাধ্যমে হাতে লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেলসহ ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। পুলিশ তাদের রাস্তা থেকে সরে যেতে অনুরোধ করে৷
এজাহারে বলা হয়, বিক্ষোভকারীদের পুলিশ থামানোর চেষ্টা করে। কিন্তু বিক্ষোভকারীরা লাঠিসোঁটা ও ইটের টুকরা দিয়ে পুলিশকে হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত করে মারধর করেন। আসামিদের লাঠির আঘাতে রমনা অঞ্চলের সহকারী কমিশনার বায়েজীদুর রহমান, সহকারী কমিশনার (প্যাট্রল) বাহা উদ্দীন ভূঞা আহত হন।
মামলার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মওদুদ হাওলাদার বলেন, গত রবিবার শাহবাগে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলার বাদী থানার উপ-পরিদর্শক পলাশ সাহা।
শুক্রবার মধ্যরাত থেকে ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রলের ও অকটেনের দাম বাড়ায় সরকার। এর প্রতিবাদে রবিবার বামপন্থি কয়েকটি ছাত্র সংগঠনের নেতা-কর্মীরা রাজধানীর শাহবাগের বিক্ষোভ করেন। এ সময় পুলিশের সঙ্গে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে লাঠিচার্জ করে পুলিশ। এতে বামপন্থী ছাত্রসংগঠনের প্রায় ২৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়।
