টাকা আত্মসাৎ করে সাবেক অধ্যক্ষের তালবাহানা

আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০২২, ০১:৫০ এএম

টাঙ্গাইলের বাসাইল ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ড. মো. হাবিবুর রহমানের দীর্ঘ দিন ধরে চলে আসা অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা মিলেছে। প্রায় পাঁচ ধরে করা কলেজের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষায় দেখা গেছে, হাবিবুর রহমান ৪৬ লাখ ৬৪ হাজার ৪১৭ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। কলেজ কর্র্তৃপক্ষ অর্থ ফেরত চাওয়ায় তিনি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন দপ্তরে নামে-বেনামে মনগড়া নানা অভিযোগ দিচ্ছেন। 

কলেজের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা বলছেন, তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় বর্তমানে তিনি বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে মন্ত্রণালয় ও ডিজির কাছে মনগড়া অভিযোগ দিচ্ছেন। এতে কলেজ পরিচালনায় নানা প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

গত ১২ জুন প্রকাশিত কলেজের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা প্রতিবেদন মতে, অডিট না করিয়ে নানাভাবে কলেজের ৪৬ লাখ ৬৪ হাজার ৪১৭ টাকা সাবেক অধ্যক্ষ ড. মো. হাবিবুর রহমান আত্মসাৎ করেছেন মর্মে প্রতীয়মান হয়েছে। কলেজ কর্র্তৃপক্ষ ওই আত্মসাৎ করা টাকা ফেরত চেয়ে মো. হাবিবুর রহমানকে একাধিকবার চিঠি দিলেও তিনি ওই চিঠি গ্রহণ করেননি এবং কোনো উত্তরও দেননি।

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়, কলেজের আয়-ব্যয়ের হিসাব নির্ধারিত রেজিস্টারে যথাসময়ে লেখার নিয়ম থাকলেও ২০০৮ সালে যোগদানের পর থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত অধ্যক্ষ মো. হাবিবুর রহমান তা করেননি। ২০১৫ সালে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অসদাচরণ, স্বেচ্ছাচারিতা ও আর্থিক কেলেঙ্কারির বিষয়ে তৎকালীন কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতির কাছে ৩২ জন শিক্ষক-কর্মচারী একটি লিখিত অভিযোগ দেন। এরপর অধ্যক্ষ যোগদানের পর থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ৮ বছরের হিসাব একসঙ্গে ক্যাশ বইয়ে লেখেন। তখনো তিনি আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়মিত সংরক্ষণ না করে অর্থ আত্মসাতের প্রয়াস পান।

২০২০ সালে কলেজের গভর্নিং বডির সাবেক অভিভাবক সদস্য আলমগীর হোসেন আবার অধ্যক্ষের আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি ও দুর্ব্যবহারের বিষয়ে জাতীয় বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দেন। ২০২১ সালে তিনি বাধ্য হয়ে ২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত আয়-ব্যয়ের হিসাব ক্যাশ বইয়ে লেখেন। কিন্তু আয়-ব্যয়ের হিসাবে গরমিল দেখা দেওয়ায় তিনি ব্যাকডেটে ভাউচার তৈরি করে তা সমন্বয় করার চেষ্টা করেন। তিনি ২০২০ সালের ২৩ নভেম্বর সর্বশেষ কলেজ গভার্নিং বডির সভা করেন এবং অবসরে যাওয়ার আগে এক বছরের মধ্যে কলেজ গভর্নিং বডির কোনো সভা করেননি। এ ছাড়া ১৩ বছরের অধিককাল সময়ে কোনো ধরনের অডিট করাননি। শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা জাতীয় বিশ^বিদ্যালয়ের প্রতিনিধি দিয়েও কোনো অডিট করাননি।

এসব অভিযোগের বিষয়ে ড. হাবিবুর রহমান মোবাইল ফোনে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি দীর্ঘ ৯ মাস আগে অবসরে গিয়েছি। এ সময় আমার কাছে কেউ চার্জ বুঝে নেয়নি। আত্মসাৎ বা অনিয়মের কোনো বিষয়ই সত্য নয়। যদি অনিয়মের কোনো বিষয় থাকে তাহলে ডিজি বা অধিদপ্তর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।’

কলেজের গভর্নিং বডির বর্তমান সভাপতি কাজী অলিদ ইসলাম বলেন, ‘আমি সভাপতি হয়ে আসার আগে অ্যাডহক কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কলেজের অভ্যন্তরীণ অডিটের নির্দেশনা দেন। বাসাইল উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের অ্যাকাডেমিক সুপারভাইজারের নেতৃত্বে পাঁচ মাস ধরে অডিট চলে। তাতে সাবেক অধ্যক্ষ ড. হাবিবুর রহমানের টাকা আত্মসাতের বিষয়টি উঠে এসেছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত