শাসকগোষ্ঠী আদিবাসীদের বিলুপ্ত করতে চায়: সন্তু লারমা

আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০২২, ০৬:০৩ পিএম

স্বাধীনতার পর যারাই ক্ষমতায় এসেছেন তারা কেউ ক্ষুদ্র জাতিসত্তার মানুষের স্বার্থ দেখেনি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা)।

তিনি বলেন, শাসকগোষ্ঠী সব সময় চায় আদিবাসীদের অস্তিত্ব যাতে চিরতরে বিলুপ্ত হয়, সেই চেষ্টাই তারা করে গেছেন। এখন সেই চেষ্টার আর কতটুকু বাকি আছে, প্রশ্ন সন্তু লারমার।

মঙ্গলবার (০৯ আগস্ট) আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উপলক্ষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত এক কর্মসূচিতে তিনি এসব কথা বলেন। এই কর্মসূচির আয়োজন করে বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম।

তিনি বলেন, ১৯৭২ সালে সংবিধান রচনার মাধ্যমে আদিবাসীদের পরিচয় হরণ করা হয়েছিল। বলা হয়েছিল-সবাই বাঙালি। এর মাধ্যমে আদিবাসীদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে এখন সামরিক শাসন চলছে। আদিবাসীদের অস্তিত্ব বিলুপ্ত করার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। এমন কোনও পরিবার নেই যে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না।

সন্তু লারমা বর্তমান সরকারকে দুর্নীতিগ্রস্ত এবং সাম্প্রদায়িক হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, সরকার উন্নয়নের গালভরা বুলি দিচ্ছে। কিন্তু পাহাড়ি বা সমতলে উন্নয়ন কার জন্য হচ্ছে? উন্নয়নের নামে আসলে ক্ষুদ্র জাতিসত্তার মানুষের অস্তিত্ব বিলুপ্ত করার চেষ্টাই চলছে। পাহাড়ের রাস্তাঘাট করা হচ্ছে পর্যটনের জন্য। এতে পাহাড়ি মানুষের কোনো স্বার্থ নেই।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন নাট্যকার মামুনুর রশীদ। তিনি বলেন, শান্তি চুক্তির পরিণতি এখনও দৃশ্যমান হয়নি। সমতলে আদিবাসী হত্যার বিচার হয়নি। আদিবাসী বলা যাবে না বলে যে সার্কুলার জারি করা হয়েছিল তারা কারা? তারা বলছে আদিবাসীর সংখ্যা কমছে। কিন্তু আদিবাসীর সংখ্যা কমছে না, এরা লুণ্ঠিত হয়ে চলে গেছে। 

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, আদিবাসীর পরিবর্তে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী শব্দের ব্যবহারকে ‘অবমাননাকর’। আদিবাসীদের সমস্যা সামাজিকভাবে সমাধান করা সম্ভব নয়। তাদের সমস্যা সমাধান করতে হবে রাজনৈতিকভাবে। এজন্য শান্তি চুক্তি করতে হবে। 

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের নেতারাসহ বিশিষ্টজনরা। এদিকে আদিবাসী দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ আদিবাসী কালচারাল ফোরামের উদ্যোগে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠান শেষে র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি শহীদ মিনার থেকে দোয়েল চত্ত্বর, টিএসসি হয়ে আবার শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত