বিপিসির ব্যাখ্যা

মুনাফার অর্থ খরচ হচ্ছে উন্নয়ন প্রকল্পে

আপডেট : ১১ আগস্ট ২০২২, ০১:৫৪ এএম

গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ ও দেশের অর্থনীতিবিদরা প্রশ্ন তুলেছিলেন ৭ বছরে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) প্রায় ৪৭ হাজার কোটি টাকা লাভ করেছে, সে টাকা গেল কোথায়? এ প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান এ বি এম আজাদ। তিনি দাবি করেন, বিপিসি ব্যাংকে রাখা স্থায়ী আমানত ভেঙে জ্বালানি আমদানি করেছে। ডিজেলের দর লিটারে ৩৪ টাকা বাড়ানোর পরও তাদের লোকসান হচ্ছে। এ ছাড়া মুনাফার অর্থ ব্যবহার করা হচ্ছে উন্নয়ন প্রকল্পে।

গতকাল বুধবার জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংস্থার চেয়ারম্যান এসব কথা জানান।

২০১৪ সাল থেকে টানা সাত বছর বিপিসির যে পরিমাণ মুনাফা হয়েছে, তার আগের ১৪ বছরে এর চেয়ে বেশি লোকসান ছিল বলে জানান বিপিসি চেয়ারম্যান আজাদ। তিনি বলেন, মুনাফার টাকায় আগের লোকসান সমন্বয় করা হয়েছে।

তেলের দাম রেকর্ড পরিমাণ বাড়ানোর পর বিপিসির ২০১৪ সালের পর থেকে মুনাফায় থাকা, বিভিন্ন ব্যাংকে তাদের বিপুল পরিমাণ স্থায়ী আমানতের বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার পর এ নিয়ে তুমুল আলোচনার মধ্যে গতকাল বিকেলে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন বিপিসি চেয়ারম্যান।

গত ৫ আগস্ট মধ্যরাত থেকে সরকার ডিজেল ও কেরোসিনের দর লিটারে ৩৪ টাকা বাড়িয়ে ১১৪ টাকা নির্ধারণ করে। অকটেন প্রতি লিটার ৮৯ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ ও পেট্রোল ৮৪ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

দাম বাড়ানোর ব্যাখ্যায় সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ার কারণে বিপিসির বিপুল পরিমাণ লোকসান হচ্ছিল। গত কয়েক মাসে লোকসান ৮ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ায় দাম বাড়ানোর বিকল্প নেই।

বিপিসি চেয়ারম্যান জানান, ১৯৯৯-২০০০ অর্থবছর থেকে ২০১৩-১৪ অর্থবছর পর্যন্ত জ্বালানি খাতে ক্রমাগত লোকসান গুনতে হয়। যার পরিমাণ প্রায় ৫৩ হাজার ৫ কোটি টাকা। ফলে ভর্তুকি হিসেবে সরকার বিভিন্ন সময় বিপিসিকে ৪৪ হাজার ৮৭৭ কোটি টাকা দেয়। ফলে সাত বছরে মুনাফা করলেও ওই সময়ে আরও ৮ হাজার ১২৭ কোটি টাকার ঘাটতি ছিল, যা পরে বিপিসির মুনাফার সঙ্গে সমন্বয় করা হয়।

ব্যাংকে স্থায়ী আমানতের বিষয়ে এ বি এম আজাদ বলেন, বর্তমানে প্রায় সব স্থায়ী আমানত ভেঙে বিপিসিকে আমদানি ব্যয় মেটাতে হচ্ছে। তেলের আমদানি ব্যয় নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বর্তমান দরে ডিজেল বিক্রি করে তাদের লিটারে লোকসান হচ্ছে ৬ টাকা। তবে অকটেনে মুনাফা হচ্ছে ২৫ টাকা। আগস্টের প্রথম সপ্তাহে প্রতি লিটার ডিজেলে ১২০ টাকা খরচ হচ্ছে বিপিসির।

বিপিসি প্রধান বলেন, ‘২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে আমাদের প্রতি ব্যারেল ডিজেল কেনার খরচ পড়ত ৯৬ দশমিক ৯৫ ডলার। প্রতি লিটারে আমরা যখন এটাকে কস্টিং করি, তখন প্রতি লিটার পড়ে ৮৩ টাকা ৬ পয়সা। ওই সময়ে বিপিসি বিক্রি করত ৮০ টাকা করে। সেখানে লিটারে ৩ টাকার মতো লোকসান ছিল। ফেব্রুয়ারিতে আন্তর্জাতিক বাজারে যখন প্রতি ব্যারেল ১০৮ ডলার ৫৫ সেন্ট, সেটাকে টাকায় প্রতি লিটারে কনভার্ট করলে হয় ৮৯ টাকা ৮৫ পয়সা। তখনো বিপিসি বিক্রি করেছে ৮০ টাকা লিটার। যে কারণে ওই মাসে ৯ টাকার মতো লোকসান গুনতে হয়েছে।’ জুলাই মাসের হিসাব দিয়ে তিনি বলেছেন, ওই মাসে প্রতি লিটারে লোকসান এসে দাঁড়িয়েছিল ৪২ টাকা ১৩ পয়সা।

ব্যাংকের স্থায়ী আমানতে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে দাবি করে আজাদ বলেন, ব্যাংকে বিপুল পরিমাণ স্থায়ী আমানত উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের স্বার্থে করা হয়েছে। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৩৪ হাজার ২৬১ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে ১১টি প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। এর মধ্যে আছে ইস্টার্ন রিফাইনারির পরিশোধন ক্ষমতা বাড়ানো। এতে ব্যয় হবে ১৯ হাজার কোটি টাকার বেশি। এটি বিপিসির নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়ন করতে হবে। বিপিসির অর্থ কোনো না কোনো ব্যাংকের হিসাবের বিপরীতে রাখতে হয়। প্রকল্পের যে অর্থগুলো, সেগুলো প্রকল্পের নামে স্থায়ী আমানত খুলে রাখা হয়।

জ্বালানির দর বৃদ্ধি এই উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য বাড়ানো হয়নি বলেও জানান তিনি। দেশে উৎপাদন হলেও পেট্রোল ও অকটেনের দাম বাড়ানোর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ক্রুডের কারণে পেট্রোল ও অকটেনের দাম বাড়ে। সুতরাং পেট্রোল ও অকটেনের দাম কৌশলগত কারণে বাড়াতে হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত