অভিযুক্তের বাড়িতে মরদেহ রেখে ‘ঘুষের’ টাকা আদায়!

আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০২২, ০৫:৫৭ এএম

মাদ্রাসায় ছেলের চাকরির জন্য দুবছর আগে এক ব্যক্তিকে ১২ লাখ টাকা দিয়েছিলেন পঞ্চগড়ের দবিরুল ইসলাম প্রধান (৫৫)। কিন্তু দুবছরেও সেই চাকরি না হওয়ায় তিনি প্রতারিত হওয়ার বিষয়টি বুঝতে পারেন। ‘ঘুষ’ হিসেবে দেওয়া সেই টাকা ফেরত চান তিনি। তবে অভিযুক্ত জুলফিকার প্রধান গত মাসের শেষ দিকেও টাকা না দিয়ে দবিরুলকে লাঞ্ছিত করেন।  সেই ঘটনার পর অসুস্থ হয়ে পড়েন দবিরুল। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে মারা যান তিনি। পরে পরিবারের সদস্যরা দবিরুলের লাশ নিয়ে অবস্থান নেন জুলফিকারের বাড়িতে। আসেন জনপ্রতিনিধি ও পুলিশ কর্মকর্তারা। শেষে ৬ লাখ টাকা পরিশোধের শর্তে দবিরুলের লাশ নিয়ে যান স্বজনরা। 

চাঞ্চল্যকর এ ঘটনা ঘটেছে পঞ্চগড় সদর উপজেলার সাতমেরা ইউনিয়নের প্রধানপাড়া গ্রামে। দবিরুল ইসলামের স্বজনদের অভিযোগ, প্রতারিত হওয়ার হতাশা আর প্রতারক জুলফিকারের হুমকি-ধমকিতে মানসিক চাপ সইতে না পেরে দবিরুল মারা গেছেন।

সদর থানার ওসি আব্দুল লতিফ মিয়া জানান, বৃহস্পতিবার লাশ বাড়ি আনার পর পরিবারের সদস্যরা দবিরুলের মরদেহ নিয়ে জুলফিকারের বাড়িতে অবস্থান নিয়ে টাকা ফেরতের দাবি জানান। একপর্যায়ে জনপ্রতিনিধির হস্তক্ষেপে দবিরুলের পরিবারের সদস্যদের জুলফিকার এক লাখ টাকা নগদ এবং পাঁচ লাখ টাকার চেক দিলে বিষয়টির মীমাংসা হয়। তিনি বলেন, দবিরুলের পরিবারের হাতে নগদ এক লাখ টাকা এবং পাঁচ লাখ টাকার চেক দেন জুলফিকার। বাকি টাকা আগামী দুই মাসের মধ্যে পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেন।

লতিফ মিয়া জানান, মৃতদেহ নিয়ে গ্রামবাসীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হলে তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। দবিরুলকে দাফনের পর এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে।

মৃত দবিরুল প্রধানের ছেলে আব্দুস সবুর প্রধান বলেন, প্রধানপাড়া দারুল ফালাহ দাখিল মাদ্রাসায় লাইব্রেরিয়ান পদে তার ভাই জাহিরুল ইসলামের চাকরির জন্য দুই বছর আগে জুলফিকার আলী প্রধানকে তার চাওয়া অনুয়ায়ী ১২ লাখ দেন তার বাবা। জুলফিকার আলী প্রধান সে সময়ে ওই মাদ্রাসার সভাপতির পদে ছিলেন বলে জানান সবুর।

সবুর বলেন, মাসখানেক আগে তিনি বাবাকে জানিয়ে দেন নানা কারণে জাকিরুলের চাকরি হচ্ছে না। তাই গত ১৫ দিন আগে আমার বাবা ১২ লাখ টাকা ফেরত চাইলে জুলফিকার আর তার পরিবারে লোকজন তাকে নানাভাবে লাঞ্ছিত করে।

টাকার চিন্তায় আর তাদের অপমান সহ্য করতে না পেরে দবিরুল হৃদরোগে আক্রান্ত হন এবং মারা যান বলে সবুরের অভিযোগ।

দবিরুলের বড় ভাই বদিরুল ইসলামের দাবি, গ্রামের বাসিন্দারা শুরু থেকেই এই চাকরির বিষয়ে টাকা দেওয়ার ঘটনা জানেন। তাই তার ভাইয়ের মৃত্যুর পর এলাকার লোকজনও ক্ষুব্ধ হয়।

বদিরুল ইসলাম বলেন, বৃহস্পতিবার ভাই মারা গেলে তার লাশ নিয়ে জুলফিকারের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে পরিবারের সবাই মিলে অনশন করি। চাপের মুখে জুলফিকার নগদ এবং চেকে ছয় লাখ টাকা ফেরত দেয়। বাকি টাকা দুই মাসের মধ্যে ফেরত দেবে বলেও মুচলেকা দিয়েছে।

তবে সবুর বলেন, ছয় লাখ টাকা ফেরত দিতে রাজি হওয়ায় বাকি টাকা আমরা মাফ করে দিয়েছি। এ নিয়ে আমরা আর কোনো কথা বলতে চাই না।

এরপর বৃহস্পতিবার গভীর রাতে স্থানীয় ইউপি সদস্য হেলাল উদ্দিনের বাসায় বিষয়টি নিয়ে বৈঠকের পর দবিরুলের মৃতদেহ তার বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় এবং শুক্রবার সকালে স্থানীয় গোরস্তানে তাকে দাফন করা বলে জানান বদিরুল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত