টেকনাফের হ্নীলায় পাওনা টাকা চেয়ে জনপ্রতিনিধির কাছে নালিশ করায় দিনমজুর ভুলু মিয়া ও তার স্ত্রীকে বেধড়ক মারধর করে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী নুর মোহাম্মদের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত নুর হ্নীলা ইউনিয়নের মৌলভীবাজারের মরিচ্যাঘোনা এলাকার বাসিন্দা।
শনিবার (১৩ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে ভুলুর বাড়িতে হাজির হয়ে অতর্কিত মারধর শুরু করে নুর মোহাম্মাদ, এমনটাই জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
মারধরে আহত ভুলু মিয়া জানান, নুর মোহাম্মদ তার ছেলেকে বিদেশে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে এক লাখ ৪০ হাজার টাকা নেন। এছাড়াও নুরের কাছে কুরবানির গরু বিক্রির টাকাও পাবেন তিনি। কয়েক মাস ধরে ছেলের বিদেশযাত্রার কোনো ব্যবস্থা করতে না পারায় অভিযুক্তের কাছে টাকা ফেরত চান। তখন, টাকা না দিয়ে উল্টো হুমকি দেন নুর।
তিনি আরও জানান, বিষয়টি স্থানীয় ইউপি সদস্য বশির আহমদকে জানালে অভিযুক্ত নুর মোহাম্মদ মেম্বারের কথা পাত্তাই দেয়নি। তখন মেম্বারের পরামর্শমতে হ্নীলা ইউপি চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ আলীর কাছে পাওনা টাকা চেয়ে নালিশ করেন তিনি। আর এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে নুর মোহাম্মদ ও তার ভাতিজা ভুলুর বাড়িতে হাজির হয়ে ঘরের বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর এবং গরু বিক্রির টাকা লুট করে।
একইসঙ্গে, ভুলুকে বেধড়ক মারধর করতে থাকে। মারধরের দৃশ্য দেখে তার স্ত্রী দৌড়ে এলে তাকেও কিল ঘুষি মেরে গুরুতর আহত করে। আহতদের চিৎকারে পাশেরবাড়ির লোকজন ছুটে এলে নুর মোহাম্মদরা চলে দ্রুত চলে যায়। পরে স্থানীয়রা তাদেরকে উদ্ধার করে টেকনাফ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত নুর মোহাম্মদের প্রতিনিয়ত হুমকিতে আতংকে থাকা ভুলু আদালতে মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে ইউপি সদস্য বশির আহমদ জানান, ভুলু তার কাছে নালিশ করেছিলেন। টাকা পাওয়ার কথা সত্য। তবে অভিযুক্ত নুর মোহাম্মাদ বিচার না মানায় চেয়ারম্যানের কাছে বিচার চাওয়ার পরামর্শ দেন।
তবে, এ ব্যাপারে অভিযুক্ত নুর মোহাম্মদের সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করেন।
