পুরান ঢাকার চকবাজারের কামালবাগের দেবীদাস ঘাটের একটি ভবনে আগুনের ঘটনায় ছয়জনের লাশ উদ্ধার করে মিটফোর্ড (স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মর্গের সামনে নিখোঁজ কয়েকজনের ছবি নিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা গেছে স্বজনদের। পোড়া-গলা যাই হোক মৃতদেহ দেখে শনাক্ত করতে চাইছেন তারা।
মর্গে লাশ নিয়ে আসা ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যার হাউস পরিদর্শক ইউনুস আলী জানান, ঘটনাস্থলে তারা ৬টি লাশ পেয়েছেন। ৬টি লাশই মর্গে আনা হয়েছে। লাশগুলো পুড়ে বিকৃত হয়ে গেছে। কারো চেহারাই কোনোভাবে চিহ্নিত করার উপায় নেই। শরীরের বেশির ভাগ অংশই পোড়া।
এ পর্যন্ত তিনটি পরিবার দাবি করছে ৬টি লাশের মধ্যে ৩টি তাদের। এরা হলো: বেল্লাল (৩৫), রুবেল (৩২), ওসমান (২৫)। তারা তিনজন ভবনের নিচতলার বরিশাল হোটেলের স্টাফ। বেল্লালের গ্রামের বাড়ি বরিশালের মুলাদি থানায়, রুবেলের গ্রামের বাড়ি মাদারীপুরের কালকানী থানায় এবং ওসমানের গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুরের ঘোষের হাটে।
নিখোঁজ ওসমানের বোন জামাই মো. আরিফ দাঁড়িয়ে আছেন মর্গের সামনে। আরিফের সাথে কথা বলে জানা যায়, ওসমান দীর্ঘ ৬/৭ বছর ধরে কাজ করে এই হোটেলটিতে। গ্রামের বাড়ি গোসের হাটের দক্ষিণ বড় কাছনা গ্রামে। ওসমানের মা বেঁচে নেই। বাবা মো. আবুল কালাম গ্রামে কৃষি কাজ করেন। তিন ভাই তিন বোনের মধ্যে ওসমান মেজো। দৈনিক ৫৫০ টাকা হাজিরায় হোটেলে কাজ করে সে। অভাবের তাড়নায় হোটেলে রুটির কারিগর হিসাবে কাজ করতো সে। গত পরশু দিনই শেষ বারের মতো কথা হয়েছে পরিবারের সাথে। এরপরে আর কথা হয়নি। ওই কথাই শেষ কথা। আরিফের পাশে দাঁড়িয়ে কাঁদছেন ওসমানের স্বজনরা। ঘটনার পর থেকে ওসমানের আর কোনো খবর পাননি তারা। সকাল থেকে ফোনও বন্ধ ওসমানের। তারা ধারণা করছেন ৬টি লাশের মধ্যই ওসমানের লাশও রয়েছে।
আরিফ আরো জানায়, বিকাল থেকে এখানে দাঁড়িয়ে আছি, আমাদের লাশ কখন বুঝিয়ে দেয়া হবে, ডিএনএ টেস্ট করা হবে কি না? কিছুই বুঝতে পারছি না। কী করবো? মাথায় কিছু কাজও করছে না।
ওসমান আর বেল্লালের পরিবারের মতো কাঁদছে নিখোঁজ রুবেলের ছোট ভাই শামীম। গতকালই শেষ বারের মতো কথা হয়েছে ভাইয়ের সাথে। সেও জানে না এই ছয়টি লাশের মধ্যে তার নিখোঁজ ভাইয়ের লাশ রয়েছে কি না?
