প্রয়োজনে ওপেন করবেন সাকিব

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০২২, ১২:৩৭ এএম

জিম্বাবুয়ে সিরিজের দলে ৫ ওপেনার ছিলেন। তার আগেও কখনই তিন ওপেনারের নিচে ছিল না বাংলাদেশ দলে। এমনিতেও দলে তিনজন ওপেনার রাখতেই হয়। যে কোনো সিরিজে বা টুর্নামেন্টে দুই ওপেনার থাকবেন নিয়মিত। কিন্তু একজন চোটে পড়লে বা খুব বাজে সময় পার করলে তার বদলে রিজার্ভ ওপেনার খেলতে পারেন। কিন্তু এশিয়া কাপ ২০২২ এর দলে মাত্র দুজন ওপেনার রেখেছে বাংলাদেশ। এনামুল হক বিজয় ও পারভেজ হোসেন ইমন ছাড়া স্বীকৃত ওপেনার নেই একজনও। তবে কাল খালেদ মাহমুদ সুজন জানালেন ওপেনার আছেন। প্রয়োজনে সাকিব আল হাসান ওপেন করবেন, নয়তো মেহেদী হাসান মিরাজ, শেখ মাহেদীও আছেন।

গত শনিবার এশিয়া কাপের দল ঘোষণা করে বাংলাদেশ। ১৭ জনের দলে মিডলঅর্ডার ও বোলারদের আধিক্য আছে। আছেন অলরাউন্ডারও। গত সিরিজ থেকে মুনিম শাহরিয়ার, নাজমুল হোসেন শান্ত বাদ পড়েছেন আর লিটন দাশ ইনজুরিতে পড়ায় পরীক্ষিত ওপেনার নেই দলে। এই তিনজনের না থাকায় নাঈম শেখ ও সৌম্য সরকারের কপাল খুলছিল বলে গুঞ্জন ওঠে। কিন্তু এ দুজনই নির্বাচকদের চিন্তার বাইরে থাকলেন।

পরিকল্পনা এমন বদলে যাওয়ার কারণ ভিন্ন। ওপেনিংয়ে জোর না দিয়ে বাংলাদেশ অলরাউন্ডারদের ওপর জোর দিচ্ছে। যেন একজন বাড়তি বোলার একাদশে থাকেন। আর এমনিতে ইমন ও বিজয় তো থাকবেনই। তাদের ইনজুরি হলে তখন বিকল্প চিন্তা বলে জানান টিম ডিরেক্টর সুজন, ‘স্বীকৃত ওপেনার বিজয় ও ইমন। তবে অন্য অনেকেই আছে যারা লোকাল ক্রিকেটে ওপেনিং করেছে। মুশফিক হতে পারে, সাকিবও হতে পারে। মিরাজও হতে পারে, শেখ মাহেদীও ওপেনার হতে পারে। অনেক গুলো অপশন আছে আমাদের হাতে।’

সুজনের বলা ক্রিকেটারদের মধ্যে আন্তর্জাতিকে ইনিংস শুরুর অভিজ্ঞতা আছে সবারই। তবে কেউই ২ ম্যাচের বেশি নন। সর্বোচ্চ ২ ম্যাচ ওপেন করতে নেমেছেন মুশফিকুর রহিম। একটি ২০০৯ সালে জিম্বাবুয়েতে, অপরটি ২০১৯ এ আফগানিস্তানের বিপক্ষে মিরপুরে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডেতে ৯৮ রান করলেও আফগানদের সঙ্গে টি-টোয়েন্টিতে মাত্র ৫ রান করেন মুশফিক। সাকিব সবশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে উইন্ডিজের বিপক্ষে ওপেন করে মাত্র ৯ রানে ফেরেন। শেখ মাহেদী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে গত বছরের হোম সিরিজে এক ম্যাচ ওপেন করে ১৩ রান করেছিলেন। আর সবচেয়ে ভালো করেছেন মিরাজ। ২০১৮ এশিয়া কাপ ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে ওপেন করে ৩২ রান করেন এই অলরাউন্ডার। বিকল্প ওপেনার হিসেবে মিরাজের সাফল্যের পাল্লা সবচেয়ে ভারী। বিপিএলে ওপেনার হিসেবে দারুণ কীর্তি আছে তার। টি-টোয়েন্টিতে তার ক্যারিয়ার সেরা অপরাজিত ৮৭ রানও এসেছে ওপেনার হিসেবেই।

সাকিবকে আবার নেতৃত্বে ফেরানোর ব্যাপারটিও বিসিবির পরিকল্পনার অংশ বলে জানান সুজন। আর এখানে মাহমুদউল্লাহর রক্ষণাত্মক কৌশলের দিকটি এসেছে। সুজন জানান মাহমুদউল্লাহর চেয়ে সাকিব বেশি আক্রমণাত্মক। তাই দেশের ক্রিকেটের স্বার্থে সাকিবের হাতেই নেতৃত্ব দেওয়া হয়েছে, ‘সাকিব একটু আগ্রাসী অধিনায়ক। সুতরাং আমরা ওরকম ক্রিকেট খেলতে চাই (এশিয়া কাপে)। আমি বলছি না যে বাংলাদেশ হুট করে বদলে গিয়ে এশিয়া কাপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে যাবে। বোর্ডের একটা অবস্থান ছিল যে সাকিব যেহেতু এই ফরম্যাটে বেশি অভিজ্ঞ, ওর অনেক ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলার অভিজ্ঞতা আছে। ওর পারফরম্যান্স সব মিলিয়ে আমাদের মনে হয়েছে সেই-ই সেরা পছন্দ সত্যি কথা বলতে গেলে। বিষয়টা এমন না যে রিয়াদ খারাপ, তবে হয়তো রিয়াদের চেয়ে সাকিবকে সেরা বিকল্প মনে হয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত