মির্জাপুরের আজগানা ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র

ভবন পরিত্যক্ত ১০ বছর সেবা চলছে ঝিমিয়ে

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০২২, ১১:৪৩ পিএম

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের পাহাড়ি এলাকা আজগানা ইউনিয়নের মানুষের জন্য সরকারি স্বাস্থ্য সেবা পাওয়ার প্রধান উপায় হচ্ছে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র। স্বাস্থ্য কেন্দ্রটির মূল ভবন ও চিকিৎসক কর্মচারীদের আবাসিক ভবন ১০ বছর ধরে পরিত্যক্ত রয়েছে। টিনশেড ঘরে ১০ বছর ধরে চলছে এই কেন্দ্রের কার্যক্রম।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইউনিয়নের ১০টি গ্রামের লোকসংখ্যা প্রায় ৪৫ হাজার। তাদের জন্য সরকারি স্বাস্থ্যসেবার উৎস হচ্ছে কয়েকটি কমিউনিটি ক্লিনিক এবং ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র। উপজেলা সদর থেকে এই ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র্রের দূরত্ব ১০ কিলোমিটার এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ১৮ কিলোমিটার। এ অবস্থায় ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকেই ওই এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া সহজ।

ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সাল থেকে কেন্দ্রটির মূল ভবন ও চিকিৎসক কর্মচারীদের আবাসিক ভবন পরিত্যক্ত রয়েছে। সেবা কার্যক্রম চালানোর জন্য পাশেই নির্মাণ করা হয়েছে দুই কক্ষবিশিষ্ট একটি চারচালা টিনশেড ঘর। যেখানে ফার্মাসিস্ট ও আয়া নেই। সপ্তাহে তিনদিন পিয়ন থাকেন না। মাঠকর্মীরও সংকট রয়েছে। পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা (ভিজিটর) শারীরিক অসুস্থতার জন্য নিয়মিত যেতে পারেন না। স্থানীয়রা জানান, এতসব সমস্যার মধ্যে ঝিমিয়ে চলছে এই কেন্দ্রের সেবা কার্যক্রম। ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র থেকে যে ধরনের স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হয় আজগানাতে এর অনেকগুলো সম্ভব হচ্ছে না পাকা ভবন ও জনবল সংকটের কারণে।

কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (সাকমো) ডা. রণজিত তরফদার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মূল ও আবাসিক ভবন না থাকা এবং জনবল সংকটের কারণে সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। মহিলাদের স্বাভাবিক প্রসব এবং জরুরি অনেক সেবা টিনের ঘরের কারণে সম্ভব হচ্ছে না।

উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মেডিকেল অফিসার ডা. সুহেলী শারমিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, নতুন ভবন নির্মাণের প্রক্রিয়া অনেক দূর এগিয়ে যাওয়ার পর মহামারী করোনার কারণে তা পিছিয়ে যায়। বর্তমানে করোনা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকায় প্রক্রিয়াটি আবার এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত