চীনের শিনজিয়াং অঞ্চলে বিভিন্ন ক্যাম্পে বন্দি উইঘুর মুসলমানদের বড় অংশ। তাদের ওপর কাঠামোগত নির্যাতন চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ মানবাধিকার সংগঠনগুলোর। সন্তানের মঙ্গল কামনায় তাদের তুরস্কে পাঠাতে বাধ্য হচ্ছেন উইঘুররা। সেখানে নিজস্ব সংস্কৃতি, ভাষা, ইতিহাস নিয়ে পড়াশোনা করছে মা-বাবার সান্নিধ্য থেকে বঞ্চিত এই শিশুরা। লিখেছেন তৃষা বড়ুয়া
দেশে ফেরার আশা
আব্দুল্লাহ আব্দুজায়ির। বয়স ১৪। থাকে তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরে। সেখানে এক স্কুলে পড়াশোনা করে সে। প্রায় সাত বছর সে তার মা-বাবাকে দেখেনি। কারণ তারা তার সঙ্গে থাকেন না। তুরস্ক থেকে অনেক দূরে চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শিনজিয়াং অঞ্চলে বন্দি আব্দুল্লাহর মা-বাবা। তাদের অপরাধ, তারা দেশটির সংখ্যালঘু মুসলমান উইঘুর সম্প্রদায়ের মানুষ। আব্দুল্লাহ ইস্তাম্বুলে যে স্কুলের শিক্ষার্থী, সেটিতে তার মতোই উইঘুর সম্প্রদায়ের দেড়শোর বেশি ছেলেমেয়ে পড়াশোনা করে। এজন্য স্থানীয়রা এই স্কুলের নাম দিয়েছে উইঘুর স্কুল। আব্দুল্লাহ বলে, ‘আমি শুনেছি আমার বাবা জেলে আর মা ক্যাম্পে বন্দিজীবন কাটাচ্ছেন। ২০১৫ সালের পর তাদের সঙ্গে আমার আর যোগাযোগ হয়নি। মা-বাবা আমার সঙ্গে এখানে থাকলে খুব ভালো হতো। তাদের অনেক মিস করি।’
উইঘুর সায়েন্স অ্যান্ড এনলাইটেনমেন্ট নামের আব্দুল্লাহর স্কুলটি যাত্রা শুরু করে ২০১৫ সালে। উইঘুর শিশুরা যাতে তাদের মাতৃভাষা ও সাংস্কৃতিক পরিচয় ভুলে না যায়, এই উদ্দেশ্যে স্কুলটি খোলা হয়। ৪ থেকে ১৬ বছর বয়সের ১৬০ শিশু এখানে পড়াশোনা করছে। এদের মধ্যে প্রায় ১০ জন স্কুলের ছাত্রাবাসে থাকে। এই ১০ শিশুর পরিবারের সবাই শিনজিয়াংয়ে বিভিন্ন গোপন ক্যাম্পে বন্দি। এসব ক্যাম্পে ১০ লাখের বেশি উইঘুরের পাশাপাশি থাকে কাজাখ, কিরগিজসহ জাতিগত অন্যান্য তুর্কি মুসলমানরা। বিশ্বের বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের মতে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বিরোধিতা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পে বন্দিদের ওপর কাঠামোগত নির্যাতন চালিয়ে আসছে চীন সরকার। তাদের ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করতে জোর করা হয় এবং প্রভাবশালী পূর্ব এশীয় হান চাইনিজ সংস্কৃতি তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়।
আব্দুল্লাহর বন্ধু ও সমবয়সী আব্দুল রহমান আব্বাস। সেও আব্দুল্লাহর মতো ছাত্রাবাসে থাকে। তার মা জেলে আটক। বাবার সঙ্গে তার ছয় বছর ধরে কোনো যোগাযোগ নেই। শিনজিয়াংয়ে উইঘুর শিশুদের ওপরও চীন সরকার নিপীড়নমূলক পদক্ষেপ নিতে পারে, এই আশঙ্কায় আব্দুল্লাহ ও আব্বাসের মা-বাবা বন্ধুদের সঙ্গে দুই ছেলেকে ২০১৫ সালে ইস্তাম্বুলে পাঠায়। কিন্তু ইস্তাম্বুলে পৌঁছার কয়েক মাস পরই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে তারা। আব্বাস বলে, ‘চীনে আমাদের সম্প্রদায়ের সঙ্গে কী করা হচ্ছে, আমি জানি। সেখানে আমাদের নির্যাতন করা হচ্ছে, বন্দি করা হচ্ছে। এর অন্যতম কারণ হতে পারে, আমরা তুরস্কে এসে পড়াশোনা করছি, নিজেদের সংস্কৃতি চর্চা করছি। চীন সরকার চায় না, আমরা উইঘুররা পড়াশোনা করি, নিজেদের সংস্কৃতি জানি।’
আব্বাসদের স্কুলের মতো উইঘুর শিশুদের জন্য ইস্তাম্বুলে আরও বেশ কয়েকটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করা হয়। ইস্তাম্বুলে নির্বাসিত উইঘুরদের নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধি আব্বাস ও আব্দুল্লাহরা। তাদের স্কুল উইঘুর সায়েন্স অ্যান্ড এনলাইটেনমেন্টের প্রতিষ্ঠাতা ৪৯ বছর বয়সী হাবিবুল্লাহ কুসেনি।
তিনি বলেন, ‘আমরা কে, আমাদের পরিচয়-সংস্কৃতি-ইতিহাস কী, শিশুদের তা শেখানো জরুরি। উইঘুররা শিনজিয়াং অঞ্চলকে পূর্ব তুর্কিস্তান বলে। এই পূর্ব তুর্কিস্তানই আমাদের মাতৃভূমি। উইঘুর শিশুদের বাপ-দাদার জন্মভূমি ভুললে চলবে না। চীনে আমরা আমাদের ভাষায় কথা বলতে পারি না। বললেই গ্রেপ্তার করা হয়।’ কুসেনিকে একবার নয়, ৯ বার গ্রেপ্তার করেছিল চীন সরকার। তার পরিবারের ৪০ জনের বেশি সদস্যকে ক্যাম্প বা কারাগারে বন্দি করা হয়। একপর্যায়ে ২০১২ সালে দেশ ছেড়ে পালিয়ে তুরস্কে যান তিনি। সেখানে আরও উইঘুর পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয় তার। নিজের অ্যাপার্টমেন্টেই একপর্যায়ে উইঘুর ভাষা ও ইতিহাস পড়ানো শুরু করেন কুসেনি। মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপে বাস করা উইঘুর অভিবাসীদের কাছ থেকে অনুদান পেয়ে এরপর ইস্তাম্বুলে স্কুলটি খোলেন তিনি। কুসেনি বলেন, ‘আমরা যারা তুরস্কসহ অন্যান্য দেশে বাস করছি, তাদের দায়িত্ব নিজেদের ভাষা, ইতিহাস ও সংস্কৃতি সংরক্ষণ করা। একদিন আমরা দেশে ফিরব। এজন্য আমাদের নতুন প্রজন্মকে প্রস্তুত করতে হবে। আমাদের সঙ্গে যা হচ্ছে তা গণহত্যার শামিল। আমরা পরাজয় মানব না।’
জাতিগত নিধন
দমন-পীড়ন সত্ত্বেও এ মুহূর্তে চীনে উইঘুরের সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ। এই সম্প্রদায়ের আরও ১৫ লাখ মানুষ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে আছে। দুই দশক আগে তুরস্কে বিশেষ করে ইস্তাম্বুল শহরে প্রায় ৩৫ হাজার উইঘুর আশ্রয়ের আবেদন জানায়। মূলত ২০০৯ সালে শিনজিয়াংয়ের রাজধানী উরুমকিতে দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ার পর তুরস্কে উইঘুরদের স্থানান্তর বৃদ্ধি পায়। ওই বছর অধিকারের দাবিতে উইঘুররা শান্তিপূর্ণ মিছিল বের করলে সংখ্যাগরিষ্ঠ হান চাইনিজদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ বাধে, যা একপর্যায়ে ভয়াবহ রূপ নেয়। ওই ঘটনার পর চীন সরকার উইঘুরদের ওপর দমন-পীড়ন বাড়িয়ে দেয়। তাদের ধর্মচর্চা কোণঠাসা করার অংশ হিসেবে নামাজ পড়া ও পবিত্র রমজান মাসে রোজা রাখা নিয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, জাতিগত নির্মূলের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) নেতারা হান চাইনিজদের শিনজিয়াংয়ে স্থানান্তরে উৎসাহ জোগায়। তাদের পার্টির পক্ষ থেকে বলা হয়, ওই প্রদেশে স্থানান্তরিত হলে কর্মসংস্থান ও আবাসনের জন্য হান চাইনিজদের ভাবতে হবে না। উইঘুরদের নির্মূল করার রাষ্ট্রীয় নীতিরই অংশ ছিল এই পদক্ষেপ।
বলা বাহুল্য, চীন সরকারের এই নীতি অনেকাংশে সফল হয়। শিনজিয়াংয়ে এখন উইঘুর ও হান চাইনিজদের সংখ্যা প্রায় সমান। উইঘুররা মনে করে, নির্যাতন-নিপীড়নের মাধ্যমে পূর্ব তুর্কিস্তানের মাটি থেকে উইঘুরদের নাম-নিশানা মুছে দিতে চায় চীন সরকার।
২০১৬ সালের পর শিনজিয়াংয়ের অবস্থা আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। নজিরবিহীন রাষ্ট্রীয় নজরদারি শুরু হয়। ওই অঞ্চলজুড়ে শত শত পুলিশ চেকপয়েন্ট বসানো হয়। লাখ লাখ সিসিটিভি ক্যামেরা রাস্তার মোড়ে মোড়ে স্থাপন করা হয়। এ ছাড়া বাসিন্দাদের চেহারা শনাক্ত করার প্রযুক্তি ফেসিয়াল রিকগনিশন বসানো হয়। প্রায় প্রতিদিনই উইঘুরদের ঘরে ঘরে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী অভিযান চালাতে শুরু করে। দেশের বাইরে স্বজনদের সঙ্গে দেখা করে দেশে ফেরার পর অনেক উইঘুর গ্রেপ্তার হন। এ ছাড়া হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার, হিজাব পরা, লম্বা দাড়ি রাখা, ধর্মীয় ও উইঘুর ভাষার বই ঘরে রাখার ‘অপরাধে’ এই সম্প্রদায়ের অনেক মানুষকে নির্যাতন সহ্য করতে হয়। নির্যাতনের ভয়ে উইঘুরদের অনেকে কোরআন শরিফ মাটির নিচে পুঁতে রাখে। একই সঙ্গে উইঘুর কবি, ইতিহাসবিদ, জ্ঞানীদের লেখা বই বাড়ির উঠান, খামার ও কবরস্থানে লুকিয়ে রাখা হতো। উইঘুর হিউম্যান রাইটস প্রজেক্টের (ইউএইচআরপি) নির্বাহী পরিচালক ওমর কানাত জানান, পুলিশি অভিযানের পর এ ধরনের বইপত্র শহর বা গ্রামের মোড়ে বেশ আয়োজন করে জ্বালিয়ে দেওয়া হতো।
ক্যাম্প স্থাপন
২০১৭ সালে শিনজিয়াংয়ের মরুভূমিতে বিশাল অঞ্চল জুড়ে রহস্যজনক বেশ কয়েকটি স্থাপনা নির্মাণ করে চীন সরকার। এর পরপরই হাজার হাজার উইঘুর নিখোঁজ হতে শুরু করে। অধিকারবিষয়ক সংগঠন চাইনিজ হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডারসের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের ২১ শতাংশই শিনজিয়াংয়ে ছিলেন। পরের বছর ২০১৮ সালে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে বলা হয়, তাদের হাতে বহু বিশ্বাসযোগ্য প্রতিবেদন আছে যাতে বলা হয়, চীনা কর্র্তৃপক্ষের চিন্তাভাবনা, মতাদর্শ মনে গেঁথে দেওয়ার লক্ষ্যে প্রায় ২০ লাখ উইঘুর ও অন্যান্য সংখ্যালঘু মুসলমানদের রাজনৈতিক ক্যাম্প বা বন্দিশিবিরে আটকে রাখা হয়। এসব বন্দিশিবিরের অস্তিত্বের কথা বরাবরই অস্বীকার করে আসছে চীন সরকার। তাদের বক্তব্য, ধর্মীয় উগ্রবাদ ও দারিদ্র্য ঠেকাতে শিনজিয়াংয়ে কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে, অন্য কোনো কিছু এসব কেন্দ্রে পরিচালনা করা হয় না। কিন্তু চীন সরকারের এই বক্তব্য মানতে রাজি নয় মানবাধিকার সংগঠনগুলো। তাদের মতে, ক্যাম্পে বন্দিরা ব্যাপক আকারে নির্যাতনের শিকার। সেখানে গণহত্যা চালানো হচ্ছে। চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের স্তুতি বন্দনার পাশাপাশি অন্যান্য কর্মকাণ্ড করতে বন্দিদের মানসিক চাপ দেওয়া হয়। এ ছাড়া বন্দিশিবিরে তাদের বৈদ্যুতিক শক দেওয়া, যৌন নির্যাতনসহ আরও নানা ধরনের ভয়াবহ নির্যাতন করা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর শিনজিয়াংয়ের এই শিবিরগুলো বিশ্বে জাতিগত সংখ্যালঘুদের সবচেয়ে বড় কয়েদখানা। অভিযোগ রয়েছে, শিবিরের বিভিন্ন কারখানায় বন্দিদের জোর করে কাজ করতে বাধ্য করা হয়। এ ছাড়া একদিকে উইঘুর নারীদের শিবিরে বন্ধ্যা করা হয়, অন্যদিকে শিনজিয়াংয়ে বাস করা হান চাইনিজ নারীদের বেশি বেশি সন্তান প্রসবে উদ্বুদ্ধ করে চীন সরকার। অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক গবেষণা সংস্থা অস্ট্রেলিয়ান স্ট্র্যাটেজিক পলিসি ইনস্টিটিউটের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৭ ও ২০১৯ সালের মধ্যে শিনজিয়াংয়ে উইঘুরদের জন্মহার ৪৮.৭৪ শতাংশ কমে যায়।
শিশুদের মনস্তত্ত্বে প্রভাব
তুরস্কে পাড়ি দেওয়া উইঘুরদের কয়েকজন পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন প্রয়োজনে দেশে ফিরলে তাদের ওপরও নির্যাতন চলে। দেশে পা রাখার সঙ্গে সঙ্গেই তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের একাংশের সঙ্গে তুরস্কে অবস্থান করা তাদের পরিবারের সদস্যরা যোগাযোগ করতে পারলেও বেশির ভাগ সদস্যই জানেন না, শিনজিয়াংয়ে তাদের প্রিয়জনরা কেমন আছেন। উইঘুর সায়েন্স অ্যান্ড এনলাইটেনমেন্টের প্রতিষ্ঠাতা হাবিবুল্লাহ কুসেনি বলেন, ‘উইঘুর শিশুদের মধ্যে অনেকে তুরস্কে তাদের মা-বাবার সঙ্গে আসে। পরে ব্যবসায়িকসহ অন্যান্য প্রয়োজনে এই অভিভাবকদের অনেকে দেশে ফেরেন। উইঘুরদের ওপর শিনজিয়াংয়ে ক্রমবর্ধমান নির্যাতন-নিপীড়নের তীব্রতা তারা আসলে তুরস্ক থেকে উপলব্ধি করতে পারেননি। তাই দেশে ফেরার মতো আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নেন তারা। ফলে যা হওয়ার তাই হয়। তারা সবাই এখন শিনজিয়াংয়ের বিভিন্ন ক্যাম্পে বন্দি। অবশ্য দেশের পরিস্থিতি এত খারাপ হবে, তা আমরা কেউই ভাবিনি। এই স্কুলের অনেক শিশু জানে না, তাদের মা-বাবা দেশে কেমন আছে, আদৌ বেঁচে আছে কি না। এভাবেই তারা বড় হচ্ছে, যা খুবই দুঃখজনক।’ কুসেনি জানান, স্কুলের কমপক্ষে ৩০টি শিশুর মা-বাবা শিনজিয়াংয়ে ক্যাম্পে আটক। এসব শিশু ইস্তাম্বুলে আত্মীয়-স্বজন বা পারিবারিক বন্ধুদের সঙ্গে থাকছে। আর ৪টি শিশুর মা-বাবা ক্যাম্পেই মারা গেছে।
উইঘুর সায়েন্স অ্যান্ড এনলাইটেনমেন্ট স্কুলে শিশুদের গণিত ও কম্পিউটার বিজ্ঞান শেখান মুয়েসের তারসান নামে ৩০ বছর বয়সী এক নারী। তিনি বলেন, ‘এখানকার বেশির ভাগ শিশু জানে না, প্রিয়জনদের সঙ্গে তাদের আবার সাক্ষাৎ হবে কি না। মা-বাবা সবসময় পাশে থাকলে কেমন উপলব্ধি হয়, পরিবারের মানে কী এসব খুব অল্প বয়স থেকে তারা ভুলে যেতে শুরু করে। আমরা এখানে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি, তাদের মা-বাবার মতো স্নেহ দেওয়ার। কিন্তু আমরা তো শেষ পর্যন্ত তাদের শিক্ষক, মা-বাবা নই। এ কারণে তাদের অভাববোধ থেকেই যায়। ছোটবেলা থেকে মা-বাবার ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত এই শিশুদের ওপর নেতিবাচক মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব পড়বে, এটাই স্বাভাবিক।’
