ব্রয়লার মুরগির কেজিতে ১৫ টাকা বাড়তি

আপডেট : ২২ আগস্ট ২০২২, ০৯:০০ এএম

সম্প্রতি খোলাবাজারে ডিম ও মুরগির দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে চলে যায় পোলট্রির বাজার। খাদ্যতালিকা থেকে ডিম ও মুরগিকে বাদ দিতে হয় অথবা কাটছাঁট করতে হয় এ সংক্রান্ত বাজেট।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের নিয়মিত অভিযানের ফলে ডিমের দাম হালিতে ৩০ টাকা ও পোলট্রি-মুরগির দাম কেজিতে ২৫ টাকা কমে যায়। ভোক্তা অধিদপ্তরের বাজার-পরিবীক্ষণ কার্যক্রমে বিরতির সুযোগে আবার পোলট্রি-মুরগির দাম কেজিতে ২০ টাকা বাড়িয়ে ১৯০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, ‘বাজার নিয়ন্ত্রণ সংস্থাগুলোর সঠিক তদারকি ও বিধিমালা কার্যকর করায় ভূমিকা না থাকার কারণে বাজারের দামে সরকারের নিয়ন্ত্রণ নেই।’ তারা বলেন, ‘পোলট্রির উৎপাদন খরচের ওপর ভিত্তি করে মুনাফাসংক্রান্ত বিধিমালা যেন কার্যকর করে সরকার।’

গতকাল রবিবার সরেজমিনে রাজধানীর কলাবাগান, তেজকুনিপাড়া, ফার্মগেট ও কারওয়ান বাজার ঘুরে এ তথ্য পাওয়া গেছে। কারওয়ান বাজারের ‘আল্লাহর দান’ ব্রয়লার হাউজের স্বত্বাধিকারী মো. আব্দুর রহিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মুরগির দাম বাড়ার পেছনে খামারি ও বাজারজাতকারী ডিলারদের হাত রয়েছে। উৎপাদনকারী খামারি বলতে পারে তার একটি মুরগিতে কত টাকা খরচ হচ্ছে এবং তিনি কত টাকা লাভ করছেন। তার কাছ থেকে মুরগি কিনে ডিলার প্রতি মুরগিতে কত টাকা লাভ করছেন। আমাদের মতো ছোট দোকানিরা ডিলারদের কাছ থেকে কিনে কেজিতে ৫-১০ টাকা লাভ করি। কিন্তু ভোক্তা অধিদপ্তরের লোকজন এসে আমাদের জরিমানা করে। আমি আশা করব, তারা উৎপাদনকারী থেকে শুরু করে খুচরা পর্যায়ে সঠিক তদারকি করবেন। তাহলে বাজার-অব্যবস্থাপনার বিষয় বেরিয়ে আসবে। জানা দরকার এর পেছনে আমাদের মতো খুচরা-ব্যবসায়ীরা রয়েছে নাকি মধ্যস্থতাকারী বা খামারিরা রয়েছেন।’

সরকারের কাছে পোলট্রির উৎপাদন-খরচের ওপর ভিত্তি করে মুনাফাসংক্রান্ত বিধিমালা কার্যকর করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘খামারির উৎপাদন-খরচ ও ডিলারের কাছে বিক্রি করে কত টাকা আয় করছে এবং ডিলার তা খুচরা বাজারে কত টাকায় বিক্রি করছে তা যেন সঠিকভাবে তদারকি করা হয়।’

ভোক্তা অধিদপ্তরের অভিযানের ফলে ডিম-পোলট্রি মুরগির দাম কিছুটা কমলেও তা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। মাত্র এক দিনের ব্যবধানে আবারও পোলট্রি-মুরগির দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ১৯০ টাকা হয়েছে। পাকিস্তানি মুরগি কেজিতে ৫-১০ টাকা বেড়ে ২৮০-২৯৫ টাকায় ও সোনালি মুরগি ৩২০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। অথচ গত সপ্তাহে প্রতি কেজি লেয়ার ২৭০-২৭৫ টাকা ও সোনালি ২৯০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

ফার্মগেটের পোলট্রি-ব্যবসায়ী হাবিব দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কয়েক হাত ঘুরে মুরগির দাম বাড়ে। মুরগি উৎপাদন করতে খামারিদের বিশেষ প্রয়োজন মুরগির ওষুধ ও খাদ্য। গত কয়েক মাস ধরে এ দুটি উপাদানের দাম দ্বিগুণ হারে বেড়েছে। তারপরও খামারিদের মুরগি উৎপাদন করতে যা খরচ হয় তার থেকে বহুগুণ দাম বাড়িয়ে দেয় ডিলাররা।’

ডিমের বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত দুই দিনে প্রতিডজন ডিমের দাম ৩০-৩২ টাকা কমেছে। প্রতিডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১২৫-১৩০ টাকায়। প্রতিহালি ডিম বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকায়। ৪ দিন আগেও অসাধু ফড়িয়া সিন্ডিকেটের কারসাজিতে প্রতিডজন ডিম ১৬৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

কলাবাগানের মিতা জেনারেল স্টোরের স্বত্বাধিকারী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পাইকারি বাজার থেকে বেশি দামে কিনে আমরাও বেশি দামে বিক্রি করি। যখন কম দামে ডিম কিনতে পারছি তখন কম দামে ডিম বিক্রি করছি। চলতি মাসের শুরু থেকে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় পরিবহন খরচের অজুহাতে ডিমের পাইকারি দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।’

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এএইচএম শফিকুজ্জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার দোহাই দিয়ে ডিমপ্রতি দাম বাড়ানো হয়েছে ২ টাকা ৭০ পয়সা পর্যন্ত। আমাদের মাঠ পর্যায়ের তদারকি টিমের তথ্য বলছে, একটি ট্রাকে ৫৮ হাজার ৮৮০টা ডিমে জ্বালানির নতুন খরচ মাত্র দুহাজার টাকা। অর্থাৎ একটি ডিমের খরচ পড়ে ৩ পয়সার একটু বেশি।’

তিনি বলেন, ‘অধিকাংশ ব্যবসায়ী তাদের দোকানে ডিম ক্রয়-বিক্রয়ের মূল্যতালিকা রাখেননি। এ ফাঁকফোকরকে তারা জ্বালানি-খরচ হিসেবে দেখিয়েছেন। তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে আমাদের টিম মাঠে আছে। যেসব অসাধু ব্যবসায়ী দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণহীন করে তুলবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত