৩ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ

গ্রামীণ টেলিকমের এমডিসহ চারজনকে দুদকে তলব

আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০২২, ০৬:৫১ এএম

শ্রমিক-কর্মচারীদের কল্যাণ তহবিলের অর্থ আত্মসাৎ এবং প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে গ্রামীণ টেলিকমের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ৪ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এই সংক্রান্ত একটি চিঠি গতকাল সোমবার তাদের ঠিকানায় পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে স্বাক্ষর করেন অনুসন্ধান টিমের প্রধান ও উপপরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধান। আগামী ২৫ আগস্ট তাদের দুদকে হাজির হতে বলা হয়েছে।

দুদক সূত্র জানায়, নোটিসে গ্রাামীণ টেলিকমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নাজমুল ইসলাম, আইনজীবী  ইউসুফ আলী, আইনজীবী জাফরুল হাসান শরীফ ও গ্রামীণ টেলিকম শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের প্রতিনিধি মাইনুল ইসলামকে তলব করা হয়েছে। গত ১৬ আগস্ট অভিযোগ সংক্রান্ত ১১ ধরনের নথিপত্র আসে দুদকে। তাছাড়া গত ১ আগস্ট  নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ পরিচালনা পর্ষদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দুর্নীতি অনুসন্ধানে নথিপত্র চাওয়া হয়েছিল।

এর আগে গত ২৮ জুলাই দুদক সচিব মাহবুব হোসেন সাংবাদিকদের বলেছিলেন, গ্রামীণ  টেলিকম পরিচালনা পর্ষদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করা হচ্ছে। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপ-মহাপরিদর্শক কিছু অভিযোগ-সংবলিত একটি প্রতিবেদন দুদকে পাঠান। ওই প্রতিবেদন কমিশন পর্যালোচনা করে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়। অভিযোগ অনুসন্ধানে তিন সদস্যের টিম গঠন করে দুদক। টিমে দুদক পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেনকে তদারককারী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। টিমের অপর সদস্যরা হলেন- সহকারী পরিচালক জেসমিন আক্তার ও নূরে আলম সিদ্দিকী।

দুদকের এক কর্মকর্তা বলেন, নোটিসে গ্রামীণ টেলিকম কোম্পানির ১৯৯৭ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত পরিচালনা পর্ষদের বিস্তারিত তথ্য, পরিচালনার আইন ও বিধিসমূহ ও লভ্যাংশ বিতরণের নীতিমালা সংক্রান্ত নথিপত্র তলব করা হয়। তাছাড়া পরিচালনা পর্ষদের কোনো সদস্যের কোম্পানি থেকে ঋণ পাওয়ার বৈধ অধিকার রয়েছে কি না বা এখন পর্যন্ত পর্ষদের কোন কোন সদস্য কত টাকা ঋণ নিয়েছেন এবং ঋণের অর্থ কীভাবে উত্তোলন করেছেন সে সংক্রান্ত রেকর্ডপত্রের সত্যায়িত কপি, গ্রামীণফোন কোম্পানিতে গ্রামীণ টেলিকমের কতভাগ শেয়ার ও কার কার নামে আছে এসব তথ্যও চাওয়া হয়।  শেয়ারের বিপরীতে ১৯৯৭ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত গ্রামীণ টেলিকম কোম্পানি কত টাকা লভ্যাংশ পেয়েছে, উক্ত লভ্যাংশের অর্থ কোন কোন খাতে কীভাবে ব্যয় হয়েছে তার তথ্য চাওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, অনিয়মের মাধ্যমে শ্রমিক-কর্মচারীদের মধ্যে বণ্টনের জন্য সংরক্ষিত লভ্যাংশের ৫ শতাংশ অর্থ লোপাট, পাওনা পরিশোধকালে অবৈধভাবে অ্যাডভোকেট ফি ও অন্যান্য ফির নামে ৬ শতাংশ অর্থ কর্তন, কল্যাণ তহবিলে বরাদ্দ করা সুদসহ ৪৫  কোটি ৫২ লাখ ১৩ হাজার ৬৪৩ টাকা বিতরণ না করে আত্মসাৎ এবং কোম্পানি থেকে দুই হাজার ৯৭৭ কোটি টাকা মানি লন্ডারিংয়ের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত