ব্রাইটন-ব্রেন্টফোর্ডের মতো দলের কাছে প্রথম দুই ম্যাচেই হার। ছন্নছাড়া ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে নিয়ে পাঁড় সমর্থকরাও আশাবাদী হতে ভয়ে ছিল। লিভারপুলের বিপক্ষে ম্যাচের আগে তো গ্লেজার্স মালিকদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের কর্মসূচি দিয়েছিল দলটির সমর্থক গোষ্ঠী। সোমবার ম্যাচের আগে ওল্ড ট্রাফোর্ডে সেই বিক্ষোভ তারা করেছেও। সেখানে প্ল্যাকার্ড ছিল ‘উই ওয়ান্ট আওয়ার ইউনাইটেড ব্যাক’। দুঃসময়ে ঐক্যের ডাক দিয়েছিলেন মার্কাস রাশফোর্ড। সবকিছু ভুলে মাঠে এক হয়ে লড়াই করতে বলেছিলেন সতীর্থদের। দাবি করেছিলেন, লিভারপুলের মতো প্রবল প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ম্যাচটি ঠিক সময়েই এসেছে। বলেছিলেন, দুঃসময় থেকে বেরোতে ঘরের মাঠে লিভারপুলের ম্যাচের চেয়ে ভালো আর কী হতে পারে!
রাশফোর্ডের সেই কথা ফলেছে। জেডন সাঞ্চোর ১৬ মিনিটের গোলের পর নিজে ৫৩ মিনিটে দ্বিতীয় গোল করে লিভারপুলকে ২-১ গোলে হারিয়েছে রেড ডেভিলরা। প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বীর বিরুদ্ধে এই জয় ঘুরে দাঁড়ানোর স্মারক হতে পারে তাদের জন্য। তৃতীয় ম্যাচে পাওয়া প্রথম জয়ে ৩ পয়েন্ট নিয়ে তলানির ‘তিন’ থেকে উঠে ১৪ নম্বরে এসেছে ম্যানইউ। তবে ইয়ুর্গেন ক্লপের লিভারপুলের দুঃসময় আরেকটু লম্বাই হলো এই হারে। তিন ম্যাচে শেষে জয়হীন দলটি ২ পয়েন্ট নিয়ে পড়ে আছে পয়েন্ট তালিকার ১৬তম স্থানে।
লিভারপুলের বিপক্ষে লড়তে একাদশে দমে বলীয়ান খেলোয়াড় রাখার পরামর্শ দিয়েছিলেন ম্যানইউর সাবেক তারকা ওয়েন রুনি। বাদ দিতে বলেছিলেন রোনালদোকে। কোচ এরিক টেন হাগকে রোনালদোর সঙ্গে হ্যারি ম্যাগুয়েরকেও রাখেননি একাদশে। রোনালদোকে নামিয়েছিলেন ৮৬ মিনিটে রাশফোর্ডের বদলি হিসেবে। রিয়াল মাদ্রিদ থেকে উড়িয়ে আনা কাসিমিরোকে বরণ করে নেওয়ার পর শুরু খেলার ১০ মিনিটেই এগিয়ে যেতে পারত ম্যানইউ। সুইডিশ উইঙ্গার অ্যান্থনি এলাঙ্গার নেওয়া শট লিভারপুল গোলরক্ষককে পরাস্ত করলেও ফাঁকি দিতে পারেনি সাইড পোস্টকে। ৬ মিনিট পরে সাঞ্চোর সেই গোল। ক্রিস্টিয়ান এরিকসেনের সঙ্গে বল আদান-প্রদান করা এলাঙ্গা লিভারপুলের বক্সে ক্রস দেন। সাঞ্চো বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ডামি করে এলোমেলো করে দেন লিভারপুল রক্ষণকে। এরপর বাঁ পায়ে ঠাণ্ডা মাথায় বল পাঠিয়ে দেন জালে। গত মৌসুম মিলিয়ে লিগে টানা সাত ম্যাচে এই প্রথম গোল খেল লিভারপুল।
ম্যাচটি যে লিভারপুলের নয় সেই ইঙ্গিতটা পাওয়া যায় ম্যাচের ৪০ মিনিট। গোল খাওয়ার পর একের পর এক আক্রমণে ইউনাইটেড রক্ষণকে ব্যতিব্যস্ত করে ফেলে লিভারপুল। চাপে পড়েই কিনা ইউনাইটেড অধিনায়ক ব্রুনো ফার্নান্দেজ আত্মঘাতী গোল প্রায় করেই বসেছিলেন। কী করে যেন গোললাইনে দাঁড়ানো ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেজের শরীরে লেগে দিক পরিবর্তন করে বল। আয়াক্স থেকে আসা এই আর্জেন্টাইন দারুণ খেলেছেন কাল।
গোল শোধে মরিয়া লিভারপুল উল্টো দ্বিতীয় গোলটি খেয়ে যায় পাল্টা এক আক্রমণে। জর্ডান হেন্ডারসনের ভুল পাস থেকে বল পেয়ে যান বদলি নামা অ্যান্থনি মার্শিয়াল। ফরাসি তারকার পা ঘুরে বল পান রাশফোর্ড। বল জালে জড়াতে যথেষ্ট সময়ই পেয়েছিলেন দুঃস্বপ্ন কাটিয়ে সুসময়ে ফিরতে মরিয়া ইংলিশ ফরোয়ার্ড।
৮১ মিনিটে ট্রেন্ট আলেকজান্ডার-আরনল্ডের কর্নারে ইউনাইটেড রক্ষণের তালগোল পাকানোর সুযোগে সালাহ যখন হেডে গোলটি পেয়ে গেলেন, একটু ভয় পেয়েই গিয়েছিলেন ইউনাইটেড সমর্থকরা। উত্তেজনায় পায়চারি শুরু করেছিলেন কোচ টেন হাগও। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ওল্ড ট্রাফোর্ড থেকে হাসিমুখেই ফিরতে পেরেছেন প্রিমিয়ার লিগ জয়ের স্বপ্ন দেখা কাসিমিরো।
প্রথম প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ জেতা কোচ টেন হাগ খুশি দলের উজ্জীবিত পারফরম্যান্স দেখে। ‘ট্যাকটিক্যাল দিক নিয়ে কথা বলতেই পারি, তবে আজকের ব্যাপারটি ছিল পুরো মানসিকতার। সবার মধ্যে বোঝাপড়া ছিল দারুণ এবং মাঠে ছিল লড়াইয়ের মনোভাব। আমার চাওয়া ছিল, ভিন্ন ধরন ও ভিন্ন মানসিকতা নিয়ে খেলা ছেলেরা মাঠে সেটিই ফুটিয়ে তুলেছে।’ এক জয়েই সব পাওয়ার আনন্দে ভেসে যাচ্ছেন না টেন হাগ। ‘এটা কেবলই শুরু। আমরা আরও ভালো ফুটবল খেলতে পারি, আরও বিপজ্জনক হতে পারি। একটা দল হয়ে উঠতে হবে। দলের পারফরম্যান্সে আমি খুশি। তবে স্রেফ লিভারপুলের সঙ্গেই নয়, প্রতিটি ম্যাচে এই পারফরম্যান্স বজায় রাখতে হবে। আবারও বলছি, এটার শুরু উজ্জীবিত মানসিকতা থেকেই।’
