ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করে ভোট নেওয়ার ইসির সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় একাধিক নেতা। তবে ক্ষমতাসীন জোটের শরিক কয়েকটি দলের নেতারা বলছেন, ইসির সঙ্গে সংলাপে রাজনৈতিক দলগুলো যে প্রস্তাব দিয়েছিল সেটা আমলে নেয়নি নির্বাচন কমিশন। ইসির ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট নেওয়ার সিদ্ধান্তে তারা বলেছেন, মনে হয়েছে ইভিএমের চেয়ে কেনাকাটায় বেশি মনোযোগ দিয়েছে ইসি।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, ইসি স্বাধীন, নির্বাচন নিয়ে যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে, তাদের সেই সাংবিধানিক ক্ষমতা রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা ৩০০ আসনেই ইভিএমে নির্বাচন করার প্রস্তাব দিয়েছিলাম। কিন্তু সেই প্রস্তাব না মেনে নিজেদের এখতিয়ার অনুযায়ী সিদ্ধান্ত দিয়েছে। এ বিষয়ে আমাদের বলার কিছু নেই। তবে আমরা এখনো প্রত্যাশা করি ইসি যদি তাদের সক্ষমতা অর্জন করতে পারে, আর ৩০০ আসনে ভোট ইভিএমে হলে আমরা খুশি হব।’
দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুর রহমান বলেন, ‘ইসি যেহেতু সর্বোচ্চ ১৫০ আসনের কথা চিন্তা করেছে, তাতে আমরা কোনো প্রভাব বিস্তার করব না। ইসি স্বাধীনভাবে সব কাজ করার চেষ্টা করছে। তাদের বিতর্কিত করতে বিরোধী দল যে বক্তব্য দিচ্ছে তা মিথ্যা প্রমাণিত হলো এর মাধ্যমে।’
তবে ১৪ দলীয় জোটভুক্ত একটি দলের সাধারণ সম্পাদক নাম প্রকাশ না করার শর্তে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ইভিএম ইস্যুতে ১৪ দলীয় জোটভুক্ত দলগুলোকে বিচ্ছিন্নভাবে কথা বলতে নিষেধ করা হয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে। আলাদাভাবে তারা কথা বললে বিতর্ক দেখা দিতে পারে এবং বিরোধী দলগুলো এ নিয়ে রাজনীতি করতে পারে। সেই সুযোগ তাদের না দেওয়ার জন্য আগামী তিন-চার দিনের মধ্যে জোটের বৈঠক করে ইভিএম নিয়ে জোটগতভাবে অবস্থান তুলে ধরা হবে।’
জোটের অন্যতম শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা ইভিএমের বিপক্ষে নই। তবে আমরা কিছু সিস্টেমের কথা বলেছি নির্বাচন কমিশনকে। কমিশনের এই ঘোষণা থেকে একটা জিনিস স্পষ্ট যে, ইসি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে যে সংলাপের আয়োজন করেছেন এবং সংলাপে গিয়ে আমরা যে প্রস্তাব রেখেছি কমিশন তা আমলে নেননি।’
জোটসঙ্গী জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘আমি মনে করি ইসির ঘোষণা প্রাথমিক সিদ্ধান্ত।’ তিনি বলেন, এর আগে বিভিন্ন নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করে যে নির্বাচন হয়েছে সেগুলো অত ইতিবাচক নয়। ফলে চিহ্নিত করা সমস্যাগুলো সমাধান করবে নিশ্চয়ই ইসি।
ইনু আরও বলেন, ‘ইভিএম নিয়ে যারা বিরোধিতা করছে সেটা মূলত রাজনৈতিক বিরোধিতা। ইভিএমে হলে কারচুপি হবে, ব্যালটে হলে হবে না, ব্যাপারটা সেরকম নয়। মূলত নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে মাথা ঘামাতে হবে। যেটা কেউ করছে না। তাই আগে ‘স্যাটল’ করতে হবে কারা ক্ষমতায় আসতে হবে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি না মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি।’
আরেক শরিক গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘ইসি নিরপেক্ষতা বজায় রেখে নির্বাচন করলে ব্যালট এবং ইভিএমে কোনোটিতেই কোনো সমস্যা নেই।’
