‘এই দলটা একদম অরক্ষিত। সবাই মন্তব্য করতে থাকে, সেটা দল পর্যন্ত পৌঁছেও যায়। দক্ষিণ আফ্রিকায় আমি সাত বছর কাজ করেছি। সেখানে একজন কোচ, স্টাফ, নির্বাচক...এইটুকুই। বাইরের কিছুই দলে ঢোকে না। এখানে সে রকম না। দক্ষিণ আফ্রিকার হস্তক্ষেপ রাজনৈতিক। এখানে সম্পূর্ণ ভিন্ন।’
জাতীয় একটি দৈনিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে টাইগারদের টেস্ট ও ওয়ানডে দলের কোচ রাসেল ডোমিঙ্গো এই মন্তব্য করেছেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনে বাইরের হস্তক্ষেপ সামলে কীভাবে কোচিং করবেন? এমন উত্তরে তিনি বলেছিলেন, আমি দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে এসেছি। এসবে আমি অভ্যস্ত। তিন বছর পর এখন কী বলবেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি এই মন্তব্য করেন।
শুধু তাই নয়। টি-টোয়েন্টি দলের কোচ থেকে তাকে বাদ দেওয়াটা তার জন্য অনেকটা স্বস্তির বলেও তিনি জানিয়েছেন। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বললেন, ‘আমার এখানে আর কিছুই করার নেই। আমাকে সব সময় বলা হতো, ওদের সারাক্ষণ ধমকাতে হবে। কঠোর হতে হবে। এভাবেই নাকি ক্রিকেটারদের সঙ্গে সব সময় আচরণ করা উচিত। আমি নিশ্চিত, আমার আগেও অনেক কোচ একই কাজ করেছে। কিন্তু আগের কোচরাও টি-টোয়েন্টিতে কিছু করতে পারেনি। বরং আমার রেকর্ড আগের তুলনায় ভালোই হওয়ার কথা। কারণ, বাংলাদেশ বিশ্বকাপে ম্যাচ জিতেছে মাত্র একটি। আমি একটা বিশ্বকাপে গিয়েছি এই দলের সঙ্গে। এর আগে তো অনেক কোচ দলটাকে নিয়ে বিশ্বকাপে গিয়েছে। কই, কিছুই তো হয়নি। আমি চেয়েছি ভিন্ন পথে এগোতে।’
গত ১০ বছরের মধ্যে রিয়াদ-মুশফিকরা ভালো কোচিং পাননি, বাইরের চাপের কারণেই এটা হয় বলেও মন্তব্য করেন সাবেক এই দক্ষিণ আফ্রিকান। বাইরের চাপ বলতে কি জানতে চাইলে ডোমিঙ্গো বলেন, ‘আমরা বিশ্বকাপের মূল পর্বে দুটি ম্যাচ হারলাম। সাকিব, সাইফউদ্দিন চোটে পড়ল। ওই সময় দলের মধ্যে অনেক টেনশন কাজ করছিল। ক্রিকেটাররা যখন নিজেদের মতো চিন্তা করতে পারে না, তখন এটা হয়। কোচিং, লিডারশিপ থেকে এটা আসে। গত ৮ থেকে ১০ বছরে এই দলের ক্রিকেটাররা সে ধরনের কোচিং পায়নি। ক্রিকেটাররা নিজেদের মতো করে ভাবতে পারে না। কারণ, বোর্ড তাদের কথা শোনায়, ডিরেক্টর অব ক্রিকেট কথা শোনায়, সবাই শোনায়। যদি ক্রিকেটারদের প্রতি পদে পদে বলে দেওয়া হয় কীভাবে কী করতে হবে, তাহলে ওরা শিখবে কীভাবে? ক্রিকেটাররা নিজেরা ভাবতে পারে না। কারণ, সব সময় তাদের বলে দেওয়া হয় কী করতে হবে। এটাই বাংলাদেশ ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ক্রিকেটাররা তাদের মতো কিছু ভাবতে পারে না, করতে পারে না।’
