নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ধর্ষণের শিকার হয়ে লোকলজ্জার ভয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরী। তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত রিপন মিয়াকে (২৩) পুলিশ বৃহস্পতিবার দুপুর দুইটার দিকে কোতালের বাগ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে।
অভিযুক্ত রিপন কোতালেরবাগ মহিউদ্দিনপর বাড়ির ভাড়াটিয়া মো. ইউনুসের ছেলে।
এর আগে কিশোরীর খালা বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা দায়ের দায়ের করেছেন।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা গেছে, মা-বাবাহীন কিশোরী গত এক মাস আগে ফতুল্লা থানার কোতালেরবাগে ভাড়া বাসায় ছোট খালার সঙ্গে থাকেন। বাদী ও তার স্বামী গার্মেন্টসে চাকরি করেন। একই বাড়িতে অভিযুক্ত স্ব-পরিবারে ভাড়ায় বাস করে আসছিলেন।
গত ২২ আগস্ট সকাল ৮টার দিকে কিশোরীকে বাসায় রেখে খালা ও খালু নিজ নিজ কর্মস্থলে চলে যান।
দুপুর তিনটার দিকে অভিযুক্ত রিপন দরজা খোলা পেয়ে ঘরের ভেতরে ঢুকে কিশোরীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণ করেন। এ সময় কিশোরী ডাক-চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত রিপন দরজা খুলে দৌড়ে পালিয়ে যায়।
ধর্ষণের বিষয়টি মেনে নিতে না পেরে কিশোরী ঘরের সিলিং ফ্যানের সাথ গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।
কিশোরীর গোঙানির শব্দ পেয়ে পাশের ভাড়াটিয়া সাজু মিয়া কিশোরীকে নিচে নামিয়ে এনে খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে যান।
সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসা শেষে রাতে বাসায় নিয়ে এলে বাড়িওয়ালা মহিউদ্দিন ও একই বাড়ির ভাড়াটিয়া দুলাল কন্ট্রাক্টর বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য বলেন এবং তারাই তা মীমাংসা করার জন্য নানারকম ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছিলেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফতুল্লা মডেল থানার উপপরিদর্শক গিয়াসউদ্দিন গিয়াস জানান, মামলার প্রধান আসামি রিপনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কিশোরীকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য চিকিৎসকের কাছে পাঠানো হয়েছে।
