শর্ত সাপেক্ষে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার ভিসা পেলেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ। তার ভিসা পাওয়া নিয়ে নানা আলোচনা চলছিল দেশ-বিদেশে। আদৌ ভিসা পাবেন নাকি পাবেন না তা নিয়ে সন্দিহান ছিল অনেকেই। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল একাধিকবার বলেছিলেন, আইজিপি জাতিসংঘ পুলিশ সামিটে যোগ দেবেন।
বৃহস্পতিবার সেই খবরটি পেয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। আগামী ২৯ বা ৩০ আগস্ট স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে ছয় সদস্যর একটি প্রতিনিধি দল যুক্তরাষ্ট্র যাবে বলে পুলিশ সূত্র জানায়। ৩১ আগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দু দিনব্যাপী পুলিশ সামিট অনুষ্ঠিত হবে।
ভিসার বিষয়টি নিশ্চিত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন বৃহস্পতিবার রাতে দেশ রূপান্তরকে বলেন, আইজিপি জাতিসংঘের পুলিশ সামিটে অংশ নিচ্ছেন। নির্দিষ্ট সময়ে আমরা সবাই অনুষ্ঠানে অংশ নেব বলে আশা করছি।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানায়, দুপুরে মার্কিন দূতাবাস থেকে জানানো হয়, জাতিসংঘের পুলিশ সামিটে অংশ নিতে যারা আবেদন করেছেন তাদের ভিসা প্রদান করা হয়েছে। তবে আইজিপি বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা থাকায় কিছু শর্ত থাকবে।
নাম প্রকাশ করার শর্তে পুলিশ সদর দপ্তরে কর্মরত ডিআইজি পদমর্যাদার দুই কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, আইজিপির ভিসা পাওয়া যাবে কি যাবে না তা নিয়ে আমরা সন্দিহান ছিলাম। তিনি যাতে ভিসা পান সে জন্য মন্ত্রণালয়সহ সরকারের হাইকমান্ড চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন। একটি মহল চেয়েছিল আইজিপি যাতে যুক্তরাষ্ট্র যেতে না পারেন। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল ব্যাচেলেটকে বাংলাদেশে আমন্ত্রণ জানানোর পেছনেও এই সফর নিশ্চিত করার বিষয়টি কাজ করেছে। কিছুদিন আগে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের আন্ডার সেক্রেটারি মিশেল জে সিসেসের সঙ্গে পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেনের বৈঠকেও আইজিপির সফর নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। তারা সফরটি ইতিবাচক হিসাবে দেখেছেন।
তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার আমরা ভিসা পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছি। তবে ভিসা দেওয়ার সঙ্গে বেশ কিছু শর্ত দেওয়া হয়েছে। আইজিপি অনুষ্ঠানস্থল ছাড়া কোথাও যেতে পারবেন না। নিউইয়র্ক সিটিতে তার কর্মকাণ্ড সীমিত রাখতে হবে। সামাজিক, রাষ্ট্রীয় বা সরকারি-বেসরকারি কোনো অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারবেন না। শর্তভঙ্গের সঙ্গে সঙ্গে তার ভিসা বাতিল হবে বলেও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তা ছাড়া অনুষ্ঠান শেষ হয়ে গেলে দ্রুত সময়ে আইজিপিকে দেশে চলে আসতে হবে। তবে আইজিপির সঙ্গে যারা যাবেন তাদের বিষয়ে কোন শর্ত দেওয়া হয়নি।
জানা গেছে, গত ৪ আগস্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে বলা হয়, জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ৩১ আগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুলিশ প্রধানদের নিয়ে তৃতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এতে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন।
প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যরা হচ্ছেন, আইজিপি বেনজীর আহমেদ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের যুগ্ম সচিব আবু হেনা মোস্তফা জামান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর একান্ত সচিব মুহম্মদ আসাদুজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ উপ-মহাপরিদর্শক নাসিয়ান ওয়াজেদ ও সহকারী পুলিশ মহাপরিদর্শক মোহাম্মদ মাসুদ আলম। তারা ৩০ আগস্ট বা তার কাছাকাছি সময়ে নিউইয়র্কের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়বেন। ৩ সেপ্টেম্বর বা তার কাছাকাছি সময়ে নিউইয়র্ক থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা করবেন বলেও আদেশে জানানো হয়।
সফর ও ট্রানজিটের সময় তারা কর্মরত হিসেবে গণ্য হবেন জানিয়ে বলা হয়, এই সফরের বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন আছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সফরের পুরো অর্থ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ বা পুলিশের বাজেট থেকে খরচ করা হবে। সরকারের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাসহ বেনজীর আহমেদকে মনোনীত করা হয়।
গত বছরের ১০ ডিসেম্বর র্যাবের সাবেক ও বর্তমান সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট (রাজস্ব বিভাগ)। নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছেন, র্যাবের সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি) বেনজীর আহমেদ, বর্তমান মহাপরিচালক (ডিজি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস) খান মোহাম্মদ আজাদ, সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস) তোফায়েল মোস্তাফা সরোয়ার, সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস) মো. জাহাঙ্গীর আলম ও সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস) মো. আনোয়ার লতিফ খান ও র্যাব-৭-এর সাবেক অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ।
