শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সব সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের দায়িত্বশীল হয়ে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। তিনি বলেন, ‘অফিসে নিয়মিত হাজিরা দিতে হবে। অন্যথায় কঠোর ব্যবস্থা।’ গত বুধবার কিশোরগঞ্জের ইটনায় স্থানীয় কর্মকর্তা ও পেশাজীবী সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
স্থানীয় একটি সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া হয় না এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপ্রধান বলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সরকারি কর্মচারীদের সব নিয়মকানুন মেনে চলতে হবে। ছেলেমেয়েরা যাতে সুন্দর পরিবেশে পড়াশোনা করতে পারে, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।’
স্থানীয় নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠককালে আবদুল হামিদ বলেন, ‘দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। যারা মনে করেন এলাকার উন্নয়নের ফলে তাদের ক্ষমতায় যাওয়ার পথ সংকুচিত হচ্ছে, তারাই বিভিন্ন অপপ্রচারের মাধ্যমে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।’
ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘রাজনীতিবিদ আসবে ও যাবে, কিন্তু হাওরের উন্নয়নে যিনি কাজ করবেন, ব্যক্তি ও পারিবারিক উন্নয়নের পরিবর্তে জনগণের উন্নয়নে যিনি কাজ করবেন তাকেই জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করুন।’
সব পর্যায়ের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও রাজনীতিবিদদের জনগণের কল্যাণে কাজ করার এবং সবার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করারও উপদেশ দেন আবদুল হামিদ।
তিনি বলেন, ‘নির্বাচিতদের মনে রাখতে হবে যে, এই জনগণই আপনাদের সমর্থন দিয়েছে এবং তাদের কারণেই আপনি নেতা হয়েছেন। তাদের (জনতার) প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা থাকতে হবে।’
হাওরাঞ্চলে অপরিকল্পিতভাবে বাড়িঘর নির্মাণ না করার পরামর্শ দিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘পরিবেশকে ধ্বংস করে যাতে উন্নয়ন না করা হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।’
মতবিনিময় সভায় সংসদ সদস্য মো. আফজাল হোসেন ও রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট সচিবরা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, পেশাজীবী সংগঠনের নেতা, সুশীলসমাজের প্রতিনিধি এবং উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, রাষ্ট্রপতি গত ২২ আগস্ট তার নিজ জেলার তিন উপজেলা মিঠামইন, অষ্টগ্রাম ও ইটনায় চলমান কিছু উন্নয়ন প্রকল্পের তদারকি এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পেশাজীবীদের সঙ্গে মতবিনিময় করতে চার দিনের সফরে কিশোরগঞ্জে যান।
গত বুধবার বিকেলে আবদুল হামিদ কামালপুরের নিজ বাড়ি থেকে সড়কপথে মিঠামইন উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ পরিদর্শন করেন। এরপর তিনি নৌযানে করে নির্মাণাধীন মিঠামইন ক্যান্টনমেন্টের কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করেন। এর আগে মঙ্গলবার রাতে রাষ্ট্রপতি অষ্টগ্রামে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন। ওইদিন বিকেলে তিনি মিঠামইন-অষ্টগ্রাম সড়কের ভাতশলা সেতু ও রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ সেতু পরিদর্শন করেন। এ ছাড়া মিঠামইন-অষ্টগ্রাম মহাসড়কের ‘আই লাভ অষ্টগ্রাম’ পয়েন্টে পর্যটনে অষ্টগ্রামের উদ্বোধন করেন।
