শিশুর জন্ম হলেই ফুল-মিষ্টি নিয়ে হাজির চেয়ারম্যান

আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০২২, ০২:২৯ এএম

নিজের ইউনিয়নে ধনী, গরিব, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে কোনো পরিবারে নবজাতকের আগমনের খবর পেলেই ফুল ও মিষ্টি নিয়ে হাজির হন সেখানে। নবজাতককে কোলে নিয়ে ইউনিয়নের নাগরিক (সিটিজেন) হিসেবে বরণ করে নেন। আর নবজাতকের মা-বাবাকে মিষ্টি খাইয়ে ও ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। একই সঙ্গে পৌঁছে দেন নবজাতকের জন্মসনদ। তিনি হলেন চট্টগ্রামের আনোয়ারার বারশত ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান এমএ কাইয়ুম শাহ।

ব্যক্তি-উদ্যোগে গত ১ আগস্ট থেকে নিজের ইউনিয়নে ‘নবজাতক বরণ’ নামে ব্যতিক্রমী এ কর্মসূচি শুরু করেছেন চেয়ারম্যান কাইয়ুম শাহ। এরই অংশ হিসেবে গত বৃহস্পতিবার ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের গুন্দ্বীপ গ্রামের ইমামউদ্দিন ও বিলকিস আক্তার দম্পতির ঘরে নবজাতকের জন্মের তথ্য পান তিনি। এরপর ফুল, মিষ্টি ও জন্ম নিবন্ধন ফরম নিয়ে ওই দম্পতির বাড়িতে হাজির হন তিনি। এ সময় নারী ইউপি সদস্য বিলকিস আক্তার, ইউপি সদস্য কামাল উদ্দিন ও গ্রাম পুলিশ শাহাবুদ্দীন তার সঙ্গে ছিলেন।

চেয়ারম্যান কাইয়ুমের এ নবজাতক বরণ কর্মসূচির উদ্দেশ্য হলোÑ সরকারের বেঁধে দেওয়া নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সঠিক বয়সে সব নবজাতকের জন্ম নিবন্ধন সম্পন্ন করে সরকারকে সহায়তা করা। প্রথম দিকে এলাকার অনেকেই এ কর্মসূচিকে তাচ্ছিল্যের চোখে দেখলেও এখন তারাই প্রশংসা করছেন।

জানা গেছে, কোনো শিশুর জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে বিনা ফিতে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে জন্ম নিবন্ধনে সরকারি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু বারশত ইউনিয়নের বাসিন্দাদের মধ্যে শিশুর জন্ম নিবন্ধনে আগ্রহ ছিল না বললেই চলে। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির প্রয়োজনে মা-বাবারা সন্তানের জন্ম নিবন্ধন করিয়ে সনদ নেওয়ার জন্য ছুটে আসতেন পরিষদে। ততদিনে সংশ্লিষ্ট শিশুর বয়স পাঁচ-ছয় বছর হয়ে যায়। তখন নানা কারণে চেয়ারম্যানকে অনুমাননির্ভর তারিখে হলেও নিবন্ধন করে সনদ দিতে হয়। আর যেসব শিশু স্কুল-মাদ্রাসায় ভর্তি হতো না, তারা থেকে যেত জন্ম নিবন্ধনের বাইরে। এমন পরিস্থিতিতে চেয়ারম্যান কাইয়ুম তার ইউনিয়নে ‘নবজাতক বরণ’ কর্মসূচি শুরু করেন। এতে আশাতীতভাবে বেড়েছে শিশু জন্ম নিবন্ধনের হার। আর এজন্য চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে পুরস্কৃতও হয়েছেন কাইয়ুম শাহ।

চেয়ারম্যান কাইয়ুমের উদ্যোগের প্রশংসা করে বারশত ইউনিয়নের গুন্দ্বীপ গ্রামের বাসিন্দা ইমামউদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমার প্রথম কন্যাসন্তানের আগমনের খবর পেয়ে ইউপি চেয়ারম্যান কাইয়ুম শাহ প্রথম দিনেই ফুল ও মিষ্টি হাতে আমার বাড়িতে হাজির হন। আমার সন্তানের জন্ম নিবন্ধনের সনদও দিয়ে গেছেন। আমরা চেয়ারম্যানের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানাই।’

বারশত ইউনিয়নের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘কারও বাচ্চা জন্ম নেওয়ার খবরে চেয়ারম্যানের ফুল আর মিষ্টি নিয়ে যাওয়াকে শুরুর দিকে আমরা অতিউৎসাহ বলে সমালোচনা করতাম। এখন দেখছি সঠিক সময়ে শিশুর জন্ম নিবন্ধনের জন্য তার উদ্যোগটি যথাযথ।’

নবজাতক বরণ কর্মসূচির উদ্যোক্তা চেয়ারম্যান এমএ কাইয়ুম শাহ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কোনো শিশু যাতে ভুল জন্মতারিখ নিয়ে বেড়ে না ওঠে, নিবন্ধনের বাইরে না থাকে এবং একই ব্যক্তির একাধিক সনদ রোধে সরকারকে সহায়তা করার জন্যই আমার এ উদ্যোগ।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত