বরিশালের বাকেরগঞ্জে বিএনপির প্রস্তুতি সভায় কমপক্ষে ১৫ জনকে কুপিয়ে জখম করেছে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা বলে অভিযোগ করেছে স্থানীয় বিএনপি। শনিবার (২৭ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার গারুড়িয়া ইউনিয়নে এই ঘটনা ঘটে। আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়েছে।
বিএনপির কেন্দ্র ঘোষিত বিক্ষোভ সমাবেশ সফল করতে প্রস্তুতি সভার আয়োজন করে ইউনিয়ন বিএনপি। ওই ইউনিয়নের হেলেঞ্ছা গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের বাড়িতে বিকেল পাঁচটায় সভা শুরু করে নেতৃবৃন্দ। খবর পেয়ে উপজেলা সদর থেকে মোটরসাইকেল মহড়া দিয়ে ছাত্রলীগ, যুবলীগ এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ৬টার দিকে ওই বাড়িতে ঢুকে পিটিয়ে-কুপিয়ে জখম করে।
হামলায় কমপক্ষে ১৫ জন আহত হন। এর মধ্যে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোতালেব খান (৬০), নেতা হারুন জোমাদ্দার (৬০), ৫ নম্বর ওর্য়াড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহফুজ গাজী (৪৫), শ্রমিকদল নেতা তোজাম্বর হাওলাদার (৬৫), ১ নম্বর ওর্য়াড সভাপতি শাহ-আলম সিকদার (৬০), ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক টিটু গাজী (৪০), ইউনিয়ন ছাত্রদল সাংগঠনিক সম্পাদক সজীব (২৫), হেমায়ত মৃধা, শাহ আলম মৃধা, ইউপি সদস্য ফারুক হাওলাদার, ইউপি সদস্য ফকরুদ্দীন, কর্মী সজল, সোহাগ গুরুতর আহত হন।
কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য ও বাকেরগঞ্জ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হোসেন বলেন, রবিবার (২৮ আগস্ট) বিএনপির কেন্দ্র ঘোষিত একটি কর্মসূচি সফল করতে ইউনিয়ন বিএনপির নেতাকর্মীরা প্রস্তুতি সভা করছিলেন। সেখানে ছাত্রলীগ-যুবলী ও আওয়ামী লীগের নেতারা দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে মারাত্মকভাবে জখম করেন। আওয়ামী লীগ চাইছে হামলা চালিয়ে বিএনপিকে ভয় দেখিয়ে রাজনীতির মাঠ দখলে রাখবে।
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র লোকমান হোসেন ডাকুয়ার মোবাইলে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলাউদ্দিন মিলন বলেন, বিএনপি বা আওয়ামী লীগ কারো পক্ষ থেকে কোন ধরণের অভিযোগ আসেনি। তবে জেনেছি বিএনপির নৈরাজ্যের প্রতিবাদে গারুড়িয়া ইউনিয়নে ছাত্রলীগ মিছিল করেছে। এর বাইরে কোন তথ্য জানা নেই।
