দাম না কমলে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে জ্বালানি

আপডেট : ২৮ আগস্ট ২০২২, ১২:৫৩ এএম

আগামী ছয় মাসের মধ্যে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম না কমলে তা দেশের জন্য সবচেয়ে বড় সংকটের কারণ হয়ে উঠবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। তিনি বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর বিশ্ববাজারে জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে সংকট তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে।

গতকাল শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) কার্যালয়ে বিদেশি সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিনিধিদের সংগঠন ওভারসিজ করেসপনডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের (ওক্যাব) নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এক আলোচনায় এসব কথা বলেছেন সালমান এফ রহমান। ওক্যাবের আহ্বায়ক কাদির কল্লোল, সদস্য সচিব নজরুল ইসলামসহ বাংলাদেশে কর্মরত বৈশি^ক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

সালমান এফ রহমান বলেন, জ্বালানি তেলের স্পট প্রাইস যেভাবে বেড়েছে, সেটা বেশ উদ্বেগজনক। এ কারণে দেশে বিদ্যুতের সমস্যাও বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনীতিতে আগামী ছয় মাসের জন্য প্রধান চ্যালেঞ্জ হচ্ছে জ্বালানি সংকট। তবে তিনি মনে করেন, জ্বালানি বিষয়ে বাংলাদেশ সংকট কাটাতে পেরেছে। আসছে শীতে লোডশেডিং কমে আসবে।

ওক্যাবের আলোচনায় সালমান জানান, ‘বিশ্বরাজনীতি ও বাণিজ্যে বাংলাদেশ সব সময়ই ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে চলে। সম্প্রতি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে এই ভারসাম্যের ক্ষেত্রে কিছুটা চাপ তৈরি হলেও আমি মনে করি, এটা তেমন একটা প্রভাব ফেলবে না। কারণ, বর্তমানে প্রতিটি দেশই তাদের জাতীয় স্বার্থ অনুসারে বৈদেশিক সম্পর্ক নির্ধারণ করছে। ইউরোপ-আমেরিকাও এ বিষয়ে তাদের ধারণায় পরিবর্তন এনেছে। ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক রাখার সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে সবার সঙ্গে আলোচনা ও যোগাযোগ বাড়ানো। আর বাংলাদেশ এই কাজই করছে। ’

দেশের চলমান অর্থনৈতিক সংকটের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান বলেন, জ্বালানি সংকটই এখন দেশের বড় চ্যালেঞ্জ। আমাদের ৭০ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র গ্যাসনির্ভর। কিন্তু এলএনজি গ্যাসের স্পট মূল্য এত বেড়ে গেছে যে এই দামে গ্যাস কিনে পোষাচ্ছে না। আমরা আশা করছি, দ্রুত এই দাম কমবে। আর যদি না কমে, তা হলে এটি আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ হবে।

জ্বালানি ও গ্যাস সংকট কাটাতে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, লোডশেডিং কমানো নিয়ে সরকার কাজ করছে। আমরা গুরুত্বের ভিত্তিতে রেশনিং করে বিদ্যুৎ সরবরাহ করছি। তবে কোনোভাবেই যেন শিল্প খাতে এর প্রভাব না পড়ে, সেই চেষ্টা আছে। আর আসছে শীতে বিদ্যুতের ব্যবহার কমে যাবে, তখন লোডশেডিংও কমবে।    

তবে কয়লা উত্তোলন বিষয়ে সরকার এখনই কিছু ভাবছে না জানিয়ে তিনি বলেন, আগামীকাল থেকে উত্তোলন করতে গেলেও ৪/৫ বছর সময় লেগে যাবে। বাংলাদেশ রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরোপিত নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে যাবে না জানিয়ে তিনি বলেন, রাশিয়া থেকে তেল আমদানি করা না গেলেও সার ও খাদ্যশস্য আমদানি করা যাবে। ২৪টি ব্যাংকের মাধ্যমে বাংলাদেশ তা আনতে পারবে। এছাড়া লেনদেনের ক্ষেত্রে বিকল্প মুদ্রার বিষয়টিও সরকার ভাবছে না বলে জানান তিনি। বাংলাদেশ জিডিপির তুলনায় প্রত্যাশিত বিনিয়োগ পাচ্ছে না বলেও স্বীকার করেন সালমান এফ রহমান। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত