স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যার পর স্বামীর আত্মহত্যার চেষ্টা

আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০২২, ০৩:৪২ পিএম

শেরপুর জেলার সদর উপজেলায় স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যার পর কীটনাশক পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন শফিকুল ইসলাম (৩৮) নামের এক ব্যক্তি।

উপজেলার ভাতশালা ইউনিয়নের বয়ড়া পরানপুর গ্রামে সোমবার ভোরে এ ঘটনা ঘটে।

সদর থানার পুলিশ নিহত পারভীন বেগমের (৩২) লাশ উদ্ধার করে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।

অভিযুক্ত শফিকুল ইসলামকে পুলিশ হেফাজতে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার বয়ড়া পরানপুর গ্রামের সোহরাব আলীর মেয়ে পারভীন বেগমের সঙ্গে একই ইউনিয়নের হাওড়া আমতলা গ্রামের জনৈক মনু মিয়ার ছেলে শফিকুল ইসলামের ১০ বছর আগে বিয়ে হয়। সুমি (১০) ও পারভেজ (৭) নামে তাদের দুই সন্তান রয়েছে।

এদিকে গত কয়েক মাস ধরে পারভীন বেগম ও শফিকুল ইসলামের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছি। এর জের ধরে পারভীন বেগম দুই মাস আগে স্বামীর বাড়ি হাওড়া আমতলা গ্রাম থেকে বয়ড়া পরানপুর বাবার বাড়ি চলে আসেন।

পরে পৌরসভার নাগপাড়া মহল্লার আল বারাকা প্রাইভেট হাসপাতালে আয়া পদে চাকরি নেন।

রবিবার রাতে শফিকুল ইসলাম শ্বশুর বাড়িতে আসেন এবং রাতের খাবার শেষে স্বামী-স্ত্রী শুয়ে পড়েন। সোমবার ভোরে কোনো এক সময় ঘুমন্ত পারভীন বেগমকে শফিকুল ইসলাম ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করেন। এরপর নিজে কীটনাশক পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।

এদিকে সোমবার সকালে শাশুড়ি জামেলা বেগম তার মেয়ে পারভীন বেগম এবং জামাই শফিকুল ইসলামের কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে ঘরে উঁকি দিয়ে দেখতে পান তার মেয়ে পারভীন বেগম গলাকাটা অবস্থায় ঘরের মেঝেতে পড়ে আছেন এবং শফিকুল ইসলামের মুখ দিয়ে ফেনা বের হচ্ছে। তিনি ডাক-চিৎকার দিলে বাড়ির লোকজন জড়ো হয়।

পরে শেরপুর সদর থানায় খবর দেয়া হলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহাম্মদ হান্নান মিয়া সদর থানার ওসি বছির আহমেদ বাদল, উপপরিদর্শক (এসআই) ফারুক হোসেন সঙ্গীয় ফোর্স ঘটনাস্থল গিয়ে পারভীন বেগমের লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে মর্গে পাঠান এবং শফিকুল ইসলামকে চিকিৎসার জন্য শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

এ ব্যাপারে সদর থানার ওসি বছির আহমেদ বাদল বলেন, এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। তবে হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটনে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত