এশিয়া কাপের লড়াইয়ে কতটা প্রস্তুত বাংলাদেশ?

আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০২২, ০৮:৫২ পিএম

শুরু হয়ে গেছে এশিয়া কাপ। তারপরই অক্টোবরে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। শ্রেষ্ঠত্বের আসর সামনে রেখে হচ্ছে ক্রিকেটের এই সংক্ষিপ্ত সংস্করণ। উপমহাদেশীয়দের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি মঞ্চ বলা চলে। এশিয়া কাপে মঙ্গলবার নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলতে নামবে বাংলাদেশ। দুবাইতে রাত ৮টায় আফগানিস্তানের মুখোমুখি হবে তারা। কিন্তু প্রসঙ্গ যখন বাংলাদেশ ক্রিকেট দল, তখন নানা প্রশ্ন সামনে আসাটা স্বাভাবিক যেন। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন টি-টোয়েন্টির এ আসরে খেলার জন্য কতটা প্রস্তুত টাইগাররা?

 

বারের এশিয়া কাপের আয়োজক শ্রীলংকা। খেলাও সে দেশেই হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দেশটির অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অবস্থা বিবেচনায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে স্থানান্তরিত হয় টুর্নামেন্ট। সংযুক্ত আরব আমিরাতে ও ওমানে গত বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের নেতৃত্বাধীন টি-টোয়েন্টি দল সেবার বিশ্বকাপে যাওয়ার আগে ঘরের মাঠে দুটো সিরিজ জেতে। অস্ট্রেলিয়াকে ৫ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ৪-১ ব্যবধানে এবং নিউজিল্যান্ডকে ৩-২ ব্যবধানে হারায় বাংলাদেশ। কিন্তু আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালিস্ট ছিল বাংলাদেশে সিরিজ হেরে যাওয়া এ দুই দেশই। আর বাংলাদেশ? তারা সুপার রাউন্ডের একটি ম্যাচেও জয় পায়নি। বাছাই পর্বে তারা হেরেছে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষেও।

এর কারণ, ঘরের মাঠে স্পিন সহায়ক উইকেটের সহযোগিতা নিয়েছিল বাংলাদেশ। সিরিজ শেষে সাকিব আল হাসান বলেছিলেন, এ ধরনের উইকেটে খেললে যেকোনো ব্যাটারের ক্যারিয়ার ১০-১৫ ম্যাচ পরেই শেষ হয়ে যাবে। যার ফল সিরিজ দুটো শেষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে মুখ থুবড়ে পড়েছিল টাইগাররা। সেমিফাইনালে খেলার আশা নিয়ে বিশ্বকাপে যাওয়া রিয়াদরা আমিরাত থেকে ফিরেছিলেন শূন্য হাতে।

বছর ঘুরে সেই আরব আমিরাতে বাংলাদেশ খেলতে গেছে। এবার অবশ্য বৈশ্বিক নয়, মহাদেশের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে। বাংলাদেশের পরিসংখ্যান ঘাঁটলে দেখা যাবে গত বিশ্বকাপের পর ১৫ টি-টোয়েন্ট ম্যাচ খেলেছে লাল-সবুজরা। যার মধ্যে মাত্র দুটি ম্যাচে জয়ের দেখা পেয়েছে। একটি ম্যাচ পরিত্যাক্ত হলেও বাকি সবগুলোতে নিতে হয়েছে হারের স্বাদ।

image

বিশ্বকাপের পর ঘরের মাঠে পাকিস্তানের সঙ্গে টি-টোয়েন্টি সিরিজের সব ম্যাচেই হেরেছে বাংলাদেশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজে প্রথম ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেসে গেলেও পরের দুটোতে হার নিয়ে ফিরতে হয়েছে। জিম্বাবুয়ে সিরিজের আগে তাই অধিনায়ক বদল হলো। সোহানের নেতৃত্বে নতুন শুরুর মিশন নিয়ে যায় টাইগাররা। যা ছিল বিসিবির যুগান্তকারী এক উদ্যোগ। কিন্তু সোহানের চোটে শেষ ম্যাচে রিয়াদকে দলের সঙ্গে যুক্ত করেই ক্রিকেট বোর্ড যেন বুঝিয়ে দেয়, তারা এক কদম এগিয়ে আবার দুই কদম পিছিয়ে যাচ্ছে।

জিম্বাবুয়ে মিশন শেষে ক্রিকেট বোর্ড ফের নড়েচড়ে বসে। টি-টোয়েন্টিতে অধিনায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয় সাকিবের হাতে। এবং ফের শোনানো হয়, বিশ্ব সেরা অলরাউন্ডারের নেতৃত্বে নতুন শুরু হবে বাংলাদেশের। যদিও দুবাই যাওয়ার আগের দিন সাকিব নিজেই বলে গেছেন, এই নতুন শুরুই শেষ কিনা তা তিনি জানেন না।

বিকল্প ক্রিকেটারের অভাব

টি-টোয়েন্টি থেকে তামিম ইকবাল অবসর নিয়েছেন। তার না থাকায় যে ঘাটতি পুষিয়ে ওঠা যায়নি, তা হলো যোগ্য ওপেনিং জুটি। লিটন দাস নির্ভরযোগ্য হয়ে উঠেছেন। তবে তার যোগ্য কোনো সঙ্গী এখনও তৈরি করতে পারেনি বিসিবি। এবার চোটের কারণে দলে নেই লিটনও। ভরসা বিজয়, নাঈম ও ইমন।

image

তামিম না থাকলেও রয়ে গেছেন ত্রয়ী সাকিব, মুশফিক ও রিয়াদ। গত বিশ্বকাপ থেকে মুশফিকের ব্যাটিং নিয়ে সমালোচনা হচ্ছিল। রিয়াদের ব্যাটিংও এই মুহূর্তে প্রশ্নবিদ্ধ। কিন্তু তাদের বিকল্পও ভেবে পায় না বিসিবি। তাদের ছাড়া জিম্বাবুয়ে সিরিজ খেলতে গিয়েছিল তরুণরা। কিন্তু বোর্ডের ভরসা অর্জন করতে পারেনি কেউ। সিরিজ হেরে এসেছেন তারা। তবে শেষ ম্যাচে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে দলে নেওয়াটা বিসিবির টি-টোয়েন্টি দর্শনকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে। আবার তাকে রেখেই এশিয়া কাপের দল ঘোষণা করা হয়েছে। আছেন মুশফিকও। একাদশও যে তাদের ছাড়া ভাবা যায় না! কিন্তু আস্থার প্রতিদান কতটা দিতে পারবেন এই দুই সিনিয়র ক্রিকেটার?

এশিয়া কাপে কতটা প্রস্তুত বাংলাদেশ?

দুবাইতে কাল সন্ধ্যা নামলে খেলা শুরু হবে বাংলাদেশের। আফগানিস্তানের মুখোমুখি হবেন তারা। টাইগার ক্রিকেটাররাও আত্মবিশ্বাসী জয়ের ব্যাপারে। ঘুরে দাঁড়ানোর মিশনের কথা দেশ ছাড়ার আগেই বলেছিলেন তারা। কিন্তু উদ্বোধনী ম্যাচে শ্রীলংকার বিপক্ষে আফগানিস্তানের ৯ উইকেটের জয়কে শুধু জয় বলা ভুল হবে। আয়োজক দেশকে স্রেফ উড়িয়ে দিয়েছেন নবী-রশিদরা। টাইগারদের সঙ্গেও পরিসংখ্যানে এগিয়ে আফগানরা। আটবারের দেখায় ৫বারই জয় তাদের। তিনবার মাত্র জয় পেয়েছেন সাকিবরা।

তাই মাঠে নামার আগে টি-টোয়েন্টির সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান টাইগারদের পক্ষে কথা বলে না। এই সংস্করণে সাকিবরা খেলতে নামলে দর্শকরা খেলা দেখেন ঠিকই, তবে কোনো প্রত্যাশা ছাড়াই যেন! বাংলাদেশ তো টি-টোয়েন্টিতে জিতবে না, এমন ধারণাই যেন দর্শকদের মনে গেঁথে গেছে।  শ্রীলংকাকে উড়িয়ে দেওয়ার পরের ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে আফিফদের কাছে জয় প্রত্যাশা করলেও খুব একটা জোর গলায় কেউই বলতে পারছেন না ‘বাংলাদেশ জিতবে’।

image

তবে টাইগার ক্রিকেটারদের গুরু নাজমুল আবেদীন ফাহিম মনে করেন সাকিব আল হাসানের নেতৃত্বে ঘুরে দাঁড়াবে বাংলাদেশ। তাছাড়া টাইগার ক্রিকেটারদের টি-টোয়েন্টি খেলার ধরনে পরিবর্তন দেখা যেতে পারে বলেও জানান তিনি।

দেশ রুপান্তরের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, গতবারের প্রস্তুতি আর এবারেরটায় অনেক পার্থক্য আছে। গতবছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে যাওয়ার আগে আমরা ঘরের মাঠে স্পিন উইকেটে ভালো রেজাল্ট নিয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু এবার আমরা প্রস্তুতিটা নিয়েছি জিম্বাবুয়েতে। সেখানে আমরা হেরেছি ঠিকই, কিন্তু ভালো কন্ডিশনে খেলা হয়েছে। যা এশিয়া কাপে ক্রিকেটারদের অনেক সাহায্য করবে বলে আমি মনে করি।

সাকিবকে পেয়ে পরিবর্তনের হাওয়া লাগছে বলে মনে করেন তিনি, ‘আমার মনে হয়েছে তারা খেলার মধ্যে একটা পরিবর্তন আনতে চায়। সাকিব নেতৃত্বে আসার পর থেকেই সেটা আমরা লক্ষ্য করছি। খেলার ধরনেও পরিবর্তন আনছে তারা। সেটা এশিয়া কাপেই আমরা দেখতে পাব। ব্যাটিং উপভোগ্যকর একটা টুর্নামেন্ট হবে বলে আশা করছি। কিন্তু বাংলাদেশি ব্যাটাররা কতটা পারফর্ম করতে পারবে সেটা সময়ই বলে দেবে।’

নাজমুল আবেদীন বলেন, ‘খেলায় টাইগারদের অ্যাপ্রোচের পরিবর্তনের সঙ্গে ক্রিকেটাররা কতটা মাননসই হতে পারবে সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। সুপার ফোরে যেতে হলে দুটো মাত্র ম্যাচ আছে। তবে আমি আশাবাদী ছেলেরা এবার ভালো করবে। তবে জিততে হলে অবশ্যই দলগতভাবে পারফর্ম করতে হবে।’

দলও সেটাই চায় বলে মনে করেন এই ক্রিকেট বিশ্লেষক। তবে এশিয়া কাপে টাইগারদের তিন ওপেনারের কেউই নিকট অতীতে ভালো করেননি। এরমধ্যে পারভেজ হোসেন ইমন একেবারেই নতুন।

ক্রিকেটারদের ‘ফাহিম স্যার’ মনে করেন, ‘ওপেনিংয়ে তরুণদের সুযোগ রয়েছে। বিজয়-নাঈম-ইমনদের ওপর আমাদের আস্থা রাখতে হবে। যেহেতু চোটের কারণে লিটন এবার খেলছে না। তারা যদি ব্যর্থ হয় সেক্ষেত্রে মিডল অর্ডারের কেউ হয়তো ওপেনিংয়ে আসতে পারে।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘বাংলাদেশ সবসময় স্পিন নির্ভর। সাকিব যেহেতু আছে সেখানে আরও একজন স্পিনার নেওয়া যেতে পারে। সেই সঙ্গে দুবাইয়ের উইকেটে পেসারদের দাপট থাকে। সেখানে একাধিক পেসার নিয়েই খেলতে হবে বলে আমি মনে করি। তবে হাসান মাহমুদের চোট আমাদের জন্য একটা ক্ষতি। যদিও স্কোয়াডে যারা আছে তারাও ভালো করার সামর্থ্য রাখে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত