উত্তরের জেলা দিনাজপুর। সুগন্ধী ধানের রাজ্য হিসেবে এই জেলার সমাদর রয়েছে সমগ্র বাংলাদেশ জুড়ে। জেলাজুড়ে বর্তমানে চলছে আমন ধানের ভরা মৌসুম। তবে ভরা মৌসুমেও বৃষ্টির অভাব, সেচ খরচের ঊর্ধ্বগতির কারণে নাভিঃশ্বাস ফেলতে শুরু করেছে এ জেলার কৃষকরা।
অন্যদিকে কাটা ঘায়ে নুনের ছিঁটা দিচ্ছে রাসায়নিক সারের সংকট। এদিকে কৃষি বিভাগ ও বাফার গুদামের হিসাবে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।
সাধারণ কৃষকরা বলছেন, যদিও সার মিলছে। তবে দিতে হচ্ছে বাড়তি মূল্য। আর বিএডিসির সারের ডিলাররা এ বিষয়ে একবারে মুখ খুলছেন না।
চিরিরবন্দর এলাকার আমবাড়ীর কৃষক শিবুরাম রায় বলেন, এবার আবাদ করে কোনো শান্তি নাই। আকাশে বৃষ্টি নাই। তেলের দাম বেশি। সেচ দিতে খরচও বেশি। এখনতো সার দেয়ার সময়। দোকানে সার কিনতে গেলে সেটারও দাম নাকি বেড়ে গেছে। কেন দাম বেড়ে গেছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'সার নাকি নাই।'
একই এলাকার খলিলুর রহমান বলেন, এবার আমন ধান আবাদের খরচ বেশি। যখন ধান রোপনের সময় তখন আকাশের বৃষ্টির সংকট। এই ধান তো আকাশের বৃষ্টি ছাড়া হয় না। যদিও ধান রোপন করলাম। এখন সার দিব, সারের দাম বেশি। সরকার যে কিভাবে সার দেয়। ডিলারের কাছে এক বস্তা সার ৭০০ টাকা হলেও কিনতে হচ্ছে ১৫০০ টাকায়। এভাবে অনেক সমস্যা আবাদ করা যায় না। আমাদের দাবি সারটা যেন সরকার ঠিক মতো দেয়।
বেকিপুল এলাকার ইব্রাহিম নামে এক কৃষক বলেন, আমরা যখন ধান বাজারে নেই তখন দাম পাই না। এবার এতো খরচ দিয়ে ধান আবাদ করতেছি এবার যদি দাম না পাই তবে তো আমরা কৃষকরা শেষ। এবার সারের দাম বেশি। সারই পাওয়া যায় না। এবার আর শান্তি নাই কৃষিতে।
দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি অর্থ বছরে জেলায় ইউরিয়া এক লাখ ১৮ হাজার ৭৪ মেট্রিক টন, টিএসপি সারের ২৮ হাজার ২২০ মেট্রিক টন, ড্যাপ ৭১ হাজার ৬৪২ মেট্রিক টন এবং এমওপি- ৩৬ হাজার ৬৯৪ মেট্রিক টন বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। তা বরাদ্দ পাওয়া গেছে।
কিন্তু তার বিপরীত তথ্য পাওয়া যাচ্ছে দিনাজপুর বাফার গুদামে। গুদামের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, গত বছর আগষ্ট মাসে এমওপি পাঁচ হাজার ২৮৮ মেট্রিক টন, টিএসপি তিন হাজার ৪২০ মেট্রিক টন, ড্যাপ ছয় হাজার ৪৩২ মেট্রিক টন এই গুদাম থেকে বিতরণ করা হয়। চলতি বছরের আগস্ট মাসে এমওপি ২ হাজার ৬৬৫ মেট্রিক টন, টিএসপি এক হাজার ৯২০ মেট্রিক টন ও ড্যাপ দুই হাজার ২৩৩ মেট্রিক টন বরাদ্দ পাওয়ার পর বিতরণ করা হয়।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নূরুজ্জামান বলেন, 'আমরা সারের যে বরাদ্দ চেয়েছি তা পেয়ে গেছি। এছাড়াও অতিরিক্ত বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। সেটাও পেয়ে যাব। কৃষকরা যাতে হাতের নাগালে সার পায় সে বিষয়ে কৃষি বিভাগ কাজ করছে। বর্তমানে দিনাজপুরে সারের সংকট নেই।'
দিনাজপুর বাফার গুদামের যুগ্ম পরিচালক আ প ম আফরুজ আলম বলেন, 'কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে প্রতি বছর আমাদের কাছে সার আসে। পরে জেলা সার বিতরণ কমিটি সিদ্ধান্ত মোতাবেক জেলার ১৭১ জন বিএডিসি ডিলার ও ১৩৩ জন বিসিআইসি ডিলারের মাঝে সমানভাবে বণ্টন করে দেয়া হয়। এ বছর যা পাওয়া গেছে তা ইতিমধ্যে ডিলারেরা সার নিয়ে গেছে।'
