খেলা শেষ হতে তখনও ২৪ বল বাকি। আফগানদের প্রয়োজন ৪৩ রান। বোলিংয়ে তখন এলেন কাটার মাস্টার মোস্তাফিজ। বলের সঙ্গে রানের ব্যবধান দ্বিগুণ করবেন তিনি, এমনটাই ছিল প্রত্যাশিত। কিন্তু তা পূরণে ব্যর্থ হলেন ফিজ। এক ওভারেই দিলেন ১৭ রান। রানের ব্যবধান দ্বিগুন হওয়ার বদলে উল্টো সমান হয়ে যায়। পরের ওভারে সাইফউদ্দিন দিলেন আরও ২২ রান। ইব্রাহিম জাদরানকে এক প্রান্তে রেখে অন্য প্রান্তে ব্যাটিং তান্ডব চালান নাজিবুল্লাহ জাদরান। শেষ পর্যন্ত ৯ বল হাতে রেখেই ৭ উইকেটের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আফগানিস্তান।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে হারের শঙ্কাটা আগেই ছিল। টাইগারদের ব্যাটিং ধ্বসে সেটা আরও ঘনীভূত হয়েছিল। কিন্তু স্পিনাররা আশা দেখিয়েছিলেন। রানের সঙ্গে বলের ব্যবধানও করেন প্রায় দ্বিগুণ। তবে মোস্তাফিজ ও সাইফউদ্দিনের ওভার দুটিই ঘুরিয়ে দেয় ম্যাচের মোড়। সেখান থেকে আর বেরিয়ে আসার সুযোগই পায়নি বাংলাদেশ। ১৯তম ওভারে তাই স্পিনার মোসাদ্দেক এলেও ছক্কা মেরেই ম্যাচ শেষ করেন আফগান ব্যাটার নাজিবুল্লাহ।
শারজাহতে এশিয়া কাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। টপ অর্ডারদের ব্যর্থতায় শুরুতেই চাপে পড়ে বাংলাদেশ। তবে মিডল অর্ডার ও অলরাউন্ডার মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের ৪৮ রানের ইনিংস সম্মানজন পুঁজি এনে দেয় টাইগারদের।
১২৮ রানের লক্ষ্য নিয়ে খেলতে নাম আফগানরাও শুরু থেকেই ধুকছিল। প্রথম ১০ ওভারে মাত্র ৪৮ রান তুলতে পেরেছিল। যেখানে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৫০। তবে আফগানদের উইকেট সংখ্যা ছিল টাইগারদের চেয়ে দুটো কম। তাই ১৭তম ওভারে মোস্তাফিজের ওভারেও ভয় ডরহীন ক্রিকেট খেললেন আফগান ব্যাটাররা।
ব্যাটিং ইনিংসের শুরুতে ধুঁকতে থাকা আফগানদের ভুগিয়েছেন বাংলাদেশি স্পিনাররাই। সাকিব আল হাসানও টানা দুই ওভার বল করে নেন পাওয়ার প্লেতেই। ধুঁকলেও উইকেট আসছিল না। সাকিব কয়েকবার সুযোগ তৈরি করেছিলেন। রহমানুল্লাহ গুরবাজ তো ব্যক্তিগত ৬ রানেই ফিরে যেতে পারতেন। কিন্তু মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ক্যাচ মিস করাতে বেঁচে যান।
যদিও বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি। নিজের তৃতীয় ওভারেই গুরবাজকে ফেরান সাকিব। নিচু হওয়া বলে ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে এসে খেলতে চেয়েছিলেন আগের ওভারেই জীবন পাওয়া গুরবাজ। তবে বলের নাগাল পাননি। উইকেটের পেছনে ভুল করেননি মুশফিক, গুরবাজ স্টাম্পড হয়ে ফিরেছেন ১৮ বলে ১১ রান করে।
তবে তখনও ক্রিজে রয়ে যান বিস্ফোরক ব্যাটার হজরতউল্লাহ জাজাই। নিজের প্রথম ওভারে তাসকিন দিয়েছিলেন ৬ রান, মোসাদ্দেক ২ রান। এরপর মোস্তাফিজকে ফেরান সাকিব। ফিজের বিপক্ষে সতর্কই ছিলেন জাজাই ও জাদরান, অন্তত প্রথম চার বলে। পঞ্চম বলে কাটারকে পাত্তা দেননি জাজাই, কাভার দিয়ে টেনে মেরেছেন চার। অবশ্য পরের ওভারে মোসাদ্দেকের ওপর চড়াও হতে গিয়ে জাজাইকে ফিরতে হয় ২৬ বলে ২৩ রান করে।
শারজার উইকেটে আড়াআড়ি শট খেলা মানেই যেন খাল কেটে কুমির আনা। হজরতউল্লাহ জাজাইও সেই ফাঁদেই পা দিয়েছিলেন। মোসাদ্দেক হোসেনকে আড়াআড়ি খেলতে গিয়ে মিস করে এলবিডব্লু তিনি। রিভিউ নিয়েছিলেন, তবে উইকেটে হয়েছে আম্পায়ার্স কল।
আফগানদের বিপক্ষে অনেকটা স্পিন সহায়ক উইকেটেই খেলেছে বাংলাদেশ। তাই বোলিং ইনিংসের শুরুটা করেছিলেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। প্রথম ব্রেকথ্রুও দেন তিনিই। ১২তম ওভারে বোলিং শেষ করেন তিনি। টি-টোয়েন্টিতে ফেরার ম্যাচে ৪ ওভারে মাত্র ১৩ রান দিয়ে নেন রহমানউল্লাহ গুরবাজের উইকেট।
এরপর আফগান অধিনায়ক মোহাম্মদ নবীর উইকেট নেন সাইফউদ্দিন। গত বছর শারজায় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল সাইফউদ্দিনের সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ। চোট থেকে সেরে উঠে একই ভেন্যুতে ফিরলেন আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে। প্রথম ওভারেই সফল হলেন এই পেসার। নিচু হওয়া বলে আড়াআড়ি খেলতে গিয়ে মিস করে এলবিডব্লু মোহাম্মদ নবী। রিভিউ না করেই ফিরে গেছেন আফগান অধিনায়ক ৯ বলে ৮ রান করে।
এরপর স্পিনাররা ম্যাচ অনেকটাই কঠিন করে দেন আফগানদের জন্য। সেখানেও লড়াই করছিলেন ইব্রাহিম জাদরান। তুলে নেন ৪১ বলে ৪২ রান। কিন্তু এটাই যথেষ্ঠ ছিল না। ম্যাচ জয়ের জন্য শেষ মুহূর্তের ঝড়টা যেন তুলে রেখেছিলেন নাজিব। মোস্তাফিজ ও সাইফকে পেয়ে সেটাই প্রকাশ করলেন। অতঃপর ৭ উইকেটের জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছেন।
