‘আইএস-বধূ’ তকমা লাগা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত যুক্তরাজ্যের নাগরিক শামীমা বেগম কানাডীয় গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তির মাধ্যমে ইসলামিক স্টেটে যোগ দিতে সিরিয়ায় গিয়েছিলেন। এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি।
বিবিসির হাতে আসা নথি বলছে, শামীমাকে আইএসের হাতে তুলে দেওয়া ব্যক্তির নাম মোহাম্মদ আল রশিদ। তিনি কানাডীয় গোয়েন্দাদের তথ্য সরবরাহ করতেন। রশিদ কানাডার কাছে শামীমার পাসপোর্টের তথ্যও দিয়েছিলেন।
ইসলামিক স্টেটে যোগ দেওয়ার জন্য সিরিয়ায় পালিয়ে যাওয়ার পর যুক্তরাজ্য শামীমা বেগমের নাগরিকত্ব বাতিল করে। তার আইনজীবীরা ব্রিটিশ সরকারের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে দাবি করেছেন, শামীমা পাচারের শিকার হয়েছিলেন। নভেম্বরে আদালতে এ বিষয়ে শুনানি হবে।
পূর্ব লন্ডনের তিন স্কুলছাত্রী শামীমা বেগম, খাদিজা সুলতানা এবং আমিরা আবাসি ২০১৫ সালে আইএসে যোগ দিতে যুক্তরাজ্য থেকে পালিয়ে যান। সেসময় শামীমা বেগমের বয়স ছিল ১৫ বছর। খাদিজার বয়স ছিল ১৬ এবং আমিরার ১৫।
প্রাপ্ত নথি থেকে বিবিসি জানিয়েছে, শামীমাকে সিরিয়ায় পাচারের সঙ্গে আইএসের পাচার নেটওয়ার্কের একটি বড় অংশ যুক্ত ছিল। ইসলামিক স্টেটের রাজধানী হয়ে ওঠা রাক্কা থেকে এটি নিয়ন্ত্রিত হতো। এই নেটওয়ার্কের তুরস্কের অংশে সক্রিয় ছিলেন রশিদ। ইস্তাম্বুলের প্রধান বাস স্টেশনে শামীমাদের সঙ্গে রশিদের দেখা হয়, তিনিই তাদের সিরিয়ার আইএস নিয়ন্ত্রিত এলাকায় যেতে সাহায্য করেন।
রশিদ একদিকে সিরিয়ায় লোকজনকে পাচার করছিলেন, অন্যদিকে কানাডার একটি গোয়েন্দা সংস্থার কাছেও তথ্য পাঠাচ্ছিলেন। আইএস দমনের আন্তর্জাতিক জোটভুক্ত সংস্থার একজন ঊর্ধ্বতন গোয়েন্দা কর্মকর্তা বিবিসির কাছে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
শামীমাকে সিরিয়া পাঠানোর পরই তুরস্কে গ্রেপ্তার হওয়া রশিদ কর্র্তৃপক্ষকে জানিয়েছিলেন, তিনি যাদের সিরিয়ায় পাচার করতে সাহায্য করতেন, তাদের তথ্য আবার জর্ডানে কানাডীয় দূতাবাসের হাতেও তুলে দিতেন।
বর্তমানে উত্তর-পূর্ব সিরিয়ার এক বন্দি শিবিরে আছেন শামীমা বেগম। ইসলামিক স্টেটের তথাকথিত খেলাফত ধসে পড়ার পর যখন শামীমা প্রকাশ্যে আসেন, তখন ব্রিটিশ সরকার ২০১৯ সালে তার নাগরিকত্ব বাতিল করে।
তবে বিবিসির প্রচারিত ‘আই এম নট এ মনস্টার: দি শামিমা বেগম স্টোরি’ নামের পডকাস্টে (অডিওপোস্ট) শামীমা নিজেকে রশিদের মাধ্যমে পাচারের শিকার একজন হিসেবে দাবি করেছেন।
এদিকে কানাডা এবং যুক্তরাজ্য সরকার বিবিসির হাতে আসা তথ্য-উপাত্তকে নিরাপত্তা সংক্রান্ত বলে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। কানাডার গোয়েন্দা সংস্থার একজন মুখপাত্র বলেন, তাদের সংস্থার তৎপরতা সম্পর্কে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করা সম্ভব নয়।
