গণবিক্ষোভের মুখে গত জুলাইয়ে বিদেশে পালিয়ে যাওয়া শ্রীলঙ্কার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপক্ষে দেশে ফিরেছেন।
দেশটির একজন সিনিয়র নিরাপত্তা কর্মকর্তা বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, শনিবার (০৩ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় ভোররাতে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে দেশে ফেরেন।
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, গোতাবায়া যখন বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তখন শ্রীলঙ্কার মন্ত্রী ও রাজনীতিকদের একটি দল তাকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান।
শ্রীলঙ্কার সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, স্বল্পমেয়াদি ভিসায় থাইল্যান্ডে অবস্থান করা গোতাবায়া সিঙ্গাপুর হয়ে শ্রীলঙ্কায় ফেরেন।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গোতাবায়ার জন্য কলম্বোর কেন্দ্রস্থলে একটি বাড়ি ঠিক করে রেখেছে সরকার। তবে বিমানবন্দর থেকে তাকে ওই বাড়িতে নাকি সামরিক কোনো স্থাপনায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনীর একজন কর্মকর্তা বিবিসিকে বলেছেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাকে নিরাপত্তা দেওয়া হবে। এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা এএফপিকে বলেছেন, গোতাবায়া রাজাপক্ষের জন্য সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যদের নিয়ে নতুন একটি নিরাপত্তাব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে।
দ্বীপ রাষ্ট্রটির ইতিহাসে সবচেয়ে খারাপ অর্থনৈতিক সংকটের জন্য গোতাবায়া সরকারকে দায়ী করা হয়। যার জেরে চলতি বছরের শুরু থেকে শ্রীলঙ্কায় বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভের মুখে গত মে মাসে পদত্যাগে বাধ্য হন দেশটির প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপক্ষে। যিনি গোতাবায়ার বড় ভাই। এরপর গত ৯ জুলাই শত শত বিক্ষোভকারী প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবনে ঢুকে পড়েন। এর কিছুক্ষণ আগে সামরিক বাহিনীর সহযোগিতায় সেখান থেকে পালান গোতাবায়া রাজাপক্ষে। এর কয়েক দিনের মাথায় তিনি একটি সামরিক বিমানে প্রথমে মালদ্বীপে এবং তারপরে সিঙ্গাপুরে পালিয়ে যান। যেখান থেকে তিনি তার পদত্যাগপত্র দেশে পাঠিয়ে দেন।
গোতাবায়া ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর শ্রীলঙ্কার নতুন প্রেসিডেন্ট হয়েছেন রনিল বিক্রমাসিংহে। গোতাবায়ার ছোট ভাই এবং সাবেক অর্থমন্ত্রী বাসিল গত মাসে রনিলের সঙ্গে দেখা করেন। সাবেক এ প্রেসিডেন্ট যেন নিরাপদে দেশে ফিরতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বর্তমান প্রেসিডেন্টকে অনুরোধ জানান তিনি।
