নারায়ণগঞ্জে সংঘর্ষ

দুই মামলায় আসামি ৫ হাজার: গ্রেপ্তার আতংকে বিএনপি

আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৬:৩৪ পিএম

নারায়ণগঞ্জে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতে বাধা দেয়াকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় দুটি মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ সেপ্টেম্বর) সংঘর্ষের ঘটনায় নিহত যুবদল কর্মী শাওন প্রধানের বড়ভাই মিলন প্রধান বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় বিএনপির অজ্ঞাত ৪/৫ হাজার নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে।

পুলিশ বাদী হয়ে দায়ের করা আরেকটি মামলায় বিএনপির সাবেক এমপি গিয়াস, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক, সদস্য সচিবসহ আরও ৭১ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ৪/৫ হাজার নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে।

পৃথক দুটি মামলা দায়েরের পর জেলা ও মহানগর বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে গ্রেপ্তার আতংক বিরাজ করছে। অধিকাংশ নেতাকর্মী বাড়িঘর ছেড়ে আত্মগোপনে চলে গেছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১ সেপ্টেম্বর) বিএনপি'র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শোভাযাত্রা বের করতে সকাল দশটায় শহরের ডিআইটি বাণিজ্যিক এলাকায় আলী আহম্মদ চুনকা পৌর মিলনায়তনের সামনে জড়ো হতে থাকে জেলা ও মহানগর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

এর আগে, বিএনপি শোভাযাত্রার জন্য অনুমতি চেয়ে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে লিখিত আবেদন করেন। ওইদিন নেতা-র্মীরা আলী আহম্মদ চুনকা পৌর মিলনায়তনে সামনে বঙ্গবন্ধু সড়কে রাস্তায় জড়ো হতে চাইলে বাধা দেয় পুলিশ এবং রাস্তা থেকে সরে যেতে বলে। আর অনুমতি ছাড়া রাস্তায় কোনো কর্মসূচি পালন করতে পারবে বলে সাফ জানিয়ে দেন পুলিশ।

এ সময়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা শোভাযাত্রা বের করতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয় এবং লাঠিচার্জ করে। এক পর্যায়ে পুলিশ ও বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা অতর্কিত হামলা ও ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে এবং পুলিশ রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে।

দীর্ঘ প্রায় দুই ঘণ্টা পুলিশের সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয় যুবদল কর্মী শাওন প্রধান। সংঘর্ষকালে ১৫ পুলিশসহ বিএনপির প্রায় শতাধিক নেতাকর্মী গুলিবিদ্ধ ও আহত হন। পুলিশ নারায়ণগঞ্জ সদর ও বন্দর থেকে ১০ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করে।

শুক্রবার (২ সেপ্টেম্বর) পুলিশকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা, পুলিশের কাজে বাধা ও ভাংচুর এবং বিস্ফোরক রাখার অভিযোগ এনে ৭১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো চার থেকে পাঁচ হাজার জনকে আসামি করে সদর থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) কামরুজ্জামান বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।

এই মামলায় ১০ জনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। রবিবার (৪ সেপ্টেম্বর) রিমান্ডের শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম রবি বলেন, বিএনপির শোভাযাত্রায় পুলিশ হামলার পর তাকেসহ ৭১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আমাদের ৫ হাজার নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে উল্টো তাদের হয়রানি করছে। মামলার পর প্রতিদিন পুলিশ আমাদের নেতাকর্মীদের বাড়িঘরে অভিযান চালাচ্ছে। গ্রেপ্তারের ভয়ে দলের অধিকাংশ নেতাকর্মী ঘরছাড়া।

তিনি আরও বলেন, পুলিশের ওপর ভর করে এই মিডনাইটের অবৈধ সরকার আর বেশীদিন ক্ষমতায় থাকতে পারবে না। আর এসকল মিথ্যা মামলা ও গ্রেপ্তার করে বিএনপির নেতাকর্মীদের আন্দোলন সংগ্রাম থেকে দূরে সরিয়ে রাখা যাবে না। ইনশাল্লাহ ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মধ্য দিয়েই এই সরকারের পতন ঘটানো হবে।

জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অধ্যাপক মামুন মাহমুদ বলেন, শাওন প্রধান যুবদলের নেতা। তাকে প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। নিরস্ত্র বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশের গুলি করার ভিডিও দেখেছে সারাদেশবাসী। তারপরও আমাদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। বিএনপি নেতা-কর্মীরা এখন ঘরছাড়া। শাওনের প্রকৃত হত্যাকারীদের খুঁজে বের করতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করছি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত