ঠাকুরগাঁওয়ে আ.লীগ-বিএনপি সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধসহ আহত ১০

আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৮:৫২ পিএম

ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়ায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় সাংবাদিকসহ উভয়পক্ষের ১০ জন আহত ও আরো দুইজন রাবার বুলেটে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন। তাদের ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এদের মধ্যে তিন জনের নাম জানা গেছে তারা হলেন, ছাত্রলীগ কর্মী মাহিম, সোহেল ও জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনসারুল ইসলাম।

শনিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সদর উপজেলার রুহিয়া চৌরাস্তায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে রুহিয়া বিএনপি অফিস কার্যালয়ের সামনে তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে। প্রতিবাদ সভা শেষে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে কর্ণফুলী মোড়ে যান বিএনপি নেতাকর্মীরা। এ সময় আ.লীগের পক্ষ থেকে বিএনপির নৈরাজ্যের প্রতিবাদে মিছিল বের করে। দুটি মিছিলের মুখোমুখি হলে সংঘর্ষে রূপ নেয়। রাবার বুলেটে দুই ছাত্রলীগ কর্মী আহত হন এবং জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনসারুল ইসলামসহ আরো ১০ জন আহত হন।

আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, বিএনপির সন্ত্রাসীরা ধারালো অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে মিছিল করেছে তারা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীর ওপর গুলি ছুড়েছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমুর রহমান বলেন, সংঘর্ষে আওয়ামীলীগের উত্তেজিত হয়ে বিএনপির নেতাকর্মীর ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়ে আহত করে এবং রুহিয়া থানা বিএনপি অফিস ভাংচুর করে সভাস্থলের চেয়ার টেবিল ও মঞ্চে অগ্নিসংযোগ করে পুড়িয়ে দেয়। এছাড়াও আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা দুইটি মোটরসাইকেল জ্বালিয়ে দেয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

আওয়ামী লীগ ও বিএনপি মিছিল সমাবেশে কর্মীদের হাতে ছিল লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র। দফায় দফায় চলে তাদের মহড়া। এ সময় পথচারীরা ভীত হয়ে আশপাশে লুকিয়ে যায়। প্রায় তিন ঘণ্টার পাল্টাপাল্টি মহড়ায় সবধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অরুনাংশু দত্ত টিটো বলেন, 'শান্তিপূর্ণ পরিবেশে থানা মহিলা আওয়ামী লীগের কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল। বিকেলে হঠাৎ করেই বিএনপির নেতাকর্মীরা এমপি রমেশ চন্দ্র সেনের বাসায় হামলা চালায়। এসময় তারা একজন সাংবাদিককে মারপিট করে। পরে আমাদের ছেলেরা এগিয়ে আসলে তারা আমাদের ছেলেদের মারপিট করে পালিয়ে যায়।'

এ ব্যাপারে রুহিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) সোহেল রানা বলেন, দুটি দল একই সময় সভা ডেকেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুটি দলকে দুটি সময়ের কথা বলা হয়েছিল। তবে একই সময়ে উপস্থিত হয়ে তারা এই অপ্রীতিকর ঘটনায় জড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত