এলসি খোলা ও নিষ্পত্তির হার কমেছে

আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১১:৫৭ পিএম

ডলারের বাজারের অস্থিরতা কাটাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উদ্যোগ কিছুটা কাজে এসেছে। বিলাসবহুল পণ্যে আমদানি কমাতে নানান উদ্যোগ ও কম প্রয়োজনীয় প্রকল্প কাটছাঁট করায় আমদানির এলসি (লেটার অব ক্রেডিট) খোলা ও নিষ্পত্তির পরিমাণ কমেছে। চলতি বছরের জুলাই মাসের তুলনায় আগস্টে এলসি খোলা কমেছে ১০ শতাংশ। একই সময়ে এলসি নিষ্পত্তি কমেছে প্রায় ১৩ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বিলাসবহুল পণ্যে এলসি খোলায় শতভাগ নগদ অর্থ জমার পাশাপাশি এসব পণ্যের আমদানিতে নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক বাড়িয়ে দেয় সরকার। এছাড়া অপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানিতেও কঠোর অবস্থান নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ডলারের বিপরীতে টাকার বড় ধরনের অবমূল্যায়নের পরিপ্রেক্ষিতে এমন উদ্যোগ নেওয়ার পর ধারাবাহিকভাবে আমদানি ব্যয় কমতে শুরু করে। 

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী চলতি বছরের জুলাই মাস থেকেই এলসি খোলা ও নিষ্পত্তির পরিমাণ কমতে শুরু করে। গত জুন মাসে এলসি খোলার পরিমাণ ছিল ৮৩৭ কোটি ৭৫ লাখ ডলার, যা জুলাইতে ৬২২ কোটি ৩৬ লাখ ডলারে নামে। আগস্টে এলসি খোলার পরিমাণ আরও কমে ৫৬৪ কোটি ৯৫ লাখ ডলারে নেমেছে। এতে করে দুই মাসের ব্যবধানে এলসি খোলার পরিমাণ কমেছে ২৭২ কোটি ৮০ লাখ ডলার।

তবে এলসি খোলার পরিমাণ যে হারে কমেছে, এলসি নিষ্পত্তির পরিমাণ একই হারে কমেনি। গত জুনে এলসি নিষ্পত্তি হয় ৭৭৯ কোটি ৮১ লাখ ডলারের। পরের মাস জুলাইয়ে এর পরিমাণ কমে দাঁড়ায় ৭৪২ কোটি ৫০ লাখ ডলারে। আর আগস্টে এলসি নিষ্পত্তির পরিমাণ আরও কমে ৬৪৭ কোটি ৩৮ লাখ ডলারে নেমেছে। অর্থাৎ দুই মাসের ব্যবধানে এলসি নিষ্পত্তির পরিমাণ কমেছে ১৩২ কোটি ৪৩ লাখ ডলার। 

তবে আমদানি কমলেও ডলারের সংকট কাটছে না। এ অবস্থায় বাজারের সংকট কাটাতে ডলার বিক্রিও বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত দুই মাসে প্রায় আড়াই বিলিয়ন ডলার বিক্রি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এদিকে ব্যাংকে মোটামুটি স্থিতিশীল থাকলে খোলাবাজারে ডলারের দর আবার বেড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক ডলারের দর ৯৫ টাকা নির্ধারণ করলেও সাম্প্রতিককালে আমদানিতে ডলারের দর কোনো কোনো ব্যাংক ১০৪ থেকে ১০৮ টাকা পর্যন্ত রেখেছে। রপ্তানি বিল এখন ১০৪ টাকার আশপাশে। আর প্রবাসীদের থেকে রেমিট্যান্সেও দর কিছুটা কমেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে ব্যাংকগুলোর কাছে ডলার বিক্রি অব্যাহত রেখেছে, যাতে জরুরি সরকারি আমদানি নিষ্পত্তিতে তা ব্যবহার করা যায়। এছাড়া অন্যান্য পণ্যের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ এলসি মার্জিন আরোপ করায় এলসি পেমেন্ট ধীরে ধীরে কমে আসছে। এলসি খোলার পরিমাণও বর্তমানে কমেছে এবং ভবিষ্যতে আরও কমবে বলে আশা করছেন তারা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে এলসি নিষ্পত্তি হয়েছে ৬৮৫  কোটি, ফেব্রুয়ারিতে ৬৫৫ কোটি, মার্চে ৭৬৭ কোটি, এপ্রিলে ৬৯৩ কোটি ও মে মাসে ৭২৫ কোটি ডলার।

কভিড-পরবর্তী দেশের রপ্তানির তুলনায় আমদানি বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানিসহ সব ধরনের পণ্যের অস্বাভাবিক দামের কারণে ২০২১-২২ অর্থবছরে রেকর্ড বাণিজ্য ঘাটতির মধ্যে পড়ে বাংলাদেশ। বিদায়ী ২০২১-২২ অর্থবছরের শেষে বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়ায় রেকর্ড ৩ হাজার ৩২৫ কোটি ডলারে। একই সময়ে চলতি হিসাবের ঘাটতিও ১ হাজার ৮৫০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী ডলারের ঘাটতিতে ভুগছে এমন ব্যাংকগুলো ২০২১-২২ অর্থবছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ৬৬ হাজার ৬৫০ কোটি টাকায় ৭৬২ কোটি ডলার ক্রয় করেছে। গত বছরের আগস্ট থেকেই ডলার সংকটে পড়ে ব্যাংকগুলো।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত