অতীত দুঃখ ঘোচাতে ব্যাট বল হাতে নিচ্ছেন অপিরা

আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৬:০৫ পিএম

মেহরাব হোসেন অপি ছিলেন দেশের হার্টথ্রব ক্রিকেটার। ক্রিকেটিয় দক্ষতায় যতটা মাতিয়েছিলেন, তার চেয়ে বেশি কাঁপুন ধরিয়েছিলেন সে সময়ের তরুণীদের হৃদয়ে। একবার ভাবুন তো, সেই অপি যদি অবসর ভেঙে ফের ব্যাট বল হাতে নেন! হৃদয়ে কাঁপুন ধরার চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ব্যাট হাতে তান্ডব চালাচ্ছেন! একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে লাল সবুজের জার্সি গাঁয়ে সমৃদ্ধ করছেন নিজের ক্যারিয়ার! বাড়াচ্ছেন সেঞ্চুরির সংখ্যা! আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শতক না আফতাবের ব্যাটিং ঝড়! কিংবা গতির ঝড়ে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করছেন শাহাদাত হোসেন। আহ, তবে কতই না সমৃদ্ধ হতো টাইগারদের ক্রিকেট।

নাহ! অপিরা আর অবসর ভেঙে ফিরছেন না। তবে অতীতে দুঃখ ঘোচাতে মাঠে নামছেন আবারও। চার-ছক্কায় মাঠ মাতাতে ব্যাট হাতে নিচ্ছেন শীঘ্রই। প্রিয় তারকাদের ফের ব্যাট-বলের উৎসবে মেতে উঠতে দেখার সুযোগ আসছে আবার।

ভারতে সড়ক দুর্ঘটনারোধে সচেতনতা বাড়াতে গত বছর থেকে শুরু হয়েছে রোড সেফটি ওয়ার্ল্ড সিরিজ লিজেন্ডস ক্রিকেট টুর্নামেন্ট। যেখানে অংশ নিচ্ছেন বিভিন্ন দেশের লিজেন্ডস ক্রিকেটাররা। আট দল নিয়ে এবার এই আসর শুরু হবে ১০ সেপ্টেম্বর। যেখানে গতবারের মতোই থাকছে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব। গতবছর প্রথম আসরের শিরোপা নিজেদের ঘরেই রেখেছিল ভারতের সাবেকরা। মোহাম্মদ রফিকের নেতৃত্বে বাংলাদেশ লিজেন্ডস লিগপর্বের পাঁচ ম্যাচের একটিতেও জিততে পারেনি। এবার অতীত ভোলাতে চায় বাংলাদেশ লিজেন্ডসরা।

আজ ও আগামীকাল দু’ভাগে ভারতের দিল্লিতে যাবেন তারা। গতবার রফিক ছাড়াও খেলেছেন খালেদ মাহমুদ। এ বছর এই দুই তারকাকে দেখা যাবে না দলে। কিছু পরিবর্তন এনে একটা দল ভারতের আয়োজকরাই করে দিয়েছে। দলটির কোচিংয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অভিজ্ঞ কোচ রাহুল শর্মাকে। নিজের দল নিয়ে আশার কথা শুনিয়েছেন ভারতীয় কোচ। আর দলের অন্যতম অলরাউন্ডার মোহাম্মদ শরীফ দিয়েছেন ভাল ফলাফলের প্রতিশ্রুতি।

ভারত থেকে রাহুল শর্মা ফোনে বলেন, ‘রোড সেফটি ওয়ার্ল্ড সিরিজ আয়োজকদের ধন্যবাদ জানাই এমন একটা দায়িত্ব দেয়ায়। আমি সত্যিই বাংলাদেশের সাবেকদের সঙ্গে কাজ করার জন্য মুখিয়ে আছি। মাঠের কাজ শুরুর প্রায় এক বছর আগে থেকেই এই দলটি গঠনের ব্যপারে আমি কাজ করছিলাম। কোচ হিসেবে আমার দায়িত্ব ছিল একটা ব্যালেন্সড স্কোয়াড করা যাতে আমরা প্রতিপক্ষের সঙ্গে লড়াই করতে পারি। আমি খুবই আশাবাদী দল নিয়ে। কারণ এই লিজেন্ডসদের শেখানোর কিছুই নেই কেবল দলের সব কিছু ভালভাবে গোছানো ছাড়া। আমরা খেলাটাকে উপভোগ করবো এবং আশা করছি ভাল একটা ফল পাবোই।’

ভারতের চারটি ভেন্যুতে হবে এই আসর। ১ অক্টোবর হবে ফাইনাল। এই আসর আয়োজনের মহতি দিকটা তুলে ধরে রাহুল শর্মা বলেন, ‘ক্রিকেটের মধ্য দিয়ে আমরা মানুষকে ট্রাফিক আইন যথাযথ অনুসরণ করার জন্য সচেতন করে দিতে চাই। এমন একটা মহতি চিন্তা থেকেই হচ্ছে এই আসর।’

রাহুল শর্মা গতবারের দল থেকে ছেঁটে ফেলেছেন সাত ক্রিকেটারকে। বাদ পড়েছেন মোহাম্মদ রফিক, খালেদ মাহমুদ, জাভেদ ওমর, হান্নান সরকার, নাফিস ইকবাল, রাজিন সালেহ ও মুশফিক বাবু। তাদের জায়গায় এসেছেন আটজন- অলক কাপালী, শাহাদাত হোসেন রাজীব, তুষার ইমরান, ধীমান ঘোষ, ডলার মাহমুদ, আবুল হাসান রাজু, ইলিয়াস সানী ও নাজমুস সাদাত। এর বাইরে গত বছর খেলাদের মধ্যে এবারও আছেন আব্দুর রাজ্জাক, আলমগীর কবির, আফতাব আহমেদ, খালেদ মাসুদ, মোহাম্মদ শরীফ, মেহরাব হোসেন অপি ও মোহাম্মদ নাজিমউদ্দিন। অন্য খেলার একজন বাধ্যতামূলক প্রতিনিধি হিসেবে এবারও আছেন হকি তারকা মামুনুর রশীদ।

গত আসরে ভারত, শ্রীলঙ্কা, দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ডের কাছে হারা বাংলাদেশ দলের হয়ে খেলা অলরাউন্ডার মোহাম্মদ শরীফ বলেন, ‘গত বছর আমি এই টুর্নামেন্ট খেলে এসেছি। সেবার আহামরি কিছু করতে পারিনি আমরা। দুর্ভাগ্যজনকভাবে কোনো ম্যাচেই আমরা জিততে পারিনি। গতবার আসলে আমরা টুর্নামেন্ট সম্পর্কে সেভাবে ভাল ধারণা নিয়ে যাইনি। ভেবেছিলাম সিনিয়র খেলোয়াড়দের একটা গেট টু গেদার হবে সেখানে। একটা ফ্রেন্ডলি আসর জাতীয় কিছু হবে।’

তবে এবার আসরের গুরুত্ব বুঝেই অপেক্ষাকৃত নবীনদের নিয়ে দল গড়া হয়েছে বলে জানান এই সাবেক ক্রিকেটার, ‘এ বছর ভারতের আয়োজকদের পক্ষ থেকে সিনিয়রদের মধ্যেও অপেক্ষাকৃত নবীনদের নিয়ে একটা দল করা হয়েছে। এবারের দলটা ফিটনেসের দিক থেকে আগের থেকে একটু ভাল। এই টুর্নামেন্ট নিয়ে মানুষের আগ্রহও গতবারের তুলনায় এবার বেড়েছে। কারণ এ বছর প্রতিটি দলেই নতুন নতুন খেলোয়াড় যোগ হয়েছে। প্রতিটি দলই নিজেদের শক্তি বাড়ানোর চেষ্টা করেছে। ওই হিসেব থেকেই বলতে পারি আমাদের দলটাও ভাল হয়েছে। আশা করছি গতবারের চেয়ে এবার ভাল ফল নিয়ে ফিরতে পারবো। সবার কাছে দোয়া চাই, কারণ দলটি বাংলাদেশের নামেই খেলতে যাচ্ছে। দেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছি আমরা।’

এ বছর দল সংখ্যা আট। যোগ হয়েছে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড। আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে শরীফ বলেন, ‘রোড সেফটি ওয়ার্ল্ড সিরিজের আয়োজকদের ধন্যবাদ জানাই এত সুন্দর একটা সুযোগ তৈরী করে দেওয়ার জন্য। খেলা ছাড়ার পর আসলে সাবেকদের সেভাবে যোগাযোগ থাকে না। এই টুর্নামেন্টের মধ্য দিয়ে আমরা এক সময় যাদের সঙ্গে এক সঙ্গে খেলতাম, তাদের সঙ্গে আবার দেখা হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। একই সঙ্গে এক সময়ের তারকাদের আবারও খেলতে দেখার সুযোগটা ক্রিকেটপ্রেমীরা পাচ্ছেন।’

এ বছরও আসরের বড় আকর্ষণ শচীন টেন্ডুলকার। এছাড়া ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলকে নেতৃত্বে দেবেন ব্রায়ান লারা। অষ্ট্রেলিয়া খেলবে শেন ওয়াটসনের নেতৃত্বে। নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক রস টেলর। ইংল্যান্ডের হয়ে টস করবেন ইয়ান বেল। শ্রীলঙ্কার নেতৃত্বে থাকছেন তিলকারত্নে দিলশান। দক্ষিণ আফ্রিকার কান্ডারি জন্ডি রোডস। বাংলাদেশের নেতৃত্ব অবশ্য এখনও চূড়ান্ত হয়নি। অলক কাপালী, তুষার ইমরান, শাহাদাত হোসেন রাজীব ও মোহাম্মদ শরীফের যে কোনো একজনের উপর বর্তাবে অধিনায়কত্বের দায়িত্ব।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত