জামালপুরের গান্ধী আশ্রম হতে পারে বিনোদন কেন্দ্র

আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২:১৯ এএম

ব্রিটিশ শাসনামলে ভারত উপমহাদেশের স্বাধীনতার অগ্রদূত মহাত্মা গান্ধীর স্বদেশি মন্ত্রে দীক্ষিত হয়েছিল বাংলার অসংখ্য মানুষ। আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে মানুষের ক্ষুধা, দারিদ্র্য আর পরাধীনতার অভিশাপ থেকে মুক্তি দিতে গান্ধীর অহিংস আন্দোলনের প্রতি অনুপ্রাণিত হয়ে ভারতের মতো বাংলাদেশেও গড়ে ওঠে অনেক গান্ধী আশ্রম। প্রায় ৮০ বছর আগে জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার ঝাউগড়া ইউনিয়নের কাপাশহাটিয়া গ্রামে প্রতিষ্ঠিত গান্ধী আশ্রমটিও তেমনি একটি। আশ্রমটি এখনো কালের সাক্ষী হয়ে সগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে। বর্তমানে আশ্রমটিকে ঘিরে গড়ে উঠতে পারে সম্ভাবনাময় বিনোদন কেন্দ্র।

বাহারি ফুল আর বিভিন্ন গাছপালা ঘেরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক দৃষ্টিনন্দন স্থান এই গান্ধী আশ্রম। এর পাশেই নতুন নির্মিত মুক্তি সংগ্রাম জাদুঘরটি যে কোনো পর্যটকের মনকে আকৃষ্ট করবে।  স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৩৪ সালে এক একর জায়গার ওপর গান্ধী আশ্রমটি প্রতিষ্ঠিত হয়। আশ্রমের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন তৎকালীন ব্রিটিশ আন্দোলনের কিংবদন্তি ও কৃষক নেতা জামালপুরের কৃতী সন্তান নাসির উদ্দিন সরকার। সে সময় আশ্রমের কার্যক্রমের মধ্যে খাদি কাপড় বোনা থেকে শুরু করে শিক্ষা কার্যক্রম, পাঠাগার, স্বাবলম্বন, হস্তশিল্প, কারুশিল্প, শরীরচর্চা, স্বাস্থ্যসেবাসহ স্বদেশের কল্যাণে নানা কর্মসূচি স্থান পেয়েছিল। বাঙালির মুক্তির পথ খুঁজতে প্রকাশ্যে ও গোপনে অসংখ্য সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল গান্ধী আশ্রমের ওই ঐতিহাসিক ঘরটিতে। বিভিন্ন সময়ে অনুষ্ঠিত সভাগুলোতে যোগ দিয়েছিলেন শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী, সাম্যবাদী আন্দোলনের পথিকৃৎ মণি সিংহ, বারানী দত্ত, খোকা রায়, মুক্তিযুদ্ধকালীন ইন্ধিরা গান্ধীর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক শান্তিময় রায়, কথাসাহিত্যিক সত্যেন সেন, ইসমাইল হোসেন সিরাজী, আশু দত্তসহ বহু বিশিষ্টজন।

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ওই অফিস ঘরটি মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয়স্থল এবং অস্ত্র ও রসদ রাখাসহ নানা কাজে ব্যবহৃত হয়েছিল। ২০০৭ সালের ২ অক্টোবর মহাত্মা গান্ধীর জন্মদিন উপলক্ষে জাতিসংঘ আহূত আন্তর্জাতিক অহিংস দিবস উদযাপনের মধ্য দিয়ে পুনরায় শুরু হয় জামালপুরের গান্ধী আশ্রমের নানা কার্যক্রম। আশ্রমের পাশেই মুক্তি সংগ্রাম জাদুঘরের নির্মাণকাজ এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে।

স্থানীয় ঝাউগড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও গান্ধী আশ্রমের প্রতিষ্ঠাতা নাসির উদ্দিন সরকারের দৌহিত্র হিল্লোল সরকার বলেন, ‘জাদুঘরটি চালু হলে এলাকাটি একটি পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হবে। এছাড়া আশ্রমটিকে ঘিরে ব্যাপক কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই গান্ধী ট্রাস্টের উদ্যোগে এলাকার হতদরিদ্র ছেলে-মেয়েদের আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সেলাই ও কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত