আফগানদের হাতে তখনও ১১ বল বাকি। পাকিস্তানের দরকার ২১ রান। ক্রিজে স্বীকৃত ব্যাটার শুধুই আসিফ আলি। ১৯তম ওভারের চতুর্থ বলটা ছুড়লেন পেসার ফরিদ আহমেদ। বিশাল এক ছক্কা হাকালেন আসিফ। তাতে জয়ের আশাটা আরেকটু গাঢ় হয়। কিন্তু পরের বলে টপএজ হয়ে শর্ট ফাইন লেগে করিম জানাতের হাতে সহজ ক্যাচ দিয়ে ফিরতে হয় তাকে।
আসিফ ভালো করেই জানতেন, তিনি আউট হলে আর ভালো ব্যাটার নেই। তাই নিজের ওপরই হয়তো তার রাগ হচ্ছিল। ম্যাচের এমন উত্তেজনাকর মুহূর্তে আউট হয়ে মেজাজটা আর ধরে রাখতে পারলেন না আসিফ। আফগানিস্তানেরও তখন শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থা। এমন মুহূর্তে উইকেট পেয়ে আসিফের সামনে এসে কিছু একটা বলেন ফরিদ। আসিফ মেজাজ হারান, ব্যাট উঁচিয়ে আফগান পেসারকে মারতে যান।
পরে আরেক আফগান ফিল্ডার এসে সরিয়ে নেন আসিফকে। সম্ভাব্য ‘মারামারি’ থেকে বাঁচিয়ে দেন তিনি। আসিফ রাগে গজরাতে গজরাতে মাঠ ছাড়েন। লাইভ খেলায় এই দৃশ্য দেখেছেন কোটি দর্শক। এখন এই ঘটনায় ম্যাচ রেফারি কী শাস্তি দেন, তা দেখার অপেক্ষা।
আইসিসির কোড অব কনডাক্টের লেভেল ১ লঙ্ঘন করেছেন পাকিস্তানি হার্ডহিটার আসিফ আলি। এজন্য জরিমানার পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়তে পারেন এই ব্যাটার। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, খেলা শেষে ম্যাচ রেফারি অ্যান্ডি পাইক্রফট শুনানিতে কোড অব কনডাক্ট লঙ্ঘনের জন্য উভয় খেলোয়াড়কে জরিমানা সম্পর্কে অবহিত করেন। আইসিসি
আজ বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে তাদের সিদ্ধান্ত জানাবে। আফগানিস্তানের জন্য ফরিদ আহমেদের নিষেধাজ্ঞা খুব একটা প্রভাব ফেলবে না। তবে আসিফ আলিকে টুর্নামেন্টের বাকি ম্যাচে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ফাইনালের সমীকরণ পালটে যেতে পারে।
তবে আসিফের সেই রাগের মাত্রাটা নিশ্চয়ই ঠান্ডা করে দিয়েছেন নাসিম শাহ। ফারুকীর করা শেষ ওভারের দুই ফুলটস পেয়ে ছক্কা হাকালে ১ উইকেটের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে পাকিস্তান।
