আগামী বছর অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে মেয়েদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। সেখানে অংশ নিতে হলে বাংলাদেশে উৎরাতে হবে বাছাইপর্ব। ১৮ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরাতে হবে বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব। আয়ারল্যান্ড, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও স্কটল্যান্ডের সঙ্গে গ্রুপ পর্বে খেলবে টাইগ্রেসরা। গ্রুপে শক্তিশালি প্রতিপক্ষ হলেও আইরিশদের হারাতে আত্মবিশ্বাসী লালসবুজদের অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি।
আমিরাত যাওয়ার আগে আজ বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে মুখোমুখি হয়েছিলেন টাইগ্রেস অধিনায়ক। সেখানে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে তাদের সম্ভবনা ও তাদের শক্তিমত্তা নিয়ে কথা বলেন।
তবে আরব আমিরাতের আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াটাই তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন জ্যোতি। তাই কোয়ালিফায়ার শুরুর আগেই তারা সেখানে যাচ্ছেন প্রস্তুতি নিতে, ‘আমরা সম্প্রতি ছেলেদের এশিয়া কাপ দেখেছি। সেখানকার আবহাওয়া প্রচন্ড গরম ও আদ্র্রতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াটা সব দলের জন্যই চ্যালেঞ্জ। আয়ারল্যান্ড একটি শীত প্রধান দেশ। আরব আমিরাত তাদের জন্য ভিন্ন কন্ডিশন। আমাদেরও সেখানে মানিয়ে নেওয়াটা কঠিন হবে। সেজন্যই বোর্ড আমাদেরকে আগেভাগে সেখানে পাঠাচ্ছে। যেন কন্ডিশনের সঙ্গে নিজেদের ভালোভাবে মানিয়ে নিতে পারি।’
বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ভালো করার আশা শুনিয়ে গেলেন বাংলাদেশের সাবেক ক্রিকেটার ও মহিলা দলের প্রধান নির্বাচক মঞ্জুরুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘আমরা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জনের লক্ষ্য নিয়েই যাচ্ছি। অবশ্যই স্বীকার করতে হবে যে আয়ারল্যান্ড খুব শক্তিশালি দল, কিন্তু আপনি যদি পরিসংখ্যান দেখেন তবে আমরা এগিয়ে। তাই তাদের বিরুদ্ধে আমরা এই ক্ষেত্রে নিজেদেরকে ফেভারিট দাবি করতেই পারি। দলগতভাবে আমরা দীর্ঘদিন খেলেছি, আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী ধারাবাহিকতাটা যদি ধরে রাখতে পারি তবে জয়ী আমরা হবই। এক্ষেত্রে ব্যাটার, বোলার সবাই যদি পারফর্ম করে তবে আমরাই ফেভারিট।’
আরব আমিরাতে বাছাইপর্বের আগে ঘরের মাঠে টাইগ্রেসরা কৌশলগত প্রস্তুতি নিয়েছিলেন বলে জানান প্রধান নির্বাচক, ‘এটা ঠিক করোনা মহামারির কারণে আমরা দীর্ঘদিন খেলিনি। তবে, ঘরোয়াভাবে আমরা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটকে মাথায় রেখে অনেক প্রস্তুতি নিয়েছি। সিলেটে সাত দিনের ক্যাম্প করেছি। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে এবার জাতীয় লিগও খেলেছি আমরা।
সুরাইয়া আজমিনের জায়গায় আসা ডানহাতি পেসার মারুফা আক্তার এবার নিগার সুলতানা জোতির নেতৃত্বাধীন দলে একমাত্র নতুন মুখ। যেখানে ফারিহা ইসলাম তৃষ্ণার জায়গায় জাহানারা আলমও দলে ফিরেছেন। সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক ও নির্বাচক উভয়কেই মারুফার অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়।
মঞ্জুরুল বলেন, ‘আমরা আসন্ন টুর্নামেন্টটিকে নতুন মুখদের সুযোগ দেওয়ার জন্য সেরা প্ল্যাটফর্ম হিসেবে মারুফাকে বিবেচনা করা হয়েছে। নাম অনুসারে নয়, তাদের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে। প্রিমিয়ার লিগে তিনি সেরা পারফরমার ছিলেন। এনসিএলে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী। তাছাড়া টি-টোয়েন্টিতে ছয়-সাত নম্বর পজিশনে তিনি একজন কার্যকর ব্যাটার।
অধিনায়ক জ্যোতি বলেন, সুরাইয়া ও তৃষ্ণার জায়গা সবচেয়ে উপযুক্ত পারফরমারকেই বেছে নেওয়া হয়েছে। যারা ঘরের মাঠে এশিয়া কাপে অংশ নিতে পারে। তাছাড়া মারুফার ফিল্ডিং দক্ষতাও অসাধারণ।’
