পুঁজিবাদের কারণেই সাহিত্যের দুর্দশা সৃষ্টি হয়েছে মন্তব্য করে লেখক-প্রাবন্ধিক-ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেছেন, আজকের সাহিত্যের চলমান এই বিপদ প্রযুক্তির কারণে সৃষ্টি হয়নি বরং পুঁজিবাদের আধিপত্যের কারণে সেটি সৃষ্টি হয়েছে। পুঁজিবাদ মুনাফা চায়, মানুষে মানুষে বিচ্ছিন্নতা চায়। ভোগ-বিলাসিতায় মানুষকে উৎসাহিত করে। পুঁজিবাদ হচ্ছে পৃথিবীর বড় শত্রু। পুঁজিবাদের দৌরাত্ম্যের কারণে আজকে পৃথিবী ধ্বংস হয়ে পড়ছে, বসবাসের অনুপযুক্ত হয়ে পড়েছে। বিজ্ঞানের বা প্রযুক্তির বিকাশের কারণে নয়।
তিনি বলেন, বর্তমানে সাহিত্যের একটা দুর্দশা চলছে, এটি অস্বীকার করা যাবে না। লোকে বই পড়তে চায় না। বলা হয়, এ জন্য প্রযুক্তি দায়ী। তবে আমি বলব, প্রযুক্তি এর জন্য দায়ী নয়। অতীতে আমরা দেখেছি, প্রযুক্তি সব সময় সাহিত্যকে সাহায্য করেছে। যখন কাগজ বা ছাপাখানা ছিল না, তখন প্রযুক্তিই কাগজ ও ছাপাখানা এনেছে। এরপরে যখন রেডিও এলো তখন ধারণা করা হলো সাহিত্যের বদলে এবার মানুষ রেডিও শুনবে, সাহিত্য পড়বে না। কিন্তু দেখা গেল রেডিও সাহিত্যকে ব্যবহার করছে। একইভাবে টেলিভিশনও সাহিত্যকে শেষ করতে পারেনি।
শুক্রবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্র মিলনায়তনে বাংলাদেশ প্রগতি লেখক সংঘের চতুর্থ জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে তিনি এসব কথা বলেন।
সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, 'আমরা ইউরোপীয় রেনেসাঁর কথা শুনেছি। বঙ্গীয় রেনেসাঁর কথা শুনেছি। সেই বঙ্গীয় রেনেসাঁ জাগরণ আনতে পারেনি। এখন একটি সাংস্কৃতিক জাগরণ দরকার।'
তিনি আরও বলেন, আজকে জলবায়ু পরিবর্তনের কথা বলা হয়, কর্পোরেট আধিপত্যের কথা বলা হয়। কিন্তু আসল শত্রু পুঁজিবাদ। পুঁজিবাদ সাহিত্য-সংস্কৃতি মনুষ্যত্বের শত্রু। এরমধ্যে ঘুষ, দুর্নীতি সৃষ্টি হয়েছে। ধূর্ত পুঁজিবাদ বিচ্ছিন্ন-বিভক্ত করে মানুষকে। এর বিষাক্ত প্রভাবে পৃথিবী বিপন্ন হয়ে পড়েছে। বর্তমানে আমরা যে দ্বন্দ্ব দেখতে পাই সেটা পুঁজিবাদের সাথে সাহিত্যের দ্বন্দ্ব। আজ মানুষ বই পড়তে চায় না, স্থূল বিনোদনে ডুবে থাকে, মাদকাসক্ত হয়- তার প্রধান কারণ হলো, পুঁজিবাদী দৌরাত্ম্য চরম জায়গায় চলে গেছে। কাজেই পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই হচ্ছে আসল লড়াই।
বাংলাদেশ প্রগতি লেখক সংঘের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া পিনুর সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আজিজুল হক, নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ। স্বাগত বক্তব্য দেন সম্মেলন প্রস্তুতি পরিষদের আহ্বায়ক শামসুজ্জামান হীরা, শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন প্রগতি লেখক সংঘের সাধারণ সম্পাদক দীপংকর গৌতম। সঞ্চালনা করেন সংঘের সহ-সম্পাদক অভিনু কিবরিয়া ইসলাম।
